প্রশাসনিক কর্তাদের জন্য ভার্চুয়াল কক্ষ !
প্রশাসনিক কাজে গতি আনতে এবং আদালতে সশরীরে উপস্থিতির প্রয়োজন কমাতে রাজ্যের প্রতিটি জেলায় ভার্চুয়াল কক্ষ চালু করল নবান্ন। এই নতুন ব্যবস্থার ফলে জেলাশাসক, পুলিশ সুপারসহ অন্যান্য প্রশাসনিক আধিকারিকরা ভিডিও কনফারেন্সের মাধ্যমে বিভিন্ন সরকারি বৈঠকে অংশ নিতে পারবেন।
শুধু প্রশাসনিক কাজই নয়, আদালতের তলবে সশরীরে হাজিরা দেওয়ার পরিবর্তে ভার্চুয়াল মাধ্যমে উপস্থিত থাকার সুযোগ পাবেন কর্তারা। রাজ্য সরকারের মতে, এই উদ্যোগ সময় ও সম্পদের সঠিক ব্যবহার নিশ্চিত করবে।
৩৯২টি ভার্চুয়াল কক্ষ তৈরি – কী সুবিধা মিলবে?
নবান্নের নির্দেশে রাজ্যের বিভিন্ন দফতর, স্বাস্থ্য, শিক্ষা ও পুরসভা মিলিয়ে মোট ৩৯২টি ভার্চুয়াল কক্ষ তৈরি করা হয়েছে। এখান থেকে প্রশাসনিক কর্তারা সরাসরি মুখ্যমন্ত্রী, মুখ্যসচিব এবং অন্যান্য দফতরের সঙ্গে ভিডিও কনফারেন্সের মাধ্যমে বৈঠক করতে পারবেন।
নবান্নের এক উচ্চপদস্থ আধিকারিক জানিয়েছেন,
“আগেও ভার্চুয়াল বৈঠক হতো, কিন্তু এখন তা আরও নিয়মতান্ত্রিকভাবে করা হবে। এই কক্ষগুলো স্থায়ী পরিকাঠামো হিসেবে গড়ে তোলা হয়েছে, যাতে বারবার প্রযুক্তিগত সমস্যা না হয়।”
এই ব্যবস্থার মাধ্যমে—
✅ আধিকারিকদের যাতায়াতের সময় কমবে
✅ প্রশাসনিক কাজ আরও দ্রুত ও কার্যকর হবে
✅ আদালতের তলবে উপস্থিতি সহজ হবে
✅ জেলবন্দিদের বিষয়ে জেলা কমিটির বৈঠক সmooth হবে
কেন এই নতুন পদক্ষেপ?
গত বছর কলকাতা হাই কোর্ট নির্দেশ দেয় যে জেলার জেলবন্দিদের বিষয় দেখভালের জন্য ‘জেলা কমিটি’ গঠন করতে হবে। এই কমিটিতে জেলাশাসক ও পুলিশ সুপারের মতো উচ্চপদস্থ আধিকারিকদের উপস্থিত থাকার কথা বলা হয়।
কিন্তু বাস্তবে দেখা যায়, অনেক সময় এই বৈঠকে উচ্চপদস্থ আধিকারিকরা উপস্থিত থাকেন না এবং অধস্তন কর্মীদের পাঠিয়ে দেন। এর ফলে, আদালতের মতে, বৈঠকগুলোর কার্যকারিতা কমে যাচ্ছিল, কারণ অধস্তন আধিকারিকরা নীতিগত সিদ্ধান্ত নিতে পারেন না।
এই সমস্যার সমাধান করতেই হাই কোর্ট নির্দেশ দেয় যে, প্রশাসনিক কর্তাদের অন্তত ভার্চুয়াল মাধ্যমে বৈঠকে যোগ দিতেই হবে। এই নির্দেশের পরিপ্রেক্ষিতেই নবান্ন ভার্চুয়াল কক্ষ তৈরির সিদ্ধান্ত নেয়।
আদালতে ভার্চুয়াল হাজিরা – সময় ও সম্পদের সঠিক ব্যবহার
অনেক সময় আদালত বিভিন্ন সরকারি আধিকারিককে তলব করে সশরীরে হাজিরা দিতে বলে। এতে গুরুত্বপূর্ণ প্রশাসনিক কাজ ব্যাহত হয়, কারণ এক জায়গা থেকে অন্য জায়গায় যাতায়াত করতে সময় লেগে যায়।
নবান্নের এক আধিকারিক বলেন,
“আমলা ও পুলিশ অফিসারদের অনেক বৈঠকের জন্য এক স্থান থেকে অন্য স্থানে যেতে হয়। এতে সময়ের অপচয় হয়। ভার্চুয়াল কক্ষের মাধ্যমে এই সমস্যার সমাধান হবে। আদালতে ভার্চুয়াল হাজিরা দিলেও নিয়ম মেনে বিচার প্রক্রিয়ায় অংশ নেওয়া সম্ভব হবে।”
নতুন প্রযুক্তি, নতুন প্রশাসনিক দৃষ্টিভঙ্গি
করোনা মহামারির পর থেকেই অনলাইন বৈঠক এবং ভিডিও কনফারেন্সের চল বেড়েছে। প্রশাসনের কাজকে আরও গতিশীল করতে এই ভার্চুয়াল কক্ষগুলো স্থায়ী পরিকাঠামো হিসেবে গড়ে তোলা হলো।
এতে প্রশাসনিক ব্যস্ততার মাঝেও কর্মকর্তারা আদালতের নির্দেশ মেনে কাজ করতে পারবেন এবং সরকারি কাজের স্বচ্ছতা ও গতিশীলতা বাড়বে।
নবান্নের এই নতুন উদ্যোগ যে প্রশাসনিক কাজে কার্যকর পরিবর্তন আনবে, তা বলাই বাহুল্য। তবে এর বাস্তব প্রয়োগ কেমন হয়, সেটাই এখন দেখার বিষয়!
প্রশান্ত মহাসাগরের দ্বীপপুঞ্জে ভূমিকম্পের তাণ্ডব! সুনামির আশঙ্কা