নিজের বিয়েতেই তিন ঘণ্টা দেরিতে হাজির হন শত্রুঘ্ন সিন্হা!
বড় পর্দার শক্তিমান অভিনেতা, রাজনীতির মঞ্চে স্পষ্টভাষী নেতা—শত্রুঘ্ন সিন্হার জীবনের মতো বিতর্কিত তাঁর ব্যক্তিগত সম্পর্কের গল্পও। একদিকে স্ত্রী পুনম সিংহ, অন্যদিকে বলিউডের জনপ্রিয় অভিনেত্রী রীনা রায়ের সঙ্গে তাঁর সম্পর্ক নিয়ে দীর্ঘদিন ধরেই কানাঘুষো চলেছে। কখনও গুজব, কখনও সাক্ষাৎকারে নিজের মুখেই তা স্বীকার করেছেন তিনি। তবে সবচেয়ে বিস্ময়কর তথ্য—নিজের বিয়ের দিনেও শত্রুঘ্ন পৌঁছেছিলেন তিন ঘণ্টা দেরিতে, আর ততদিনে প্রেমিকা ও স্ত্রী-দু’জনের কাছেই খোলা হয়ে গিয়েছিল তাঁর ‘দ্বৈত জীবনের’ পর্দা।
শুরুটা হয়েছিল ১৯৬৫ সালে এক ট্রেন সফরে। কাঁদতে থাকা এক তরুণীর হাতে নিজের মুগ্ধতা লিখে দিয়েছিলেন শত্রুঘ্ন। সেই তরুণীই ছিলেন পুনম। প্রেম শুরু, তারপর দীর্ঘ ১৪ বছরের সম্পর্ক। কিন্তু সেই ফাঁকেই তাঁদের জীবনে ঢুকে পড়েন রীনা রায়। ‘কালীচরণ’ ছবির সেটে আলাপ, তারপর একে একে ‘মিলাপ’, ‘সংগ্রাম’, ‘সৎ শ্রী অকাল’—ছবির ফ্রেমের বাইরে গিয়ে ব্যক্তিগত জীবনের বন্ধনে জড়িয়ে পড়েন তাঁরা।
বলিউডের গুঞ্জন, শত্রুঘ্ন একসঙ্গে দুই অভিনেত্রীর সঙ্গেই সম্পর্কে ছিলেন। বিয়ের সময় পুনম জানতেন না তাঁর প্রেমিকের অন্য সম্পর্কের কথা। তবে পরে, বিয়ের কিছু আগে রীনার সঙ্গে শত্রুঘ্নের ঘনিষ্ঠতা জেনে গিয়েছিলেন তিনি। পুনম এক সাক্ষাৎকারে জানান, তিনি নিজেই তখন সরে দাঁড়াতে চেয়েছিলেন। কিন্তু শত্রুঘ্ন নাকি এমন কাউকে বিয়ে করতে চেয়েছিলেন, যাকে তিনি বিশ্বাস করতে পারবেন।
১৯৮০ সালে পুনমের সঙ্গে বিয়ের দিন শত্রুঘ্ন দেরি করে হাজির হন। অনেকে মনে করেছিলেন, সেটা প্রেমজনিত টানাপড়েনের ফল। তবে পরে শত্রুঘ্ন জানান, সময়ানুবর্তিতা তাঁর স্বভাবেই ছিল না। এমনকি, সিনেমার সেটেও দেরি করে পৌঁছনো ছিল তাঁর স্বাভাবিক ঘটনা।
বিয়ের পরও রীনার সঙ্গে তাঁর সম্পর্ক বজায় ছিল বলে জানিয়েছিলেন অভিনেতা নিজেই। এক সাক্ষাৎকারে বলেছিলেন, “স্ত্রীর সঙ্গে থাকলে প্রেমিকার মুখ মনে পড়ত, আবার প্রেমিকার সঙ্গে থাকলে মনে হত স্ত্রীকে ঠকাচ্ছি।” এমন ত্রিকোণ সম্পর্ক তাঁর মনে, শরীরে এবং বিবেকেও চাপ ফেলেছিল।
শেষমেশ পুনমের দৃঢ়তা এবং সম্পর্ক বাঁচানোর চেষ্টা শত্রুঘ্নকে পরকীয়া থেকে সরে আসতে বাধ্য করেছিল। পুনম যখন সব জেনে ফেলেন, তখন শত্রুঘ্ন প্রতিজ্ঞা করেন, জীবনে আর কোনও নারীর দিকে তাকাবেন না। স্ত্রীকেই সারাজীবনের জন্য মনপ্রাণ দিয়ে ভালোবাসবেন।
রীনা রায় পরবর্তীতে পাকিস্তানের ক্রিকেটার মোহসিন খানের সঙ্গে সম্পর্কে জড়ান ও বিবাহবন্ধনে আবদ্ধ হন। কয়েক বছর সংসার করে বিচ্ছেদের সিদ্ধান্ত নেন তাঁরা। অন্যদিকে শত্রুঘ্ন ও পুনম এখনও একসঙ্গে।
এই ঘটনাগুলো যেন সিনেমাকেও হার মানায়। প্রেম, পরকীয়া, আত্মদ্বন্দ্ব, আর অবশেষে পারিবারিক প্রতিশ্রুতি—শত্রুঘ্ন সিন্হার জীবন সত্যিই এক জটিল চিত্রনাট্য।
রাত জাগলেই বাড়ছে হাঁপানির ঝুঁকি! মহিলারা সবচেয়ে বিপন্ন, কারণ লুকিয়ে হরমোন আর উদ্বেগে