কানপুরের ব্যবসায়ী হত্যায় পুত্রকে ঘিরে নতুন তথ্য!
কানপুরের ব্যবসায়ী বিনীত মিনোচা খুনের ঘটনায় তদন্ত যত এগোচ্ছে, ততই সামনে আসছে নতুন তথ্য। পুলিশের দাবি, সম্পত্তি হাতছাড়া হওয়ার আশঙ্কা থেকেই বাবাকে খুনের পরিকল্পনা করেছিলেন তাঁর ছেলে সুব্রত। গত ২৩ সেপ্টেম্বর তাঁকে গ্রেফতার করা হয়।
প্রথমে এই মামলায় সুব্রতের স্ত্রী শালুকেই মূল ষড়যন্ত্রী বলে মনে করেছিলেন তদন্তকারীরা। ব্যবসায়ীর প্রাক্তন পরিচারক বিশাল এবং তাঁর এক সঙ্গীকেও গ্রেফতার করা হয়েছিল। কিন্তু ধৃতদের জেরা এবং তাঁদের ডিজিটাল তথ্য খতিয়ে দেখার পর তদন্তের গতিপথ বদলে যায় বলে পুলিশ জানিয়েছে।
তদন্তকারীদের দাবি, শালু, বিশাল এবং তাঁর সঙ্গীর মুখোমুখি বসিয়ে সুব্রতকে জেরা করা হয়। তখনই তিনি বাবাকে খুনের কথা স্বীকার করেন বলে পুলিশের দাবি। যদিও তাঁর বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগের বিষয়ে আদালতে প্রমাণের বিষয়টি এখনও বাকি।
পুলিশের দাবি, জেরায় সুব্রত জানান, তাঁর বাবা বিনীতের একাধিক মহিলার সঙ্গে সম্পর্ক ছিল। এমনকি তাঁর নিজেরও এক প্রেমিকা ছিল। সুব্রতের আশঙ্কা ছিল, বাবা তাঁকে সম্পত্তি থেকে বঞ্চিত করে সেই মহিলার নামে সম্পত্তির একটা অংশ লিখে দিতে পারেন। এমনকি পরিবার ছেড়ে ওই মহিলার সঙ্গে নতুন করে সংসারও পাততে পারেন বিনীত— এমন সন্দেহও ছিল তাঁর।
এই আশঙ্কা থেকেই বাবাকে সরিয়ে দেওয়ার পরিকল্পনা করা হয় বলে তদন্তকারীরা জানিয়েছেন। প্রথমে বিনীতকে গাড়িচাপা দিয়ে খুন করে ঘটনাটিকে দুর্ঘটনা হিসেবে দেখানোর ছক করা হয়েছিল। পরে সেই পরিকল্পনা বদলে যায়।
তদন্তে সুব্রতের আর্থিক সমস্যার কথাও সামনে এসেছে। পুলিশ জানিয়েছে, প্রতি মাসে বাবার কাছ থেকে হাতখরচ হিসাবে প্রায় ৪০ হাজার টাকা পেতেন তিনি। কিন্তু তাঁর প্রায় ৪০ লক্ষ টাকা দেনা হয়ে গিয়েছিল। প্রতি মাসে ঋণের কিস্তি বাবদ প্রায় ৫৫ হাজার টাকা দিতে হত। সেই টাকা জোগাড় করতে নতুন করে ধার নেওয়া এবং ক্রেডিট কার্ড ব্যবহার করতেন বলে তদন্তকারীদের দাবি।
পুলিশের আরও দাবি, আর্থিক চাপের মধ্যে কখনও নিজেদের দোকান থেকেও টাকা সরিয়েছিলেন সুব্রত। পাশাপাশি বাবার জীবনযাপন নিয়েও তাঁর ক্ষোভ ছিল বলে তদন্তে উঠে এসেছে।
তদন্তকারীদের বক্তব্য অনুযায়ী, খুনের পর সন্দেহের তির যাতে তাঁর দিকে না যায়, সে জন্য স্ত্রী শালুর উপর দায় চাপানোর পরিকল্পনাও করা হয়েছিল। গত ৫ সেপ্টেম্বর বিনীতকে খুন করা হয় বলে পুলিশ জানিয়েছে। ঘটনায় ইতিমধ্যেই সুব্রতের স্ত্রী, ব্যবসায়ীর প্রাক্তন পরিচারক এবং তাঁর এক সঙ্গীকে গ্রেফতার করা হয়েছে।
তদন্তকারীদের দাবি অনুযায়ী, সম্পত্তি হারানোর আশঙ্কা, ব্যক্তিগত সন্দেহ এবং আর্থিক চাপ— এই তিনটি বিষয়ই হত্যাকাণ্ডের পিছনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে থাকতে পারে। তবে পুলিশের এই দাবিগুলির সত্যতা শেষ পর্যন্ত আদালতে প্রমাণিত হওয়াই চূড়ান্ত বিষয়।
রাহার জন্মের পর দ্রুত ওজন কমিয়ে কটাক্ষের শিকার আলিয়া, কী ছিল তাঁর রহস্য?।