বিশ্বকাপ শেষ, বিতর্ক নয়!
বিশ্বকাপের ফাইনাল শেষ হয়েছে পাঁচ দিন আগে। কিন্তু বিতর্কের রেশ এখনও কাটেনি। আমেরিকার ফুটবলার ফোলারিন বালোগানের লাল কার্ডের শাস্তি স্থগিত করার ঘটনায় ফের সরব হল নরওয়ে ফুটবল ফেডারেশন (এনএফএফ)। সংস্থার দাবি, ফুটবলের নিয়মের সঙ্গে আপস করে এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। এমনকি, আমেরিকার প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের প্রভাবেই ফিফা সিদ্ধান্ত বদল করেছে বলেও পরোক্ষে অভিযোগ তুলেছে তারা।
নরওয়ে ফুটবল ফেডারেশনের সভাপতি লিস ক্লাভেনেস জানিয়েছেন, বিষয়টি নিয়ে তাঁরা আনুষ্ঠানিক ভাবে ফিফার কাছে অভিযোগ জানাবেন। তাঁর কথায়, “যা হয়েছে, তা কোনও ভাবেই হওয়া উচিত ছিল না। ফুটবলের নৈতিক ভিত্তিকেই প্রশ্নের মুখে ফেলে দেওয়া হয়েছে।”
বিশ্বকাপ চলাকালীন লাল কার্ড দেখেছিলেন মার্কিন ফরোয়ার্ড ফোলারিন বালোগান। নিয়ম অনুযায়ী তাঁর উপর দু’ম্যাচের নির্বাসন জারি হয়েছিল। কিন্তু পরে সেই শাস্তি এক বছরের জন্য স্থগিত করে দেয় ফিফার শৃঙ্খলারক্ষা কমিটি। সেই সিদ্ধান্তের পর থেকেই বিতর্ক শুরু হয়।
ক্লাভেনেসের অভিযোগ, প্রতিযোগিতা চলাকালীন নিয়ম শিথিল করার মতো সিদ্ধান্ত অত্যন্ত উদ্বেগজনক। তাঁর মতে, “বিশ্ব ফুটবলের নিয়ামক সংস্থাই যদি নিজেদের নিয়ম ভাঙে, তা হলে খেলার বিশ্বাসযোগ্যতা কোথায় থাকবে? নিয়ম সবার জন্য সমান হওয়া উচিত।”
যদিও তিনি সরাসরি ডোনাল্ড ট্রাম্পের নাম উচ্চারণ করেননি, তবুও ইঙ্গিতপূর্ণ মন্তব্য করেছেন। ক্লাভেনেস বলেন, “আমরা সবাই জানি এই সিদ্ধান্তের নেপথ্যে বাইরের প্রভাব ছিল। সঠিক প্রক্রিয়া অনুসরণ করা হয়নি। এমন গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত নেওয়ার আগে স্বচ্ছ আলোচনা হওয়া প্রয়োজন ছিল।”
৪৫ বছর বয়সি ক্লাভেনেস পেশায় আইনজীবী এবং নরওয়ের প্রাক্তন আন্তর্জাতিক ফুটবলার। তাঁর মতে, ফুটবল যদি রাজনৈতিক চাপের কাছে নতি স্বীকার করে, তবে ভবিষ্যতে আরও রাষ্ট্রনেতারা খেলার প্রশাসনে হস্তক্ষেপ করতে উৎসাহিত হবেন। তিনি বলেন, “আমরা যদি রাজনীতির সঙ্গে এ ভাবে সমঝোতা করতে শুরু করি, তা হলে ফিফার স্বাধীনতা নিয়েই প্রশ্ন উঠবে। বিশ্বকাপে যা হয়েছে, তা বিপজ্জনক নজির তৈরি করেছে।”
এনএফএফ প্রধানের অভিযোগ, এখন গোটা বিষয়টি ধামাচাপা দেওয়ার চেষ্টা চলছে। কিন্তু তাঁরা সেই পথ মেনে নেবেন না। তাঁর বক্তব্য, “এই সিদ্ধান্তে শুধু একটি দল নয়, ফুটবলার, কোচ, সমর্থক— সকলেই ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন। এটা ফুটবলের স্বার্থে নেওয়া সিদ্ধান্ত ছিল না।”
বিশ্বকাপে দল সংখ্যা ৪৮ হওয়াকে স্বাগত জানালেও আগামী আসর থেকেই ৬৪ দল নিয়ে প্রতিযোগিতা আয়োজনের প্রস্তাবেরও বিরোধিতা করেছেন ক্লাভেনেস। তাঁর মতে, শুধু দল বাড়ালেই ফুটবলের উন্নতি হয় না। বরং প্রতিযোগিতার মান বজায় রাখাই সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ।
উল্লেখ্য, বিশ্বকাপ চলাকালীন একাধিকবার ডোনাল্ড ট্রাম্প নিজেই দাবি করেছিলেন, বালোগানের লাল কার্ডের বিষয়টি নিয়ে তাঁর দফতর থেকে ফিফা সভাপতি জিয়ান্নি ইনফান্তিনোর সঙ্গে যোগাযোগ করা হয়েছিল। এরপরই মার্কিন ফুটবলারের নির্বাসন স্থগিত হওয়ার ঘটনায় নতুন করে বিতর্কের আগুন জ্বলে ওঠে। পাঁচ দিন পরেও সেই আগুন যে এখনও নিভে যায়নি, নরওয়ের অবস্থানই তার প্রমাণ।
রাহার জন্মের পর দ্রুত ওজন কমিয়ে কটাক্ষের শিকার আলিয়া, কী ছিল তাঁর রহস্য?