বাঁকুড়ায় তৃণমূলের বুথ আহ্বায়ককে গুলি করে খুন, শাসক দলের বিরুদ্ধে বিজেপির অভিযোগ

বাঁকুড়ায় তৃণমূলের বুথ আহ্বায়ককে গুলি করে খুন! বাঁকুড়ার সোনামুখী থানার চকাই গ্রামে এক মর্মান্তিক ঘটনা ঘটেছে। সোমবার রাত সাড়ে ৯টার দিকে তৃণমূলের স্থানীয় বুথ আহ্বায়ক সায়ন খাঁকে গুলি করে হত্যা…

August 12, 2025
1 min read

বাঁকুড়ায় তৃণমূলের বুথ আহ্বায়ককে গুলি করে খুন!

বাঁকুড়ার সোনামুখী থানার চকাই গ্রামে এক মর্মান্তিক ঘটনা ঘটেছে। সোমবার রাত সাড়ে ৯টার দিকে তৃণমূলের স্থানীয় বুথ আহ্বায়ক সায়ন খাঁকে গুলি করে হত্যা করা হয়েছে। স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, পখন্না বাজার থেকে বাইকে করে একাই নিজের বাড়ি চকাই গ্রামে ফেরার সময় হঠাৎই তাকে লক্ষ্য করে দুষ্কৃতীরা ছুরিকাঘাতের মতো পরপর গুলি চালায়। বাইক থেকে ছিটকে পড়ে সায়ন ঘটনাস্থলেই প্রাণ হারান। সায়নের পিঠ এবং মাথায় গুলি লাগে বলে পুলিশ জানিয়েছে।

ঘটনার পর থেকে এলাকায় ব্যাপক চাঞ্চল্য তৈরি হয়েছে। পুলিশ দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে মৃতদেহ উদ্ধার করে সোনামুখী গ্রামীণ হাসপাতালে পাঠায়। রাতেই হাসপাতালে উপস্থিত হন তৃণমূলের বিষ্ণুপুর সাংগঠনিক জেলার সভাপতি সুব্রত দত্ত, সোনামুখীর পুরপ্রধান সন্তোষ মুখোপাধ্যায়, উপ পুরপ্রধান সোমনাথ মুখোপাধ্যায় এবং অন্যান্য দলের নেতারা। তাঁরা ঘটনাটিকে ঘিরে গভীর শোক প্রকাশ করেছেন।

স্থানীয়দের দাবি, সায়ন খাঁ একজন প্রভাবশালী নেতা ছিলেন এবং দীর্ঘদিন ধরে তাকে লক্ষ্য করা হচ্ছিল। এই হামলাটি পরিকল্পিত হত্যাকাণ্ড বলেই ধারণা এলাকাবাসীর। পুলিশ ইতোমধ্যে এলাকাটি ঘিরে তদন্ত শুরু করেছে, কিন্তু এখনো পর্যন্ত কাউকে গ্রেফতার করা যায়নি।

এই হত্যাকাণ্ডকে কেন্দ্র করে রাজনৈতিক উত্তেজনা তীব্র হয়েছে। তৃণমূলের জেলা সভাপতি সুব্রত দত্ত অভিযোগ করেছেন, “২০২৬-এর বিধানসভা নির্বাচনে সোনামুখী বিধানসভায় বিজেপি তাদের হার নিশ্চিত বুঝতে পেরে সিপিএমের সহযোগিতায় এই পরিকল্পিত হত্যাকাণ্ড করেছে। সায়ন ছিলেন দলের একজন দক্ষ সংগঠক, তাকে নস্যাৎ করাই ছিল মূল লক্ষ্য।”

অন্যদিকে, বিজেপির বিধায়ক দিবাকর ঘরামি এই অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, “বিজেপির সঙ্গে এই হত্যার কোনও যোগ নেই। এটি তৃণমূলের গোষ্ঠীদ্বন্দ্বের ফলাফল, দলভিত্তিক অংশীদারিত্ব নিয়ে সংঘর্ষের কারণে এমন ঘটনা ঘটেছে।”

বাঁকুড়ার সোনামুখী ব্লকের চকাই গ্রামে গত একবছর ধরে তৃণমূলের বিভিন্ন গোষ্ঠীর মধ্যে অন্তর্বর্তী গণ্ডগোল ও সংঘর্ষ চলছিল। চলতি বছরের মার্চ মাসেও গ্রামে তৃণমূলের দুই গোষ্ঠীর মধ্যে গুলিবিনিময় হয়, যেখানে একজন তৃণমূল নেতা আহত হন। সেই ঘটনা থেকে ছয় মাসও বাঁচতে না পেরে এবার গুলির আঘাতে মৃত্যু হল এই দলের স্থানীয় বুথ আহ্বায়কের।

এছাড়া স্থানীয়রা বলছেন, এলাকার রাজনৈতিক প্রতিদ্বন্দ্বিতা এবং ক্ষমতা বিস্তারের লড়াইয়ে এ ধরনের সহিংসতা দিনের পর দিন বেড়ে চলেছে। সাধারণ মানুষ নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছে, তাদের জীবন-মৃত্যুর গ্যারান্টি নেই এমন পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে।

পুলিশ এখন পর্যন্ত হত্যাকাণ্ডের পেছনে মূল কারণ ও সংঘর্ষের পটভূমি খুঁজে বের করার চেষ্টা চালাচ্ছে। পাশাপাশি দুষ্কৃতীদের ধরতে বিভিন্ন এলাকায় তদন্ত জোরদার করেছে। তবে রাজনৈতিক প্রভাব ও চাপের কারণে মামলার গতি এখনও ধীর।

এই হত্যাকাণ্ড ঘটার পর রাজনৈতিক মহলে চরম উত্তেজনা ছড়িয়েছে। স্থানীয় মানুষ চায় দ্রুত তদন্ত শেষ করে দুষ্কৃতীদের শাস্তি দৃষ্টান্তমূলকভাবে হওয়া উচিত, যেন ভবিষ্যতে এই ধরনের নৃশংস ঘটনা আর না ঘটে। পাশাপাশি শান্তি বজায় রাখতে প্রশাসনের বিশেষ নজরদারির প্রয়োজনীয়তাও জোরালো ভাবে তুলে ধরা হচ্ছে।

সায়ন খাঁর মৃত্যু কেবল এক পরিবারের নয়, গোটা এলাকার জন্য একটি বড় ধাক্কা। তৃণমূলের স্থানীয় নেতৃত্ব বলছে, এই হত্যাকাণ্ড বন্ধ না হলে আগামী নির্বাচনের পরিবেশও যথেষ্ট ভয়াবহ হবে বলে আশঙ্কা করছেন তাঁরা।

কয়েক সপ্তাহ ধরে নতুন অভ্যাস শুরু করেছেন সোহা আলি খান, শরীর ভালো রাখতে খালি পেটে কী খান তিনি?

Follow us on Google News Get real-time updates & exclusive sports coverage
Follow

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *