পড়ে পড়েও কিছু মনে থাকে না? সন্তানের মনঃসংযোগ বাড়াতে রইল ৫ সহজ উপায়

পড়ে পড়েও কিছু মনে থাকে না? ঘণ্টার পর ঘণ্টা বইয়ের সামনে বসে থাকা, জোরে জোরে পড়া, রুটিনে বাঁধা সময় মেনে পড়তে বসা—সবই হচ্ছে, তবু পরীক্ষার হলে গিয়ে ভুলে যাচ্ছে সব?…

August 9, 2025
1 min read

পড়ে পড়েও কিছু মনে থাকে না?

ঘণ্টার পর ঘণ্টা বইয়ের সামনে বসে থাকা, জোরে জোরে পড়া, রুটিনে বাঁধা সময় মেনে পড়তে বসা—সবই হচ্ছে, তবু পরীক্ষার হলে গিয়ে ভুলে যাচ্ছে সব? অনেক বাবা-মায়ের কাছেই এ এক পরিচিত অভিজ্ঞতা।

আসলে শুধু পড়ার সময় বাড়ালেই শেখার গতি বাড়ে না। শেখার আগ্রহ, বোঝার ক্ষমতা আর তথ্যকে মনে রাখার কৌশল—এই তিনটি দিকেই নজর দেওয়া জরুরি। মনোবিদ ও শিক্ষাবিদরা বলছেন, আজকের দিনে পড়ুয়াদের শেখার ধরন আগের চেয়ে অনেক আলাদা। তাই তাদের জন্য চাই কিছু কার্যকরী ও বাস্তবমুখী কৌশল। নিচে রইল এমনই ৫টি উপায়, যা মেনে চললে সন্তানের পড়াশোনার প্রতি আগ্রহ যেমন বাড়বে, তেমনই তার মনে রাখার ক্ষমতাও উন্নত হবে।


১. শুধু মুখস্থ নয়, লিখে শেখার অভ্যাস গড়ে তুলুন
মুখস্থ করে ফেললেই সব হয়ে গেল—এই ভাবনা থেকে বেরিয়ে আসা দরকার। পড়া যতটা মুখে বলা যায়, ততটাই যদি লেখার অভ্যাস করা যায়, তা হলে শেখা হয় অনেক গভীরভাবে। মস্তিষ্ক তখন বিষয়টিকে বোঝার চেষ্টা করে। বাড়িতে নিজেই যদি প্রশ্ন তৈরি করে উত্তর লেখে বা মডেল টেস্ট দেয়, তা হলে তথ্য আরও দীর্ঘ সময় মনে থাকবে।


২. নিয়মিত রিভিশনের গুরুত্ব দিন
প্রথমবার পড়ে সব কিছু মনে রাখা বেশ কঠিন। কয়েকদিনের মধ্যে ভুলে যাওয়াটাই স্বাভাবিক। তাই নির্দিষ্ট সময় অন্তর রিভিশনের অভ্যাস করানো জরুরি। এক সপ্তাহ বা দশ দিন পর যদি সেই বিষয়টি আবার পড়া হয়, তাহলে পুরনো তথ্য মনে পড়ে যাবে এবং তা আরও দৃঢ়ভাবে মাথায় থাকবে।


৩. বড় বিষয়কে ছোট ছোট অংশে ভাগ করুন
জটিল বা বড় কোনও অধ্যায় একবারে পড়ে ফেলার চেষ্টা না করে সেটিকে ছোট ছোট ভাগে ভাঙা ভাল। প্রতিটি অংশ যত দিন না বোঝা যাচ্ছে, তত দিন অন্য অংশে যাওয়া উচিত নয়। ছোট টুকরোয় ভাগ করলে মাথা সহজে তথ্য গ্রহণ করতে পারে।


৪. শেখার জন্য অন্যকে বোঝানোর পদ্ধতি ব্যবহার করুন
শুধু নিজে পড়ে বুঝলেই নয়, সেই বিষয়টি অন্য কাউকে বোঝাতে পারলে শেখাটা আরও শক্তিশালী হয়। এই পদ্ধতিকে বলে ‘ফিনম্যান টেকনিক’। পদার্থবিদ রিচার্ড ফিনম্যানের মতে, কোনও বিষয় সহজ ভাষায় অন্যকে বোঝাতে পারলে বোঝা যায়, আপনি আসলে বিষয়টা কতটা আয়ত্ত করেছেন।


৫. বাস্তব উদাহরণ বা মডেল ব্যবহার করুন
বিশেষ করে বিজ্ঞানের মতো বিষয়, যেখানে থিওরি অনেক, সেখানে যদি হাতে-কলমে দেখানো যায় বা বাস্তব মডেল ব্যবহার করা হয়, তা হলে পড়ুয়াদের শেখা সহজ হয়। ছবি, চিত্র, গ্লোব, অ্যাকটিভিটি—সবই শেখার প্রক্রিয়ায় দারুণ কাজে দেয়।


শেষ কথা
শুধু পড়ার সময় বাড়িয়ে নয়, পড়ার পদ্ধতি বদলে দিলেই সন্তানের শেখার প্রতি আগ্রহ অনেক বেড়ে যাবে। নিয়ম মেনে এই ৫টি কৌশল প্রয়োগ করুন, দেখবেন—চুপচাপ বসে থাকা নয়, সত্যিই শেখার আনন্দ খুঁজে পাচ্ছে আপনার সন্তান।

ব্লিচ করলে মুখে জ্বালা? সহজ সমাধান দিলেন জাভেদ হাবিববরফ ও ঠান্ডা দুধেই মিলবে স্বস্তি, বলছেন কেশসজ্জা শিল্পী

Follow us on Google News Get real-time updates & exclusive sports coverage
Follow

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *