বিনামূল্যে বিমানযাত্রা! তাইল্যান্ড ভ্রমণে
ভাবুন তো, তাইল্যান্ডে ঘুরতে যাচ্ছেন কিন্তু দেশটির এক শহর থেকে আরেক শহরে বিমানযাত্রা সম্পূর্ণ বিনামূল্যে! শুনে অবাক লাগলেও, এই পরিকল্পনা এখন আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে। দীর্ঘদিন ধরে পর্যটন বৃদ্ধির জন্য নানা পদক্ষেপ নিচ্ছে তাইল্যান্ড সরকার, আর সেই উদ্যোগের অংশ হিসেবেই এবার আসতে পারে এই নতুন সুবিধা।
গত দুই বছর ধরে ভারতীয় পর্যটকেরা ভিসা ফি ছাড়াই তাইল্যান্ড ভ্রমণের সুযোগ পাচ্ছেন। এবার ‘বাই ইন্টারন্যাশনাল, ফ্রি তাইল্যান্ড ডোমেস্টিক ফ্লাইট’ নামের এই প্রচারণা সফল হলে, আন্তর্জাতিক বিমানের টিকিট কেটে তাইল্যান্ডে পৌঁছানোর পর সেখানকার এক শহর থেকে অন্য শহরে যাওয়া যাবে সম্পূর্ণ বিনামূল্যে। জানা গেছে, প্রতিটি পর্যটককে একটি করে রিটার্ন টিকিট দেওয়া হবে, যার মূল্য হবে প্রায় ৩,৫০০ ভাট বা ভারতীয় মুদ্রায় প্রায় সাড়ে ৯ হাজার টাকা। এজন্য তাইল্যান্ড সরকার ছয়টি প্রধান বিমান পরিবহণ সংস্থার সঙ্গে চুক্তি করতে চলেছে।
‘দ্য ন্যাশনাল তাইল্যান্ড’-এর প্রতিবেদন অনুযায়ী, এই প্রস্তাবটি খুব শীঘ্রই তাইল্যান্ডের মন্ত্রিসভায় পেশ করা হবে। যদি অনুমোদন মেলে, তবে বাজেটের কারণে যাঁরা তাইল্যান্ড ভ্রমণের স্বপ্ন পূরণ করতে পারেননি, তাঁদের জন্য এটি হবে এক অসাধারণ সুযোগ।
তাইল্যান্ড বরাবরই পর্যটকদের আকর্ষণ করতে নানা উদ্যোগ নিয়েছে। ব্যাংকক, ফুকেত, পাটায়ার মতো জায়গাগুলো বিশ্বব্যাপী জনপ্রিয়। এবার এই পরিকল্পনার মাধ্যমে তুলনামূলক অজানা পর্যটনকেন্দ্রগুলোকেও আলোচনায় আনতে চায় সরকার। জানা গেছে, এই বিনামূল্যের বিমানযাত্রা সুবিধা প্রাথমিকভাবে সীমিত সময়ের জন্য চালু করা হতে পারে, হয়তো সেপ্টেম্বর থেকেই। তবে সেপ্টেম্বর তাইল্যান্ডে বর্ষাকাল, তাই ভ্রমণ পরিকল্পনা করার আগে আবহাওয়া মাথায় রাখা জরুরি।
তাইল্যান্ডে ভ্রমণের গন্তব্যও কম নয়। রাজধানী ব্যাংকক তার রাতের জীবন, ভাসমান বাজার এবং ঐতিহাসিক গ্র্যান্ড প্যালেসের জন্য বিখ্যাত। ফুকেত এবং ক্র্যাবি আন্দামান সাগরের অপূর্ব সৈকত এবং দ্বীপপুঞ্জের জন্য পর্যটকদের প্রিয়। পূর্বাঞ্চলের পাটায়া জলক্রীড়ার জন্য বিখ্যাত, আর পূর্ব উপকূলের কো সামুই দ্বীপ প্রকৃতিপ্রেমীদের জন্য স্বর্গতুল্য। এছাড়া খাও সক ন্যাশনাল পার্ক, চিয়াং মাই, চিয়াং রাইয়ের মতো শহরে রয়েছে প্রাকৃতিক সৌন্দর্য, ইতিহাস এবং বৌদ্ধ মন্দিরের সমারোহ।