পরিযায়ী শ্রমিকদের জন্য পরিচয়পত্র আনল রাজ্য সরকার!
রাজ্যে বসবাস করেও জীবিকার তাগিদে বহু মানুষকে ভিন্রাজ্যে পাড়ি দিতে হয়। দীর্ঘদিন ধরেই এই পরিযায়ী শ্রমিকদের সমস্যাগুলি সামনে আসছিল। তাঁদের জন্য কোনও নির্দিষ্ট পরিচয়পত্র ছিল না, ফলে সরকারি সুবিধা থেকে তাঁরা প্রায়ই বঞ্চিত হতেন। এবার সেই সমস্যা মেটাতে বড় সিদ্ধান্ত নিল রাজ্য সরকার। সোমবার মন্ত্রিসভার বৈঠকের পর মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় ঘোষণা করলেন—পরিযায়ী শ্রমিকদের দেওয়া হবে আলাদা পরিচয়পত্র।
মুখ্যমন্ত্রী জানান, এই প্রকল্পের জন্য একটি নতুন পোর্টাল তৈরি হচ্ছে, নাম ‘শ্রমশ্রী’। যাঁরা সেখানে নাম নথিভুক্ত করবেন, তাঁরা একটি সরকারি পরিচয়পত্র পাবেন। বর্তমানে ‘কর্মসাথী’ নামে একটি পোর্টাল রয়েছে শ্রম দফতরের, কিন্তু সেটি মূলত সাধারণ কর্মসংস্থানের জন্য। নতুন ‘শ্রমশ্রী’ পোর্টাল সম্পূর্ণরূপে পরিযায়ী শ্রমিকদের কথা মাথায় রেখে তৈরি হচ্ছে।
শ্রম দফতরের এক আধিকারিক জানান, প্রথম পর্যায়ে প্রকল্পটি এমনভাবে তৈরি হয়েছে যাতে ভিন্রাজ্যে থাকা শ্রমিক এবং সম্প্রতি যারা রাজ্যে ফিরে এসেছেন, উভয়েই এই পরিচয়পত্র পান। অর্থাৎ, শুধু বাইরে কাজ করতে যাওয়া শ্রমিক নন, যারা নানান কারণে বাংলায় ফিরে এসেছেন, তাঁদের জন্যও এই সুবিধা থাকবে।
মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় জানান, বর্তমানে বাংলার প্রায় ২২ লক্ষ ৪০ হাজার শ্রমিক ভিন্রাজ্যে রয়েছেন। তাঁরা সবাই এই সুবিধা পাবেন। আবার যাঁরা এখনও নাম নথিভুক্ত করেননি, তাঁরাও সহজেই তা করতে পারবেন। মুখ্যমন্ত্রীর কথায়, ‘‘গত কয়েক দিনের মধ্যেই প্রায় ১০ হাজার শ্রমিক বাংলায় ফিরে এসেছেন। তাঁরা ‘শ্রমশ্রী’ পোর্টালে নাম তুললেই একটি পরিচয়পত্র পাবেন। সেই পরিচয়পত্রের মাধ্যমেই তাঁরা সরকারের দেওয়া নানা সুবিধা ভোগ করতে পারবেন।’’
পরিচয়পত্র দেওয়ার পাশাপাশি আর্থিক সহায়তার কথাও ঘোষণা করেছেন মুখ্যমন্ত্রী। ভিন্রাজ্য থেকে ফিরে আসা প্রত্যেক শ্রমিককে এককালীন ৫ হাজার টাকা দেওয়া হবে। শুধু তাই নয়, বিকল্প কাজের সুযোগ না-থাকলে আগামী এক বছর পর্যন্ত প্রতি মাসে তাঁরা ৫ হাজার টাকা ভাতা পাবেন। এর সঙ্গে রেশন কার্ড ও স্বাস্থ্যসাথী কার্ডও হাতে তুলে দেওয়া হবে তাঁদের।
রাজনৈতিক মহলের একাংশের মতে, আসন্ন ভোটকে সামনে রেখেই তৃণমূল এই প্রকল্পকে গুরুত্ব দিচ্ছে। অনেকেই মনে করছেন, রাজ্যে ফেরা পরিযায়ী শ্রমিকদের বড় অংশ সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের, ফলে তাঁদের পাশে দাঁড়াতে পারলে রাজনৈতিক সমীকরণেও তা ইতিবাচক প্রভাব ফেলবে। আবার অন্য অংশের মতে, এই সিদ্ধান্ত মানবিক দিক থেকে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। দীর্ঘদিন ধরে অবহেলিত পরিযায়ী শ্রমিকরা এখন সরকারি সুরক্ষার ছায়া পাবেন।
‘শ্রমশ্রী’ প্রকল্প চালু হলে, আর পরিচয়ের সমস্যায় পড়তে হবে না কোনও পরিযায়ী শ্রমিককে। কাজের সন্ধানে দূরে গেলেও, অথবা কোনও কারণে রাজ্যে ফিরে এলেও, তাঁদের হাতে থাকবে রাজ্যের স্বীকৃত পরিচয়পত্র—যা শুধু পরিচয় নয়, বরং এক নতুন নিরাপত্তার আশ্বাস।
বাচ্চার পছন্দের বার্গার ও পিৎজ়া, তবে স্বাস্থ্যকর করে কেমন করে তুলবেন?