১৮ বছর পর বিশ্বকাপ ফাইনালে মেসি বনাম ইয়ামাল!
ফুটবল মাঝে মাঝেই এমন কিছু গল্প উপহার দেয়, যা কল্পনাকেও হার মানায়। রবিবার বিশ্বকাপের ফাইনালে মুখোমুখি হতে চলেছে আর্জেন্টিনা ও স্পেন। এক দিকে লিয়োনেল মেসি, অন্য দিকে স্পেনের তরুণ তারকা লামিন ইয়ামাল। এই মহারণের আগে আবারও আলোচনায় উঠে এসেছে ১৮ বছর আগের একটি ছবি, যেখানে শিশুকালীন ইয়ামালকে বাথটাবে বসিয়ে স্নান করাতে দেখা গিয়েছিল তরুণ মেসিকে।
আজ যাঁরা মাঠে একে অপরের সবচেয়ে বড় প্রতিদ্বন্দ্বী, তাঁদের প্রথম সাক্ষাৎ হয়েছিল সম্পূর্ণ ভিন্ন এক পরিস্থিতিতে। তখন মেসি আন্তর্জাতিক ফুটবলে নিজের পরিচিতি তৈরি করছেন, আর ইয়ামাল মাত্র কয়েক মাসের শিশু। ভবিষ্যতে এই দুই ফুটবলারের বিশ্বকাপ ফাইনালে মুখোমুখি হওয়ার কথা তখন কেউ কল্পনাও করেননি।
২০০৮ সালে বার্সেলোনার একটি দাতব্য কর্মসূচির অংশ হিসেবে সেই ফটোশুটের আয়োজন করা হয়েছিল। ক্লাবের ফুটবলারদের নিয়ে একটি ক্যালেন্ডারের জন্য ছবি তোলা হচ্ছিল। সেই সময়ই শিশু ইয়ামালকে কোলে তুলে নিয়ে বাথটাবে স্নান করানোর দৃশ্যে অংশ নেন মেসি। বহু বছর পর ছবিটি সামাজিক মাধ্যমে ভাইরাল হয়ে যায় এবং দুই প্রজন্মের এই অনন্য সংযোগ ফুটবলপ্রেমীদের আবেগ ছুঁয়ে যায়।
সেই ফটোশুটের আলোকচিত্রী জোয়ান মনফোর্ট পরে স্মৃতিচারণ করতে গিয়ে জানান, মেসি তখন খুবই লাজুক ছিলেন। হঠাৎ তাঁকে একটি ঘরে নিয়ে যাওয়া হয়, যেখানে জলে ভরা বাথটাবে বসেছিল ছোট্ট ইয়ামাল। প্রথমে শিশুটিকে কীভাবে কোলে নেবেন বা সামলাবেন, তা বুঝতেই কিছুটা অস্বস্তিতে পড়েছিলেন তরুণ মেসি। কিন্তু শেষ পর্যন্ত ছবিগুলোই হয়ে ওঠে ফুটবল ইতিহাসের অন্যতম স্মরণীয় মুহূর্ত।
সময় বদলেছে, বদলেছে দুই তারকার পরিচয়ও। ইয়ামাল এখন স্পেনের সবচেয়ে বড় ভরসাগুলির একজন। অল্প বয়সেই অসাধারণ ড্রিবলিং, গতি এবং সৃজনশীল ফুটবলের জন্য তিনি বিশ্বজুড়ে প্রশংসা কুড়িয়েছেন। এই বিশ্বকাপেও তাঁর পারফরম্যান্স স্পেনকে ফাইনালে পৌঁছে দিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা নিয়েছে।
অন্যদিকে ৩৯ বছর বয়সেও মেসি নিজের জাদু ধরে রেখেছেন। গোল করা, সতীর্থদের দিয়ে গোল করানো এবং বড় ম্যাচে নেতৃত্ব— সব ক্ষেত্রেই তিনি এখনও দলের প্রধান শক্তি। টুর্নামেন্টজুড়ে ধারাবাহিক পারফরম্যান্স তাঁকে আবারও সেরা ফুটবলারের আলোচনায় এনে দিয়েছে।
বিশ্বকাপের ফাইনালে তাই শুধু দুই দেশের লড়াই নয়, এটি দুই প্রজন্মের দুই অসাধারণ প্রতিভারও মুখোমুখি সংঘর্ষ। এক সময় যে শিশুকে স্নান করিয়েছিলেন মেসি, আজ সেই ইয়ামালই তাঁর বিশ্বকাপ জয়ের পথে সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছেন।
ফুটবলের ইতিহাসে এমন ঘটনা খুব কমই দেখা যায়। একটি পুরনো ছবি থেকে শুরু হওয়া গল্প এখন পৌঁছে গেছে বিশ্বকাপ ফাইনালের মঞ্চে। রবিবারের ম্যাচে কে হাসবে শেষ হাসি, সেটাই এখন জানার অপেক্ষা।
রাহার জন্মের পর দ্রুত ওজন কমিয়ে কটাক্ষের শিকার আলিয়া, কী ছিল তাঁর রহস্য?