ফ্যাটি লিভার কি আবার স্বাভাবিক হতে পারে?
লিভারে অতিরিক্ত চর্বি জমাকে সাধারণ ভাবে ফ্যাটি লিভার বলা হয়। মদ্যপানের পাশাপাশি অতিরিক্ত প্রক্রিয়াজাত খাবার, চিনি, শারীরিক পরিশ্রমের অভাব, স্থূলতা এবং বিপাকীয় সমস্যার সঙ্গেও এই সমস্যার যোগ রয়েছে। জীবনযাত্রায় অনিয়মের কারণে তরুণদের মধ্যেও ফ্যাটি লিভারের প্রবণতা বাড়ছে।
তবে ফ্যাটি লিভার ধরা পড়লেই যে লিভারের স্থায়ী ক্ষতি হয়ে গিয়েছে, তা নয়। রোগটি কোন পর্যায়ে রয়েছে, লিভারে কতটা চর্বি জমেছে এবং প্রদাহ বা ক্ষত তৈরি হয়েছে কি না—তার উপর সুস্থ হওয়ার সম্ভাবনা অনেকটাই নির্ভর করে। প্রাথমিক পর্যায়ে ধরা পড়লে ওজন ও বিপাকীয় স্বাস্থ্য নিয়ন্ত্রণে এনে লিভারে জমা চর্বি উল্লেখযোগ্য ভাবে কমানো সম্ভব।
বিশেষজ্ঞদের মতে, ওজন বেশি থাকলে শরীরের মোট ওজনের প্রায় ৫ শতাংশ কমানোও লিভারের চর্বি কমাতে সাহায্য করতে পারে। তবে দ্রুত ওজন কমানোর চেষ্টা না করে সুষম খাবার এবং নিয়মিত শরীরচর্চার মাধ্যমে ধীরে ধীরে ওজন কমানোই বেশি কার্যকর।
কী কী বদল জরুরি?
চিনিযুক্ত পানীয় কমান: কোমল পানীয়, অতিরিক্ত চিনি দেওয়া পানীয় এবং অন্যান্য মিষ্টি পানীয় নিয়মিত খাওয়ার অভ্যাস লিভারের জন্য ক্ষতিকর হতে পারে।
প্রক্রিয়াজাত খাবার এড়ান: প্যাকেটজাত খাবার, অতিরিক্ত তেল-নুনযুক্ত খাবার এবং পরিশোধিত শর্করা কমিয়ে তাজা ও পুষ্টিকর খাবারে জোর দেওয়া দরকার।
শরীরচর্চা বাড়ান: নিয়মিত হাঁটা, ব্যায়াম বা অন্য কোনও শারীরিক কার্যকলাপ ওজন এবং বিপাকীয় স্বাস্থ্য নিয়ন্ত্রণে সাহায্য করে। শুধু ওজন কমানো নয়, নিয়মিত শরীরচর্চা নিজেও লিভারের চর্বি কমাতে উপকারী।
পাতে রাখুন পুষ্টিকর খাবার: শাকসবজি, মাছ, ডিম, পরিমিত স্বাস্থ্যকর প্রোটিন এবং বিভিন্ন ধরনের ফল সুষম খাদ্যের অংশ হতে পারে। খাবারের পরিমাণ ও ব্যক্তির শারীরিক প্রয়োজন অনুযায়ী খাদ্যতালিকা তৈরি করা ভাল।
ডায়াবিটিস ও কোলেস্টেরল নিয়ন্ত্রণে রাখুন: রক্তে শর্করা, কোলেস্টেরল এবং রক্তচাপের সমস্যা থাকলে সেগুলি নিয়ন্ত্রণ করা জরুরি। প্রয়োজন হলে চিকিৎসকের পরামর্শ অনুযায়ী ওষুধও নিতে হবে।
সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হল, ফ্যাটি লিভারের মাত্রা বোঝার জন্য চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া। সব রোগীর ক্ষেত্রে একই নিয়ম প্রযোজ্য নয়। লিভারে শুধু চর্বি জমেছে, নাকি তার সঙ্গে প্রদাহ বা ক্ষতও তৈরি হয়েছে—তা পরীক্ষা করে দেখা প্রয়োজন।
প্রাথমিক পর্যায়ে ব্যবস্থা নিলে অনেক ক্ষেত্রেই লিভারের চর্বি কমিয়ে অবস্থার উন্নতি করা যায়। কিন্তু দীর্ঘ দিন ধরে প্রদাহ বা লিভারের ক্ষত তৈরি হয়ে গেলে বিষয়টি জটিল হতে পারে। তাই উপসর্গের অপেক্ষা না করে ঝুঁকি থাকলে নিয়মিত স্বাস্থ্য পরীক্ষা এবং চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়াই নিরাপদ।
রাহার জন্মের পর দ্রুত ওজন কমিয়ে কটাক্ষের শিকার আলিয়া, কী ছিল তাঁর রহস্য?।