প্রস্তর যুগের ধারণায় ধাক্কা: আফ্রিকায় মিলল ৫ লক্ষ বছরের অক্ষত নকশি-কাঠ

আফ্রিকায় মিলল ৫ লক্ষ বছরের অক্ষত নকশি-কাঠ! প্রাচীন মানুষের ইতিহাস বলতে এত দিন মূলত পাথরের অস্ত্র, হাড় বা দাঁতের নমুনার কথাই উঠে এসেছে। কারণ এগুলো সময়ের সঙ্গে সহজে নষ্ট হয়…

February 24, 2026
1 min read

আফ্রিকায় মিলল ৫ লক্ষ বছরের অক্ষত নকশি-কাঠ!

প্রাচীন মানুষের ইতিহাস বলতে এত দিন মূলত পাথরের অস্ত্র, হাড় বা দাঁতের নমুনার কথাই উঠে এসেছে। কারণ এগুলো সময়ের সঙ্গে সহজে নষ্ট হয় না। কিন্তু কাঠ? তা তো সাধারণত মাটির সঙ্গে মিশে যায় খুব দ্রুত। তাই বিজ্ঞানীরা কখনও ভাবেননি যে লক্ষ লক্ষ বছর আগের কোনও কাঠের নিদর্শন প্রায় অক্ষত অবস্থায় পাওয়া সম্ভব।

তবু সেই অসম্ভবই ঘটল আফ্রিকায়। প্রায় পাঁচ লক্ষ বছরের পুরনো একটি কাঠের কাঠামো আবিষ্কার করেছেন গবেষকেরা— যা তৈরি হয়েছিল আধুনিক মানুষের জন্মের বহু আগে। এই আবিষ্কার শুধু বিস্ময়করই নয়, প্রাচীন মানবসভ্যতা নিয়ে আমাদের দীর্ঘদিনের ধারণাকেও নতুন করে ভাবতে বাধ্য করছে।

এই কাঠের নিদর্শনটি মিলেছে মধ্য আফ্রিকার Kalambo Falls এলাকার কাছে, Zambia-র একটি পাহাড়ি অঞ্চলে। জায়গাটি বহু আগে থেকেই প্রত্নতাত্ত্বিকদের নজরে ছিল। ১৯৬০-এর দশকেও সেখানে কিছু কাঠ উদ্ধার হয়েছিল, তবে তখন সেগুলির বয়স নির্ধারণ করা সম্ভব হয়নি। ফলে বিষয়টি দীর্ঘদিন অমীমাংসিতই থেকে যায়।

সম্প্রতি আবার খনন শুরু হলে ব্রিটেনের University of Liverpool এবং অন্যান্য প্রতিষ্ঠানের গবেষকেরা অত্যাধুনিক প্রযুক্তির সাহায্যে কাঠের বয়স নির্ণয় করেন। তাঁদের হিসাব অনুযায়ী, এই কাঠের বয়স প্রায় ৪ লক্ষ ৭৬ হাজার বছর— অর্থাৎ আধুনিক মানুষ পৃথিবীতে আসারও অন্তত দু’লক্ষ বছর আগে এগুলো তৈরি হয়েছিল।

সবচেয়ে অবাক করা বিষয় হলো, কাঠগুলি শুধু টিকে থাকেনি— বরং তাতে স্পষ্টভাবে মানুষের তৈরি কাটাছেঁড়া ও নকশার চিহ্ন রয়েছে। গবেষকেরা একটি শঙ্কু আকৃতির বস্তু, একটি লাঠি এবং কাটা গাছের গুঁড়ি শনাক্ত করেছেন। এমনকি গুঁড়িটিতে বিশেষ খাঁজও রয়েছে, যা দেখে মনে করা হচ্ছে— কোনও যন্ত্র ব্যবহার করেই সেটিকে কেটে তৈরি করা হয়েছিল।

বিজ্ঞানীদের ধারণা, এই কাঠগুলি দীর্ঘদিন জলাবদ্ধ অবস্থায় থাকার কারণে পচেনি। বিশেষ পরিবেশে অক্সিজেনের অভাব থাকায় কাঠের ক্ষয় প্রায় বন্ধ হয়ে যায়— আর সেই কারণেই এগুলো এত বছর ধরে সংরক্ষিত থেকেছে।

এই আবিষ্কার অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ, কারণ এত দিন মনে করা হত— প্রাচীন মানুষেরা কাঠ ব্যবহার করলেও তা ছিল খুব সীমিত কাজে, যেমন আগুন জ্বালানো, মাটি খোঁড়া বা বর্শা বানানো। কিন্তু নতুন গবেষণা বলছে, তাঁদের দক্ষতা ও সৃজনশীলতা হয়তো অনেক বেশি উন্নত ছিল।

গবেষকেরা মনে করছেন, আধুনিক মানুষের পূর্বসূরি এক প্রজাতি— সম্ভবত হোমো হাইডেলবার্গেনসিস— কাঠ কেটে জোড়া লাগিয়ে কাঠামো তৈরির কৌশল জানত। এর মানে, তারা শুধু ব্যবহারিক কাজই করত না, বরং পরিকল্পনা, কল্পনাশক্তি এবং কারিগরি দক্ষতারও পরিচয় দিত।

এই আবিষ্কারের পর অনেক বিজ্ঞানীই বলছেন, “প্রস্তর যুগ” নামটিই হয়তো নতুন করে ভাবার সময় এসেছে। কারণ, পাথর ছাড়াও অন্য উপাদান— বিশেষ করে কাঠ— যে প্রাচীন মানবসভ্যতায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা নিয়েছিল, তার জোরালো প্রমাণ এখন হাতে।

সব মিলিয়ে, আফ্রিকার এই নকশি-কাঠ যেন ইতিহাসের জানালায় নতুন আলো ফেলেছে— দেখিয়ে দিয়েছে, আমাদের পূর্বসূরিরা হয়তো আমরা যতটা ভাবতাম, তার থেকেও অনেক বেশি দক্ষ ও উদ্ভাবনী ছিলেন।

প্রোটিন শেক নয়, ‘ঘরোয়া খিচুড়ি’ই ভরসা: শরীরচর্চার পরে হৃতিক রোশন যা খান, জানলে চমক লাগবেই

Follow us on Google News Get real-time updates & exclusive sports coverage
Follow

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *