দায়িত্বে গাফিলতির অভিযোগে সাসপেন্ড মার্শাল!
পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভার ইতিহাসে প্রথমবারের মতো দায়িত্বে গাফিলতির অভিযোগে বিধানসভার মার্শাল ও সিকিউরিটি অফিসার দেবব্রত মুখোপাধ্যায়কে সাময়িক বরখাস্ত (সাসপেন্ড) করা হয়েছে। একই সঙ্গে তাঁর বিরুদ্ধে বিভাগীয় তদন্তও শুরু করেছে বিধানসভা সচিবালয়। মঙ্গলবার বিধানসভার সচিব সমরেন্দ্রনাথ দাসের নির্দেশে এই সিদ্ধান্ত কার্যকর হয়।
বিধানসভা সূত্রে জানা গিয়েছে, সম্প্রতি ১৮তম বিধানসভার নবনির্বাচিত বিধায়কদের জন্য আয়োজিত উচ্চপর্যায়ের ওরিয়েন্টেশন কর্মসূচিতে দায়িত্ব পালনের সময় একাধিক গুরুতর ত্রুটির অভিযোগ ওঠে দেবব্রত মুখোপাধ্যায়ের বিরুদ্ধে। লোকসভার স্পিকার ওম বিড়লার উপস্থিতিতে আয়োজিত ওই গুরুত্বপূর্ণ অনুষ্ঠানে বিধায়কদের নিরাপত্তা, সমন্বয় এবং সার্বিক ব্যবস্থাপনার দায়িত্বে থাকলেও তিনি প্রত্যাশিত দক্ষতা ও দায়িত্বশীলতার পরিচয় দিতে পারেননি বলে অভিযোগ।
ঘটনার গুরুত্ব বিবেচনা করে বিধানসভা সচিবালয় পশ্চিমবঙ্গ সরকারের শৃঙ্খলাবিধির ১০ নম্বর ধারা অনুযায়ী বিভাগীয় তদন্তের নির্দেশ দেয়। পাশাপাশি বিধির ৭(১)(এ) ধারা অনুসারে তদন্ত চলাকালীন তাঁকে অবিলম্বে সাসপেন্ড করা হয়েছে। তদন্তের রিপোর্ট জমা পড়ার পর তাঁর বিরুদ্ধে পরবর্তী প্রশাসনিক ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
সরকারি নিয়ম অনুযায়ী, সাসপেনশন চলাকালীন দেবব্রত মুখোপাধ্যায় চাকরির পূর্ণ বেতন পাবেন না। পরিবর্তে সার্ভিস রুল অনুযায়ী নির্ধারিত সাবসিস্টেন্স অ্যালাউন্স (জীবিকা নির্বাহ ভাতা) পাবেন। সংশ্লিষ্ট নির্দেশ ইতিমধ্যেই অর্থ দফতর, অ্যাকাউন্ট্যান্ট জেনারেল-সহ সংশ্লিষ্ট দফতরগুলিতে পাঠানো হয়েছে।
সূত্রের দাবি, এই সিদ্ধান্তের বিষয়ে মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী এবং বিধানসভার স্পিকার রথীন্দ্র বসুকেও আনুষ্ঠানিকভাবে অবহিত করা হয়েছে।
বিধানসভার দীর্ঘ ইতিহাসে এর আগে কোনও মার্শালকে দায়িত্বে গাফিলতির অভিযোগে এভাবে সাসপেন্ড করার নজির নেই। ফলে প্রশাসনিক ও রাজনৈতিক মহলে এই পদক্ষেপকে তাৎপর্যপূর্ণ হিসেবেই দেখা হচ্ছে। এখন নজর বিভাগীয় তদন্তের ফলাফলের দিকে। অভিযোগ প্রমাণিত হলে তাঁর বিরুদ্ধে আরও কঠোর প্রশাসনিক ব্যবস্থা নেওয়া হতে পারে বলে বিধানসভা সূত্রের ইঙ্গিত।
রাহার জন্মের পর দ্রুত ওজন কমিয়ে কটাক্ষের শিকার আলিয়া, কী ছিল তাঁর রহস্য?