বাংলাদেশে বসেই বাংলার পুরনো জঙ্গি নেটওয়ার্ক সক্রিয় করার চেষ্টা? ইক্রামুলকে ঘিরে নতুন করে তদন্তে এনআইএ

বাংলাদেশে বসেই বাংলার পুরনো জঙ্গি নেটওয়ার্ক সক্রিয় করার চেষ্টা? পশ্চিমবঙ্গে আল কায়েদার তৈরি ‘স্লিপার সেল’ এখনও কতটা সক্রিয়, তা খতিয়ে দেখতে শুরু করল জাতীয় তদন্তকারী সংস্থা বা এনআইএ। ২০২২ সালে…

September 5, 2026
1 min read

বাংলাদেশে বসেই বাংলার পুরনো জঙ্গি নেটওয়ার্ক সক্রিয় করার চেষ্টা?

পশ্চিমবঙ্গে আল কায়েদার তৈরি ‘স্লিপার সেল’ এখনও কতটা সক্রিয়, তা খতিয়ে দেখতে শুরু করল জাতীয় তদন্তকারী সংস্থা বা এনআইএ। ২০২২ সালে রাজ্য পুলিশের স্পেশ্যাল টাস্ক ফোর্সের দায়ের করা মামলার সূত্র ধরে নতুন করে দু’টি এফআইআর করেছে কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থা। সেই মামলায় অন্যতম প্রধান নাম আল কায়েদা ইন দ্য ইন্ডিয়ান সাবকন্টিনেন্ট (আকিস)-এর নেতা আবু তালহা ওরফে ইক্রামুল হক।

এনআইএ-র এফআইআরে অভিযোগ, আনসারউল্লা বাংলা টিমকে সামনে রেখে আকিস ভারতে সংগঠন বিস্তারের চেষ্টা চালাচ্ছে। নতুন সদস্য নিয়োগের ক্ষেত্রেও যুবকদের লক্ষ্য করা হচ্ছে বলে তদন্তকারীদের দাবি। প্রথম মামলায় ইক্রামুল-সহ পাঁচ জনের নাম রয়েছে। দ্বিতীয় মামলায় অভিযুক্ত ১৯ জনের মধ্যে অন্তত তিন জন বাংলাদেশের নাগরিক বলে জানা গিয়েছে।

গোয়েন্দা সূত্রের দাবি, ২০১৮ থেকে ২০২২ সালের মধ্যে বাংলাদেশি নাগরিক ইক্রামুল বাংলা-সহ ভারতের বিভিন্ন এলাকায় আল কায়েদার সংগঠন বিস্তারের কাজ করতেন। উপমহাদেশে সংগঠনের ‘দাওয়া’ বা প্রচারের দায়িত্বেও তিনি ছিলেন বলে তদন্তকারীদের দাবি।

তদন্তে আরও উঠে এসেছে, পশ্চিমবঙ্গে নিজের পরিচয় গোপন করে ঘাঁটি তৈরির অভিযোগও রয়েছে ইক্রামুলের বিরুদ্ধে। দিনহাটার এক বৃদ্ধ দম্পতিকে বাবা-মা পরিচয় দিয়ে ভারতীয় নথি তৈরির মাধ্যমে রাজ্যে নিজের অবস্থান পাকাপোক্ত করেছিলেন বলে গোয়েন্দাদের দাবি।

২০২২ সালে ইক্রামুল স্ত্রীকে নিয়ে চোরাপথে বাংলাদেশে চলে যাওয়ার পর তাঁর তৈরি নেটওয়ার্কের খোঁজ পেতে শুরু করে রাজ্য পুলিশের এসটিএফ। পুরুলিয়ার আমিরুদ্দিন আনসারি ওরফে হুজুরকে ডোমজুড়ের বাঁকড়ার একটি মাদ্রাসা থেকে গ্রেফতার করা হয়। পরে মধ্যপ্রদেশের ভোপালে আল কায়েদার একটি মডিউল ধরা পড়ে। সেই তদন্তের সূত্রেই আমিরুদ্দিনের নাম সামনে আসে বলে গোয়েন্দাদের দাবি।

