এত ফিট দিশা!
বলিউড অভিনেত্রী দিশা পটানি আজকের প্রজন্মের অন্যতম জনপ্রিয় এবং ফিট অভিনেত্রীদের মধ্যে একজন। তার অভিনয় দক্ষতা এবং ফ্যাশন সেন্সের সঙ্গে সঙ্গে তার মেদহীন শরীর এবং উচ্চতার মেলবন্ধন তাকে আরও আকর্ষণীয় করে তুলেছে। দিশার ফিটনেস তার অনুরাগীদের জন্য সব সময়ই একটি আলোচনার বিষয় হয়ে থাকে। এতটা ফিট থাকার রহস্য জানতে ইচ্ছুক তার অনুরাগীরা, সম্প্রতি এক সাক্ষাৎকারে নিজের ফিটনেসের টিপস দিয়েছেন দিশা পটানি।
দিশা পটানি জানান, “আমি বিশ্বাস করি, ফিট থাকতে হলে প্রত্যেককে সচল থাকতে হবে। অভিনয়ের জন্য ফিট থাকার দরকার নেই, বরং শরীরের প্রতি সবারই যত্ন নেওয়া উচিত।” তিনি আরো যোগ করেন, “সবার ফিট থাকার পদ্ধতি আলাদা হতে পারে, কেউ স্ট্রেনথ ট্রেনিং করেন, কেউ খেলাধুলার মাধ্যমে শরীর ফিট রাখেন, আবার কেউ জিমে গিয়ে কাজ করেন। কিন্তু এককথায় বলা যায়, ফিট থাকতে হলে সচল থাকতে হয়।”
দিশার ফিট থাকার রহস্যের মধ্যে একটি বড় ভূমিকা পালন করছে তার লাইফস্টাইল এবং শখ। তিনি বলেন, “ফিট থাকতে আমি নাচ করি, ওয়েট ট্রেনিং করি, মিক্স মার্শাল আর্টও করি। আমি সারা সময় সচল থাকতে পছন্দ করি, এক জায়গায় স্থির থাকতে পারি না।” এমনকি ছোট অ্যাপার্টমেন্টে তিনি তিনটি বিড়াল এবং তিনটি কুকুরছানা—মোট ছ’টি পোষ্য নিয়ে থাকেন, এবং তাদের সঙ্গেই অনেকটা সময় কাটান। এই অভ্যাসের ফলে, তার শরীরের পাশাপাশি মনও সুস্থ থাকে।
পোষ্যদের প্রতি দিশার অসীম ভালোবাসা তার দৈনন্দিন জীবনযাত্রার একটি অবিচ্ছেদ্য অংশ। তিনি বলেন, “পোষ্যদের সঙ্গে সময় কাটালে শরীরের পাশাপাশি মনও তরতাজা থাকে। তাদের দেখাশোনা করার মধ্যে একটা আলাদা সুখ রয়েছে।” দিশার মতে, শরীর এবং মন দু’টি একসঙ্গে সুস্থ থাকা খুবই গুরুত্বপূর্ণ, এবং পোষ্যদের সঙ্গে সময় কাটানো এ বিষয়টি মেনে চলতে সাহায্য করে।
ফিটনেস বজায় রাখার ক্ষেত্রে তার আরও একটি গুরুত্বপূর্ণ অভ্যাস হল শরীরের প্রতি সচেতনতা। তিনি বলেন, “আমার জীবনযাত্রায় শরীরের প্রতি সজাগ থাকা অপরিহার্য। নিয়মিত ব্যায়াম ও সঠিক খাদ্যাভ্যাস অনুসরণ করা খুবই গুরুত্বপূর্ণ।” তবে দিশা ফিট থাকার ক্ষেত্রে শুধু মাত্র জিম বা ট্রেনিংয়ের ওপর নির্ভর করেন না। তার জীবনযাত্রার অন্য একটি প্রধান দিক হল, সে সব সময় নিজেকে ব্যস্ত রাখে এবং তার পোষ্যদের সঙ্গে সময় কাটাতে ভালোবাসে।
দিশা জানালেন, “ফিট থাকা মানে শুধুমাত্র শরীরকে সুস্থ রাখা নয়, বরং মনও সুস্থ রাখতে হয়। পোষ্যদের দেখভাল করা, তাদের সঙ্গে খেলাধুলা করা, এ সবই আমার মানসিক স্বাস্থ্য ভালো রাখতে সাহায্য করে।” এছাড়া, তিনি আরও বললেন, “আমি যখন মিক্স মার্শাল আর্ট বা নাচ করি, তখন পুরোপুরি আমার মনোযোগ ওই কাজের প্রতি থাকে, যা মানসিকভাবে আমাকে একদম সতেজ করে তোলে।”
বর্তমানে দিশা পটানির জীবনযাত্রা প্রমাণ করে যে, ফিটনেস এবং সুস্থতা শুধুমাত্র শরীরের যত্ন নেওয়ার ব্যাপার নয়, বরং জীবনের প্রতি এক নির্দিষ্ট দৃষ্টিভঙ্গি প্রয়োজন। নিজের পোষ্যদের সঙ্গে ভালো সময় কাটানো, নিয়মিত শারীরিক পরিশ্রম, এবং মনোযোগের ক্ষেত্রে একাগ্রতা—এ সবই তাকে এতটা ফিট এবং সুস্থ রাখে।
দিশার মতে, প্রত্যেকেরই নিজের শরীরের প্রতি যত্ন নেওয়া উচিত, তবে সবার শরীরের চাহিদা আলাদা হতে পারে। তার জীবনের এই রুটিন তাকে শুধু শারীরিকভাবে নয়, মানসিকভাবে ও শক্তিশালী করেছে, যা তাকে তার কর্মজীবনে আরও সফল হতে সাহায্য করছে।