পঞ্জাবের মতো বাংলাতেও কি আইএসআইয়ের জাল?
পঞ্জাব, হরিয়ানা বা অসমের মতো এ রাজ্যেও কি পাক গুপ্তচর সংস্থা আইএসআইয়ের মদতে কোনও নেটওয়ার্ক তৈরি হচ্ছে? এই প্রশ্নের উত্তর খুঁজতেই আরও সক্রিয় হল জাতীয় তদন্তকারী সংস্থা (এনআইএ)। হামিম মণ্ডলের সঙ্গে পাক গ্যাংস্টার শাহবাজ ভাট্টি গোষ্ঠীর যোগাযোগের অভিযোগ থেকে শুরু করে আইএসআইকে ভারতীয় সিম সরবরাহের চক্র— মোট তিনটি মামলার তদন্তভার নিয়েছে কেন্দ্রীয় সংস্থাটি।
রাজ্য পুলিশের এসটিএফের হাতে গ্রেফতার হওয়া হামিম এবং তাঁর বান্ধবী-সহ এক সহযোগীর মামলায় নতুন করে এফআইআর করেছে এনআইএ। ভারতীয় ন্যায় সংহিতা, তথ্যপ্রযুক্তি আইন এবং ইউএপিএ-র ধারায় ওই মামলা হয়েছে। একই সঙ্গে মুর্শিদাবাদে ভারতীয় সিম পাকিস্তানি গুপ্তচর সংস্থার হাতে পৌঁছে দেওয়ার অভিযোগে শেখ সুমন-সহ তিন জনের গ্রেফতারির ঘটনাটিও তদন্ত করছে এনআইএ।
তদন্তকারীদের সূত্রে খবর, শাহবাজ ভাট্টি গোষ্ঠী দেশের বিভিন্ন প্রান্তে স্থানীয় যুবকদের কাজে লাগিয়ে অশান্তি তৈরির চেষ্টা করছে বলে সন্দেহ করা হচ্ছে। তাঁদের দাবি, হামিমকে ব্যবহার করে বাংলায় একটি মডিউল তৈরির পাশাপাশি অস্ত্র জোগাড় এবং রাজনৈতিক ভাবে গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তিদের নিশানা করার পরিকল্পনাও করা হয়েছিল।
সিম কার্ড চক্র নিয়েও কেন বাড়ছে উদ্বেগ?
এনআইএ-র নজরে থাকা দ্বিতীয় গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হল ভারতীয় সিম কার্ড পাচারের চক্র। তদন্তকারীদের অনুমান, এই চক্রের সঙ্গে ভাট্টি গোষ্ঠী এবং আইএসআইয়ের যোগাযোগ থাকতে পারে। পঞ্জাবে ভারতীয় সিম ব্যবহার করে সীমান্তবর্তী এলাকায় সিসি ক্যামেরা বসিয়ে সেখানকার লাইভ ছবি পাকিস্তানে পাঠানোর অভিযোগও সামনে এসেছে।
তাই পূর্বাঞ্চল, বিশেষ করে বাংলাদেশ সীমান্তবর্তী এলাকায় একই ধরনের কোনও নেটওয়ার্ক সক্রিয় রয়েছে কি না, তা খতিয়ে দেখতে চাইছে এনআইএ। কেন্দ্রীয় স্তরে তদন্ত হলে দেশের বিভিন্ন রাজ্য থেকে পাওয়া তথ্য এক জায়গায় এনে গোটা চক্রের শিকড়ে পৌঁছনো সম্ভব হবে বলে মনে করছেন তদন্তকারীরা।
বীরভূমে বিপুল বিস্ফোরক উদ্ধারের তদন্তও এনআইএ-র হাতে
এর পাশাপাশি বীরভূমের মহম্মদবাজারে বিপুল পরিমাণ বিস্ফোরক উদ্ধারের ঘটনাও এনআইএ তদন্ত করছে। গত ১৯ অগস্ট ঝাড়খণ্ড সীমান্ত লাগোয়া একটি গুদাম থেকে ৫০ বস্তা, অর্থাৎ প্রায় ২৫০০ কেজি অ্যামোনিয়াম নাইট্রেট এবং পাঁচ হাজার জিলেটিন স্টিক উদ্ধার করে পুলিশ। ঘটনায় তিন জনকে গ্রেফতার করা হয়।
এত বিপুল পরিমাণ বিস্ফোরক কী ভাবে বীরভূমে এল, কোথায় তা ব্যবহার করার পরিকল্পনা ছিল এবং এর পিছনে আরও বড় কোনও চক্র রয়েছে কি না— সেই প্রশ্নগুলির উত্তরই এখন খুঁজবে এনআইএ। হামিম-কাণ্ড, সিম কার্ড চক্র এবং বিস্ফোরক উদ্ধারের মামলাগুলির মধ্যে কোনও যোগসূত্র রয়েছে কি না, সেটিও তদন্তের গুরুত্বপূর্ণ অংশ।
রাহার জন্মের পর দ্রুত ওজন কমিয়ে কটাক্ষের শিকার আলিয়া, কী ছিল তাঁর রহস্য?।