পুরুষদের জন্য নতুন দিগন্ত: কন্ডোম নয়, অস্ত্রোপচার নয়!
জন্মনিয়ন্ত্রণের ক্ষেত্রে এতদিন দায়িত্বটা প্রায় একতরফাভাবে মহিলাদের উপরই বর্তেছে। পুরুষদের জন্য বিকল্প বলতে ছিল মূলত কন্ডোম বা স্থায়ী অস্ত্রোপচার। তবে সেই চেনা ছবিটাই বদলে দিতে চলেছে এক নতুন বৈজ্ঞানিক আবিষ্কার।
নিউ ইয়র্কের Cornell University-এর বিজ্ঞানীরা দাবি করেছেন, তাঁরা এমন এক পুরুষ গর্ভনিরোধক পদ্ধতি তৈরি করেছেন, যা সাময়িক, হরমোনবিহীন এবং সম্ভাব্যভাবে নিরাপদ। সবচেয়ে বড় কথা—এতে অস্ত্রোপচারের প্রয়োজন নেই এবং স্থায়ীভাবে প্রজননক্ষমতা নষ্ট হওয়ার আশঙ্কাও নেই।
এই ধরনের চেষ্টা অবশ্য নতুন নয়। বহু বছর ধরেই পুরুষদের জন্য বিকল্প গর্ভনিরোধক তৈরির গবেষণা চলছে। কিন্তু বেশিরভাগ ক্ষেত্রেই পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া, হরমোনের প্রভাব বা স্থায়ী ক্ষতির আশঙ্কা থাকায় তা বাস্তবে প্রয়োগ করা যায়নি। এবার সেই জট কাটানোর দাবি করছেন গবেষকেরা।
এই নতুন পদ্ধতির মূল লক্ষ্য পুরুষদেহে শুক্রাণু তৈরির প্রক্রিয়া—যাকে বলা হয় Meiosis। বিজ্ঞানীরা দেখেছেন, এই প্রক্রিয়ার একটি নির্দিষ্ট ধাপকে সাময়িকভাবে বাধা দেওয়া গেলে শুক্রাণু উৎপাদন বন্ধ রাখা সম্ভব, তাও শরীরের অন্য কোনও ক্ষতি না করেই।
গবেষণায় ব্যবহৃত হয়েছে ‘JQ1’ নামের একটি যৌগ, যা আগে ক্যানসার এবং প্রদাহজনিত রোগ নিয়ে গবেষণায় ব্যবহৃত হত। এই যৌগটি মায়োসিসের একটি গুরুত্বপূর্ণ স্তরে হস্তক্ষেপ করে, ফলে সাময়িকভাবে শুক্রাণু তৈরি বন্ধ হয়ে যায়।
গবেষক Paula Cohen জানিয়েছেন, “আমরা এমন একটি পদ্ধতি দেখাতে পেরেছি, যা অণ্ডকোষে প্রয়োগ করে নিরাপদে শুক্রাণু উৎপাদন বন্ধ রাখা সম্ভব। সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হল—এতে স্থায়ী কোনও ক্ষতি হয় না, এবং প্রয়োজনে আবার স্বাভাবিক অবস্থায় ফিরে আসা যায়।”
প্রায় ছয় বছর ধরে ইঁদুরের উপর এই পরীক্ষা চালানো হয়েছে। দেখা গেছে, তিন সপ্তাহের ব্যবহারে সম্পূর্ণভাবে শুক্রাণু উৎপাদন বন্ধ হয়েছে। আবার প্রয়োগ বন্ধ করার ছয় সপ্তাহের মধ্যে তারা স্বাভাবিক অবস্থায় ফিরে এসেছে এবং সুস্থভাবে প্রজননেও সক্ষম হয়েছে।
তবে এখানেই একটা গুরুত্বপূর্ণ বিষয় রয়েছে—এই পদ্ধতি এখনও মানুষের ক্ষেত্রে প্রয়োগ করা হয়নি। গবেষকরা মনে করছেন, ভবিষ্যতে এটি ইনজেকশনের মাধ্যমে ব্যবহার করা যেতে পারে, সম্ভবত কয়েক মাস অন্তর।
বর্তমানে পুরুষদের জন্য গর্ভনিয়ন্ত্রণের নির্ভরযোগ্য উপায় বলতে কন্ডোম বা ভ্যাসেকটমি। কিন্তু কন্ডোম সব সময় শতভাগ কার্যকর নয়, আর অস্ত্রোপচার অনেকের কাছেই অস্বস্তিকর। তাই এই নতুন পদ্ধতি যদি সফলভাবে মানুষের ক্ষেত্রে প্রয়োগ করা যায়, তা হলে জন্মনিয়ন্ত্রণের ক্ষেত্রে বড় পরিবর্তন আসতে পারে।
সব মিলিয়ে, এই আবিষ্কার শুধু বৈজ্ঞানিক সাফল্যই নয়—সমাজের দৃষ্টিভঙ্গিতেও পরিবর্তন আনতে পারে। জন্মনিয়ন্ত্রণের দায়িত্ব ভাগ করে নেওয়ার ক্ষেত্রে পুরুষদের জন্য এটি হতে পারে এক নতুন, সহজ এবং নিরাপদ পথ।
রাহার জন্মের পর দ্রুত ওজন কমিয়ে কটাক্ষের শিকার আলিয়া, কী ছিল তাঁর রহস্য?