এপস্টিন–যোগে গ্রেফতার প্রাক্তন যুবরাজ অ্যান্ড্রু!
ব্রিটেনের রাজপরিবারকে ঘিরে নতুন করে তোলপাড়। প্রাক্তন যুবরাজ প্রিন্স অ্যান্ড্রু-কে সান্ড্রিংহাম প্রাসাদ থেকে গ্রেফতার করেছে টেম্স ভ্যালি পুলিশ। তবে আইনগত কারণে তাঁর নাম সরাসরি প্রকাশ করেনি পুলিশ— বিবৃতিতে তাঁকে শুধু “ষাটোর্ধ্ব এক ব্যক্তি” বলা হয়েছে। তবু সংবাদমাধ্যমের সূত্রে স্পষ্ট, এই গ্রেফতার ঘিরে ফের সামনে এসেছে মার্কিন যৌন অপরাধী জেফ্রি এপস্টিন-এর সঙ্গে তাঁর পুরনো সম্পর্কের বিতর্ক।
📩 ইমেল ফাঁস, সম্পর্কের নতুন ইঙ্গিত
সম্প্রতি আমেরিকার বিচার বিভাগ এপস্টিন-সংক্রান্ত কিছু নথি প্রকাশ করার পর নতুন করে আলোচনায় আসে অ্যান্ড্রুর নাম। ফাঁস হওয়া ইমেল কথোপকথনে দেখা যায়, ২০১০ সালে বাকিংহাম প্যালেসে এক নৈশভোজের পরিকল্পনায় এপস্টিন কয়েক জন বিদেশি মডেল আনার প্রস্তাব দেন। অভিযোগ, অ্যান্ড্রু সেই প্রস্তাবে সম্মতিও জানিয়েছিলেন।
নথিতে আরও ইঙ্গিত— এপস্টিন জেল থেকে মুক্তি পাওয়ার পর তিনিই প্রথমে যোগাযোগ করেছিলেন অ্যান্ড্রুর সঙ্গে। তাঁদের কথাবার্তায় ঘনিষ্ঠতার ছাপ স্পষ্ট।
⚖️ কেন নাম প্রকাশ করেনি পুলিশ?
ব্রিটেনের আইনে, কোনও অভিযুক্তের বিরুদ্ধে আনুষ্ঠানিক চার্জ না গঠন হওয়া পর্যন্ত পুলিশ তাঁর নাম প্রকাশ করতে পারে না। সেই নিয়ম মেনেই গ্রেফতারের বিবৃতিতে অ্যান্ড্রুর পরিচয় গোপন রাখা হয়।
পুলিশ জানিয়েছে, সরকারি পদে থাকার সময় অসদাচরণের সন্দেহে তাঁকে আটক করা হয়েছে। পাশাপাশি নরফক ও বের্কশায়ারের কয়েকটি ঠিকানায় তল্লাশি চালানো হচ্ছে।
😬 রাজপরিবারে অস্বস্তি
অ্যান্ড্রুর বিরুদ্ধে অভিযোগ নতুন নয়। এর আগেও তাঁর বিরুদ্ধে যৌন হেনস্থার অভিযোগ এনেছিলেন ভার্জিনিয়া জিওফ্রে নামে এক মহিলা। ২০২২ সালে সেই মামলায় আদালতের বাইরে আর্থিক সমঝোতায় পৌঁছন অ্যান্ড্রু।
এই ঘটনার পর থেকেই তিনি কার্যত রাজকীয় দায়িত্ব থেকে সরে যান। গ্রেফতারের খবর প্রকাশ্যে আসতেই উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন ব্রিটেনের রাজা চার্লস তৃতীয়। তাঁর বক্তব্য, আইন তার নিজস্ব পথে চলবে এবং তদন্তে সব রকম সহযোগিতা করা হবে।
💰 আর্থিক লেনদেন ও ‘তৃতীয় ব্যক্তি’
নতুন নথিতে আরও দাবি— এপস্টিন শুধু সামাজিক যোগাযোগই রাখেননি, অ্যান্ড্রু ও তাঁর প্রাক্তন স্ত্রী সারা ফার্গুসনের ব্যবসায়িক পরিকল্পনাতেও সহায়তা করেছিলেন। তাঁদের মধ্যে যোগাযোগ অনেক সময় ডেভিড স্টার্ন নামে এক উপদেষ্টার মাধ্যমে চলত।
🌍 দীর্ঘ দিনের পরিচয়
সূত্রের দাবি, ১৯৯৯ সাল থেকেই এপস্টিন ও অ্যান্ড্রুর পরিচয়। নিউ ইয়র্কে তাঁদের একসঙ্গে দেখা যাওয়ার ছবি প্রকাশ্যে আসার পর থেকেই বিতর্ক শুরু হয়। যদিও অ্যান্ড্রু বরাবরই দাবি করে এসেছেন— তিনি এপস্টিনের অপরাধ সম্পর্কে কিছু জানতেন না এবং বহু আগেই সম্পর্ক ছিন্ন করেছিলেন।
প্রোটিন শেক নয়, ‘ঘরোয়া খিচুড়ি’ই ভরসা: শরীরচর্চার পরে হৃতিক রোশন যা খান, জানলে চমক লাগবেই