ব্ল্যাক নোটিসে খোলা এক রহস্যময় খুনের দরজা!
ইন্টারপোলের রেড কর্নার নোটিসের কথা আমরা প্রায় সকলেই জানি। কিন্তু ‘ব্ল্যাক কর্নার নোটিস’ – নামটা যেমন রহস্যময়, তেমনই এর কাজও ভয়াবহ। এটি সেই ধরনের নোটিস, যা কোনও অজ্ঞাতপরিচয় মৃতদেহের পরিচয় উদ্ঘাটনে ইস্যু করা হয়। আর ঠিক সেই কাজেই ইন্টারপোল চালু করেছিল ‘অপারেশন আইডেন্টিফাই মি’—এক নজিরবিহীন আন্তর্জাতিক তদন্ত, যেখানে একের পর এক নারকীয় হত্যাকাণ্ডের কেস ফাইল খুলে খোঁজ নেওয়া শুরু হয়, কে এই মৃতা? কে এই নিখোঁজ মেয়েরা? আর কে বা কারা এই নৃশংসতার নেপথ্যে?
২০১৪ সালে ইন্টারপোলের নেতৃত্বে আসার পর, সেক্রেটারি জেনারেল উরগেন স্টক আবিষ্কার করেন—ইউরোপের বহু দেশে বহু ব্ল্যাক নোটিস ফাইলের ধুলো জমে আছে। অথচ প্রতিটি ফাইলে রয়েছে নারকীয় হত্যার প্রমাণ, খণ্ডিত দেহ, মুখহীন করোটি, পোড়া কঙ্কাল, যার কোনওটির পরিচয় নেই। আধুনিক ফরেনসিক প্রযুক্তির সাহায্যে ডিএনএ, দাঁতের গঠন, মুখাবয়ব, ব্যবহৃত জিনিসপত্র থাকা সত্ত্বেও পরিচয় অনাবিষ্কৃত। সেই অবস্থাতেই ২০২৩ সালের ১০ মে শুরু হয় ‘অপারেশন আইডেন্টিফাই মি’। লক্ষ্য একটাই—প্রত্যেক মৃতার পরিচয় খুঁজে বের করা।
এই অভিযানে ইন্টারপোল বেছে নেয় ২২টি অজ্ঞাতপরিচয় মহিলার দেহ, যাঁদের কেউ কেউ খুন হয়েছেন ৩০–৪০ বছর আগে। ভয়ঙ্করভাবে হত্যা করে, দেহ খণ্ডবিখণ্ড করে বা পুড়িয়ে দেওয়া হয়েছিল। কখনও ড্রেনের পাইপে, কখনও খালের ব্যাগে, আবার কখনও আগুনে পুড়ে যাওয়া হাউসবোটে মিলেছে সেই নারীদের লাশ। তাদের মধ্যে কাউকে দেওয়া হয় নাম ‘দ্য গার্ল অন দ্য পার্কিং লট’, কাউকে ‘দ্য ওম্যান ইন দ্য ক্যানাল’ অথবা ‘দ্য ওম্যান ইন দ্য গাস্প রিভার’। কোথাও পাওয়া গেছে করোটি, হাত-পা বা একজোড়া দুল, কখনও বা একটি ট্যাটু কিংবা ব্রেসলেট—এই সামান্য ক্লু দিয়েই তদন্তকারীরা ধরার চেষ্টা করেছেন ইতিহাসের সবচেয়ে ভয়ঙ্কর সিরিয়াল কিলারদের।
ইন্টারপোলের ওয়েবসাইটে আপলোড করা হয় মৃতাদের ছবি, দেহের বিবরণ ও উদ্ধার হওয়া সামগ্রীর ছবি। তাঁদের প্রিয়জনেরা যদি চেনেন, সেই আশা নিয়ে ছড়িয়ে দেওয়া হয় বার্তা—‘আমরা শুধু পরিচয় চাই’। প্রথম পর্বে সফলতা আসে মাত্র একটি কেসে। ১৯৯২ সালে বেলজিয়ামে নদীতে পাওয়া এক তরুণীকে শনাক্ত করা হয় ব্রিটিশ নাগরিক রিটা রবার্টস হিসেবে।
তবে এখানেই থেমে যায়নি অভিযান। ২০২4 সালে শুরু হয় দ্বিতীয় ধাপ। এ বার ইন্টারপোল ছয়টি ইউরোপীয় দেশের ৪৬টি মৃতদেহের পরিচয় উদ্ধারে নেমেছে। সাফল্য এসেছে এবার শুরুতেই। পরিচয় জানা গেছে প্যারাগুয়ের আইনোহা ইজাগা ইবিয়েতা লিমা নামে এক তরুণীর, যাঁর দেহ স্পেনের এক খামারবাড়িতে পাওয়া যায়।
‘অপারেশন আইডেন্টিফাই মি’ শুধুই এক তদন্ত নয়, এটি এক মানবিক দায়বদ্ধতা—না-জানা মৃতাদের সম্মান ফিরিয়ে দেওয়ার প্রয়াস। যে বিশ্বে অগণিত নারীর গলায় চাপা পড়ে যায় পরিচয়, সেখানে এই আন্তর্জাতিক প্রয়াস যেন এক নীরব চিৎকার—“তোমরা হারিয়ে যাওনি, আমরা খুঁজে নেব তোমাদের।”
পাতিলেবু খেলে মাইগ্রেন কমে? ডাক্তাররা যা বলছেন ভাইরাল টোটকা নিয়ে