তদন্তকারীদের মতে, ওই মাদ্রাসার শিক্ষক ভোপালে ধৃত আল কায়েদা-যোগ থাকা কয়েক জনের থাকার ব্যবস্থা করেছিলেন। তাঁর সূত্র ধরে দক্ষিণ ২৪ পরগনার ডায়মন্ডহারবারে সক্রিয় একটি কথিত স্লিপার সেলেরও সন্ধান মেলে। গ্রেফতার হন সিদ্দিকী আলি ও মৈনুদ্দিন তরফদার। পরে মুম্বই থেকে ধরা পড়েন জাবারুদ্দিন আলি ওরফে মিলন পাঠান। তদন্তে তাঁদের সঙ্গে ইক্রামুলের যোগাযোগের অভিযোগ উঠে আসে।

এখানেই শেষ নয়। রাজ্য পুলিশের এসটিএফ শাসন থেকে আব্দুল রাকিব সরকার ওরফে হাবিবুল্লা এবং আরামবাগের কাজি আহসান উল্লাহ ওরফে হাসানকে গ্রেফতার করেছিল। গোয়েন্দাদের দাবি, হাসান বাইপাসের কাছে পঞ্চান্নগ্রামে একটি ঘাঁটি তৈরি করেছিলেন। এই তদন্তেও কথিত নেটওয়ার্কের ‘মূল মাথা’ হিসাবে ইক্রামুলের নাম উঠে আসে।

এ বার এনআইএ ইক্রামুলের পাশাপাশি আমিরুদ্দিন, সিদ্দিকী এবং জাবারুদ্দিনের বিরুদ্ধেও নতুন মামলা করেছে। রাকিব সরকারদের বিরুদ্ধেও পৃথক মামলা দায়ের হয়েছে। তাঁদের হেফাজতে নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করে নেটওয়ার্কের বিস্তার এবং বর্তমান পরিস্থিতি সম্পর্কে তথ্য পেতে চাইছেন তদন্তকারীরা।

মূল প্রশ্ন, ইক্রামুল বাংলাদেশে বসে এখনও পশ্চিমবঙ্গের পুরনো যোগাযোগগুলিকে কাজে লাগাতে পারছেন কি না। গোয়েন্দাদের আশঙ্কা, তাঁর হাতে তৈরি কোনও সেল এখনও সক্রিয় থাকলে সেটিকে ব্যবহার করে ফের সংগঠন বিস্তারের চেষ্টা হতে পারে। তাই পুরনো নেটওয়ার্কের শিকড় খুঁজে বের করাই এখন এনআইএ-র অন্যতম লক্ষ্য।

এ দিকে রাষ্ট্রপুঞ্জের নিরাপত্তা পরিষদের সাম্প্রতিক রিপোর্টেও ভারত ও বাংলাদেশে আকিসের কার্যকলাপ নিয়ে সতর্কতা প্রকাশ করা হয়েছে। বাংলাদেশকে ব্যবহার করে নতুন সেল তৈরির সম্ভাবনা নিয়েও উদ্বেগের কথা উল্লেখ রয়েছে ওই রিপোর্টে।

গোয়েন্দাদের দাবি, ইক্রামুল ২০২৩ সালে গ্রেফতার হলেও ২০২৪ সালের অক্টোবর থেকে জামিনে রয়েছেন। ফলে তাঁর গতিবিধি এবং পুরনো যোগাযোগগুলি নতুন করে খতিয়ে দেখা হচ্ছে। তদন্তকারীদের আশঙ্কা সত্যি কি না, পশ্চিমবঙ্গে পুরনো নেটওয়ার্কের কতটা এখনও সক্রিয়— এনআইএ-র তদন্তেই তার উত্তর মিলবে।

রাহার জন্মের পর দ্রুত ওজন কমিয়ে কটাক্ষের শিকার আলিয়া, কী ছিল তাঁর রহস্য?।

Follow us on Google News Get real-time updates & exclusive sports coverage
Follow

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *