Thursday, February 27, 2025

প্রয়াগরাজে ৪২ ঘণ্টা: এক মিলনমেলার গল্প

Share

প্রয়াগরাজে ৪২ ঘণ্টা!

কুম্ভ মেলায় যাওয়ার ইচ্ছে হঠাৎ করেই মাথায় চেপেছিল। কিন্তু কীভাবে যাব? ট্রেন বা প্লেনের টিকিটের হদিস নেই! শেষমেশ ট্রাভেল এজেন্টকে ধরলাম— “দেখুন, যদি কোনোভাবে মিলে যায়!” রবিবার দুপুরে এলো ফোন— টিকিট পাওয়া গেছে! সোমবার ভোরেই রওনা দিলাম এক সহকর্মী ও তাঁর স্ত্রীর সঙ্গে।

✨ আকাশপথে এক ‘মিনি ভারত’

সকাল সাড়ে ৮টায় বিমান ধরতে বেরোলাম ভোরেই। বিমানবন্দরে গিয়ে বুঝলাম, কেন ট্রাভেল এজেন্ট আগে পৌঁছতে বলেছিল। রানওয়ের বাসে উঠে মনে হলো, পুরো ভারতই যেন এক জায়গায় এসে পড়েছে। বিভিন্ন ভাষার মানুষ, বিভিন্ন সংস্কৃতির ছোঁয়া, রঙিন পোশাক! এক দল বাঙালিকে কথায় কথায় বুঝলাম, তাঁরা কাতার থেকে এসেছেন শুধুমাত্র কুম্ভের টানে!

৭০ মিনিট পর প্রয়াগরাজ পৌঁছলাম। ছোট্ট বিমানবন্দর, কিন্তু কুম্ভ উপলক্ষে সেজে উঠেছে রঙিন ফুলে। আমাদের নিতে এসেছেন ঋষভ জয়সওয়াল, এক স্থানীয় বাসিন্দা। তাঁর অতিথি হয়ে কাটাতে হবে পরবর্তী ৪২ ঘণ্টা। পুলিশ ‘গ্রিন করিডর’ করে দিলেও শহরের ভিড়ে পৌঁছতে সময় লাগল দেড় ঘণ্টার বেশি। পথে যেতে যেতে মনে হচ্ছিল, যেন বারাণসীর গলিতে ঢুকে পড়েছি!

🛶 সঙ্গমের পথে

সকালের বিশ্রামের পর আমরা রওনা হলাম গঙ্গা-যমুনা-সরস্বতীর সঙ্গমে স্নানের উদ্দেশ্যে। গন্তব্য— ‘বোট হাউস’। নৌকায় উঠতে দরদাম করতে হলো! মাথাপিছু ৫০০০ টাকা থেকে কমতে কমতে দাঁড়াল ১৫০০ টাকায়। নৌকা ছাড়তেই এক অনন্য দৃশ্য! নদীর উপর উড়ছে অগণিত সাদা ‘ব্ল্যাক হেডেড গাল’ আর ‘ব্রাউন হেডেড গাল’। মানুষ, পাখি, নদী— এক স্বর্গীয় মিলন!

🚤 কুম্ভের শৃঙ্খলা ও পবিত্রতা

নদীতে বিপর্যয় মোকাবিলা বাহিনীর স্পিডবোট টহল দিচ্ছে, জল পরিষ্কার রাখার জন্য চলছে আধুনিক যন্ত্র। নৌকা এসে থামল ভাসমান চাতালে, যেখানে মানুষের স্রোত নেমে যাচ্ছে স্নানের জন্য। আমি ডুব দিলাম পবিত্র সঙ্গমে। ঠান্ডা জল শরীর ছুঁতেই যেন এক অন্য অনুভূতি! মাথায় চন্দনের তিলক, সঙ্গীদের চোখে এক অপার্থিব শান্তি।

🎨 কুম্ভ মেলার বৈচিত্র্য

স্নান শেষে আমরা চললাম কুম্ভ মেলা দেখতে। বিশাল জনসমুদ্র, কিন্তু কোথাও বিশৃঙ্খলা নেই। কেউ ধাক্কা দিচ্ছে না, কেউ রাগারাগি করছে না। এখানে সবাই সমান— ‘গুচি’ বা ‘প্রাডা’ পরা কর্পোরেটও মাটিতে বসে খাচ্ছেন, রাজস্থানের যুবক পাগড়ি পরে হেঁটে চলেছেন, বিহারি বধূ নাক পর্যন্ত ঘোমটা টেনে রাস্তায় হাঁটছেন।

রাম মন্দিরের প্রতিরূপ দেখে বিস্মিত হলাম, এত নিখুঁত যেন আসলটাই! রাস্তার ধারে শিল্পীদের আঁকা চিত্রকলা, স্কুলপড়ুয়াদের হাতে রঙের ছোঁয়া— ধর্মের চেয়ে যেন শিল্পটাই এখানে বেশি ফুটে উঠেছে।

🌙 শেষ রাতে ফিরে দেখা কুম্ভ

রাত তিনটায় ফেরার উড়ান। প্রয়াগরাজের রাস্তায় তখনও ভিড়, কিন্তু সেই একই শৃঙ্খলা, একই শান্তি। কলকাতায় ফিরে মনে হলো, আমি যেন গোটা ভারতকে একসঙ্গে দেখে এলাম।

কুম্ভ শুধু ধর্মের নয়, এটা একতার, বৈচিত্র্যের, মানবতার উৎসব!

গঙ্গায় ট্রলি ব্যাগে লাশ ফেলতে গিয়ে হাতেনাতে ধরা মা-মেয়ে! কী বলল জেরায়?

Read more

Local News