বিশ্বকাপ জয়ের পর অভিনব সম্মান!
ফুটবল বিশ্বকাপ জয়ের আনন্দে এখনও ভাসছে স্পেন। ট্রফি, পুরস্কারের অর্থ এবং বিশ্বজোড়া সম্মানের পাশাপাশি এ বার আরও এক ব্যতিক্রমী উপহার পেলেন স্পেনের দুই তারকা ফুটবলার ফ্যাবিয়ান রুইজ় ও গাভি। নিজের শহরে ফিরতেই তাঁদের সম্মান জানানো হল এমন এক রীতিতে, যা দেখে অনেকেই অবাক।
দু’জনেই স্পেনের আন্দালুসিয়া অঞ্চলের ছোট শহর লস পালাসিয়োস ই ভিয়াফ্রাঙ্কা-র বাসিন্দা। মঙ্গলবার বিশ্বচ্যাম্পিয়ন হয়ে শহরে ফিরতেই স্থানীয় প্রশাসন ও বাসিন্দারা তাঁদের উষ্ণ সংবর্ধনা জানান। সেই অনুষ্ঠানের সবচেয়ে আকর্ষণীয় মুহূর্ত ছিল শহরের বহু পুরনো এক ঐতিহ্য পালন। রীতি অনুযায়ী, বিশিষ্ট কৃতী ব্যক্তিদের তাঁদের নিজের ওজনের সমান টম্যাটো উপহার দেওয়া হয়। সেই প্রথা মেনেই গাভি ও রুইজ়ের হাতে প্রতীকী ভাবে টম্যাটোভর্তি ঝুড়ি তুলে দেওয়া হয়। পরে সেই টম্যাটো হাতে ছবি তুলতেও দেখা যায় দুই বিশ্বজয়ী ফুটবলারকে।
শুধু টম্যাটো উপহারেই থেমে থাকেনি সম্মান। শহরের দুই ঐতিহাসিক ফুটবল স্টেডিয়ামের নামও বদলে ফেলা হচ্ছে তাঁদের সম্মানে। মারিসমাস স্টেডিয়াম-এর নতুন নাম হবে ফ্যাবিয়ান রুইজ় স্টেডিয়াম, আর স্যান সেবাস্তিয়ান স্টেডিয়াম পরিচিত হবে পাবলো পায়েজ় গাভিরা (গাভি) স্টেডিয়াম নামে।
এই দুই মাঠের সঙ্গে গাভি ও রুইজ়ের সম্পর্কও গভীর। ফ্যাবিয়ান রুইজ়ের ফুটবলজীবনের শুরু স্থানীয় ক্লাব লস পালাসিয়োস সিএফ-এর হয়ে। অন্য দিকে, মাত্র ছয় বছর বয়সে গাভি যোগ দিয়েছিলেন লা লিয়ারা বালোম্পি-র যুব দলে। এই দুই ক্লাবই নিজেদের হোম ম্যাচ খেলে ওই দুই স্টেডিয়ামে। তাই স্টেডিয়ামের নাম পরিবর্তন স্থানীয়দের কাছে শুধুই সম্মান নয়, বরং আবেগেরও বিষয়।
এতেই শেষ নয়। শহরের হুয়ান হোসে ভাকেরো অ্যাভিনিউ-তে নির্মিত হবে একটি বিশেষ স্মৃতিস্তম্ভ। সেখানে স্থান পাবেন ফ্যাবিয়ান রুইজ়, গাভি এবং ২০১০ সালের বিশ্বকাপজয়ী স্পেন দলের সদস্য তথা এই শহরেরই আর এক গর্ব জেসুস নাভাস। স্থানীয় সিটি কাউন্সিল এই সৌধ নির্মাণের উদ্যোগ নিয়েছে।
প্রসঙ্গত, গত রবিবার বিশ্বকাপের ফাইনালে আর্জেন্টিনাকে ১-০ গোলে হারিয়ে চতুর্থবারের মতো বিশ্বচ্যাম্পিয়নের মুকুট জিতে নেয় স্পেন। ম্যাচের একমাত্র গোলটি করেছিলেন ফেরান তোরেস। সেই ঐতিহাসিক জয়ের পর দেশজুড়ে উদ্যাপনের আবহের মধ্যেই গাভি ও রুইজ়ের নিজ শহরের এই অভিনব সংবর্ধনা নতুন করে নজর কেড়েছে ফুটবলপ্রেমীদের।
রাহার জন্মের পর দ্রুত ওজন কমিয়ে কটাক্ষের শিকার আলিয়া, কী ছিল তাঁর রহস্য?