গুয়াহাটি থেকে মেঘালয়—তিনবার খুনের টার্গেট ছিলেন রাজা!
রাজা রঘুবংশীর মৃত্যুর ঘটনা যত সামনে আসছে, ততই নতুন চাঞ্চল্যকর তথ্য উঠে আসছে তদন্তে। মেঘালয়ের পূর্ব খাসি হিলস জেলার পুলিশ জানাচ্ছে, একবার নয়, তিনবার ব্যর্থ চেষ্টার পর চতুর্থবারে পরিকল্পনা সফল হয়। হত্যার মূল ষড়যন্ত্রকারী ছিলেন তাঁর স্ত্রী সোনম এবং তার প্রেমিক রাজ কুশওয়াহা।
একাধিক বার খুনের ছক, শেষমেশ সফল ষড়যন্ত্র
পুলিশ সুপার বিবেক সিয়েম জানিয়েছেন, প্রথম খুনের চেষ্টা হয় গুয়াহাটিতে। সেখানে স্বামী-স্ত্রী কামাখ্যা মন্দির দর্শনে যাওয়ার কথা ছিল। কিন্তু তখনই রাজাকে হত্যার ছক ভেস্তে যায়। সেই ব্যর্থতা ঢাকতেই সোনম পরিকল্পনা বদলে শিলং ও সোহরার দিকে বেড়িয়ে যান।
এরপর দ্বিতীয় চেষ্টার স্থান ছিল মেঘালয়ের নোংরিয়াট। সোনম ও রাজা সেখানে পৌঁছনোর পর হত্যার পরিকল্পনা হয়। কিন্তু স্থানীয় এলাকার অবস্থা খুন ও দেহ গোপনের জন্য অনুপযুক্ত হওয়ায় সেই পরিকল্পনাও ভেস্তে যায়।
শেষ চেষ্টা, সফল হত্যা
তৃতীয়বার চেষ্টা করা হয় মাওলাখিয়াত এবং ওয়েইসডংয়ের মাঝের এলাকায়। কিন্তু তখনও সফল হতে পারেনি সোনম-রাজ জুটি। তখনই তাঁরা সিদ্ধান্ত নেন এবার আর ভুল হবে না। ভাড়াটে খুনিকে সঙ্গে আনার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।
রাজের সহায়তায় ভাড়া করা হয় তিন জন খুনি। ২ জুন ওয়েইসডংয়ের জঙ্গলে রাজাকে খুন করে তাঁর দেহ ফেলে দেওয়া হয়। ২৩ মে থেকে নিখোঁজ ছিলেন রাজা ও সোনম। তদন্তের সময় পুলিশের হাতে আসে স্থানীয় গাইড, হোমস্টের সিসিটিভি ফুটেজ এবং গোপন সূত্রের নানা তথ্য।
সোনমের নিখোঁজ হওয়া ও ধরা পড়া
দেহ উদ্ধারের পরও সোনমের কোনও হদিস পাওয়া যাচ্ছিল না। তদন্তে প্রথমে ধরা পড়ে তিন ভাড়াটে খুনি। পরে রাজ কুশওয়াহাকে গ্রেফতার করা হয়। শেষমেশ ৯ জুন উত্তরপ্রদেশে গা-ঢাকা দেওয়া সোনমকে ধরতে সক্ষম হয় পুলিশ।
পুলিশের পর্যবেক্ষণ
তদন্তকারীদের মতে, সোনম এই খুনের ছক অনেক আগে থেকেই কষছিলেন। তাঁর কথাতেই রাজ এই হত্যার পরিকল্পনায় জড়িয়ে পড়েন। মূল উদ্দেশ্য ছিল স্বামীকে সরিয়ে দিয়ে প্রেমিকের সঙ্গে নতুন জীবন শুরু করা।
এই নৃশংস ঘটনায় গোটা দেশ স্তম্ভিত। সামাজিক মাধ্যমে বহু মানুষ সোনম-রাজের কঠোর শাস্তির দাবি তুলেছেন।
পাকা আমের স্বাদে অন্য রূপ! রুটির সঙ্গে জমবে এই ঝটপট আমের তরকারি