বিছানায় বিশাল অ্যানাকোন্ডা!
সাদা টি-শার্ট আর বাঘছাপ প্রিন্টের হাফ প্যান্ট পরে তরুণটি আরামে বিছানায় শুয়ে। হাতে ধরা বই, পাশে পোষা কুকুর। কিন্তু যা দেখে নেটিজেনদের চোখ ছানাবড়া, তা হল তার পাশেই শুয়ে থাকা বিশাল সবুজ রঙের একটি অ্যানাকোন্ডা! তরুণটি মনোযোগ দিয়ে বই পড়ে শোনাচ্ছেন সেই অ্যানাকোন্ডাকে। এমনই এক ভিডিয়ো সম্প্রতি ভাইরাল হয়েছে সমাজমাধ্যমে।
ইনস্টাগ্রামের এক অ্যাকাউন্ট থেকে পোস্ট করা ভিডিয়োটি ইতিমধ্যেই বেশ সাড়া ফেলেছে। ভিডিয়োয় দেখা যায়, তরুণটি একটি বই হাতে বিছানায় শুয়ে আছেন। বইটির নাম ‘ইগুয়ানা’। তরুণটি সেই বই থেকে সরীসৃপ প্রাণীদের ছবি ও বৈশিষ্ট্য অ্যানাকোন্ডাকে গল্পের মতো করে পড়ে শোনাচ্ছেন। আশ্চর্যের বিষয়, অ্যানাকোন্ডাটি একদম শান্তভাবে বইয়ের দিকে তাকিয়ে রয়েছে, যেন তরুণটির কথায় মুগ্ধ।
তরুণের পায়ের কাছে বসে রয়েছে তাঁর পোষ্য কুকুর, জানালার দিকে তাকিয়ে রয়েছে সে। তরুণটি একসময় কুকুরের সামনে বইটি ধরেন, তবে কুকুরটি এতে বিশেষ আগ্রহ দেখায়নি। কিন্তু অ্যানাকোন্ডার অভিব্যক্তি যেন অন্যরকম, সে মনোযোগ দিয়ে তাকিয়ে থাকে বইয়ের দিকে।
ভিডিয়োটি দেখে নেটিজেনদের প্রতিক্রিয়া
এই ভিডিয়ো দেখে অনেকেই আতঙ্কিত হয়েছেন। কেউ বলেছেন, “আপনার সাহস সত্যিই প্রশংসনীয়! অ্যানাকোন্ডাকে পোষ মানানো কোনো সহজ কাজ নয়। আপনার কি একটুও ভয় লাগে না?” আবার কেউ মজা করে লিখেছেন, “অ্যানাকোন্ডাটিকে সময়মতো খেতে দেবেন, না হলে কোনও দিন আপনাকেই খেয়ে ফেলবে!”
যদিও এই ভিডিয়োর সত্যতা নিয়ে প্রশ্ন রয়েছে, তবে এটি যে নেটমাধ্যমে ভাইরাল হয়েছে এবং মানুষের কৌতূহল জাগিয়েছে, তা নিয়ে কোনও সন্দেহ নেই।
অ্যানাকোন্ডার প্রতি ভয় আর কৌতূহল
অ্যানাকোন্ডা পৃথিবীর বৃহত্তম সরীসৃপদের মধ্যে অন্যতম। সাধারণত দক্ষিণ আমেরিকার জঙ্গলে দেখা যায় এই প্রজাতিকে। মানুষের সঙ্গে অ্যানাকোন্ডার এমন শান্তিপূর্ণ সহাবস্থান খুবই বিরল। তাই ভিডিয়োটির দৃশ্য আরও বেশি আকর্ষণীয় হয়ে উঠেছে।
এই ভিডিয়ো নিছকই মজার জন্য তৈরি করা, না কি সত্যিই তরুণটি অ্যানাকোন্ডাকে পোষ মানিয়েছেন, তা নিয়ে আলোচনা চলছে। তবে এমন এক অস্বাভাবিক দৃশ্য নেটিজেনদের মন জয় করেছে। অনেকে বলেছেন, “প্রকৃতির সঙ্গে মানুষের সম্পর্ক কতটা গভীর হতে পারে, এই ভিডিয়ো সেটাই দেখায়।”
সাহস, কৌতূহল আর অ্যানাকোন্ডার প্রতি মানুষের জল্পনা—এই ভিডিয়ো যেন জীবনের ভিন্ন দৃষ্টিকোণ তুলে ধরে। সরীসৃপের সঙ্গে মানুষের এমন সম্পর্ক যে আসলেই সম্ভব, তা ভাবতেও শিহরণ জাগে।