পঞ্চায়েতের লাইসেন্সেই বেআইনি বাজি কারখানা!
দক্ষিণ ২৪ পরগনার পাথরপ্রতিমায় ভয়াবহ বাজি বিস্ফোরণে এক পরিবারের আটজনের মৃত্যু ঘটেছে। নিহতদের মধ্যে চারজনই শিশু, যাদের মধ্যে দু’জনের বয়স এক বছরেরও কম। এই মর্মান্তিক দুর্ঘটনার পর স্থানীয় প্রশাসনের ভূমিকা নিয়ে উঠছে বড় প্রশ্ন।
এই বিস্ফোরণের মূল সূত্রপাত একটি পঞ্চায়েতের দেওয়া সাধারণ ট্রেড লাইসেন্স, যার মাধ্যমে ওই বাড়িতে বাজি তৈরি ও মজুত করা হচ্ছিল। অথচ এই ধরনের দাহ্য পদার্থের জন্য উচ্চস্তরের অনুমতি প্রয়োজন, যা এখানে ছিল না। তাহলে কি প্রশাসনের গাফিলতিই এই মৃত্যুর জন্য দায়ী?
কে ছিলেন লাইসেন্সধারী?
জানা যাচ্ছে, লাইসেন্সটি ছিল চন্দ্রকান্ত বণিকের স্ত্রী সান্ত্বনা বণিকের নামে। অথচ, সোমবার রাতে বিস্ফোরণে সান্ত্বনাও প্রাণ হারিয়েছেন। স্থানীয়রা বলছেন, বণিক পরিবারের সঙ্গে রাজনৈতিক প্রভাবশালীদের যোগসাজশ ছিল, আর সে কারণেই প্রশাসন এতদিন চুপ ছিল।
এই পরিবারের বিরুদ্ধে আগেও বেআইনি বাজি মজুতের অভিযোগ উঠেছিল। তিন বছর আগে চন্দ্রকান্ত একবার গ্রেফতার হয়েছিলেন, তখন পুলিশ ৬৮.৫ কেজি বাজি উদ্ধার করেছিল। কিন্তু এরপরও কেন প্রশাসন সতর্ক হয়নি? এই প্রশ্নের কোনো স্পষ্ট উত্তর নেই।
বিস্ফোরণের পর পুলিশের অবস্থান
বিস্ফোরণের পর এডিজি (দক্ষিণবঙ্গ) সুপ্রতিম সরকার জানিয়েছেন, এই ঘটনায় তদন্ত চলছে। তিনি বলেন—
👉 “বণিক পরিবার প্রায় ১০ বছর ধরে বাজির ব্যবসা করছে। এখন খতিয়ে দেখা হবে, তাদের কাছে বৈধ লাইসেন্স ছিল কি না।”
👉 “পুলিশের পক্ষে প্রতিটি বাড়িতে গিয়ে নজরদারি করা কঠিন। তবে সাধারণ মানুষেরও সচেতন হওয়া উচিত।”
কিন্তু প্রশ্ন উঠছে—
❌ একাধিকবার বেআইনি বাজি মজুতের তথ্য থাকার পরও প্রশাসন কেন ব্যবস্থা নেয়নি?
❌ একটি পঞ্চায়েত কীভাবে বিস্ফোরক রাখার অনুমতি দেয়?
❌ যদি লাইসেন্স বৈধ না হয়, তাহলে এতদিন এই ব্যবসা কীভাবে চলল?
এলাকাবাসীরা মনে করছেন, যদি আগে ব্যবস্থা নেওয়া হতো, তাহলে এই মর্মান্তিক মৃত্যু এড়ানো যেত।
পূর্বেও ঘটেছে বাজি বিস্ফোরণের মর্মান্তিক ঘটনা
এটি প্রথমবার নয়। ২০২৩ সালে পূর্ব মেদিনীপুরের এগরায় বেআইনি বাজি কারখানার বিস্ফোরণে ১১ জন মারা গিয়েছিলেন। তখন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় বলেছিলেন,
“এই ঘটনা আমার চোখ খুলে দিয়েছে। আমরা বাজির জন্য আলাদা ক্লাস্টার তৈরি করব, যাতে এরকম অবৈধ কারখানা আর না চলে।”
কিন্তু বাস্তবে কী হলো?
🚨 তারপরও একের পর এক অবৈধ বাজি কারখানার বিস্ফোরণে মৃত্যু হচ্ছে!
🚨 প্রশাসন ও পুলিশের আশ্বাস বাস্তবে কোনো ফল দিচ্ছে না!
ফরেনসিক তদন্ত ও ভবিষ্যতের করণীয়
বিস্ফোরণের পর মঙ্গলবার বিকেলে ফরেনসিক দল ঘটনাস্থলে গিয়ে নমুনা সংগ্রহ করেছে। কিন্তু শুধুমাত্র তদন্ত চালালেই কি এই ধরনের দুর্ঘটনা আটকানো সম্ভব?
📌 কড়া আইন প্রণয়ন এবং বাস্তবায়ন প্রয়োজন
📌 বৈধ লাইসেন্স ছাড়া বাজি উৎপাদন বন্ধ করতে হবে
📌 স্থানীয় প্রশাসনকে আরও কঠোর নজরদারি করতে হবে
📌 নাগরিকদেরও সচেতন হতে হবে, বেআইনি বাজি কারখানার খবর প্রশাসনকে জানাতে হবে
প্রশ্ন রয়ে গেল…
❓ এই মৃত্যুগুলোর দায় কে নেবে?
❓ অবৈধ বাজি কারখানার বিরুদ্ধে কি এবার সত্যিই কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে?
❓ না কি প্রশাসন আবারও হাত গুটিয়ে বসে থাকবে, যতদিন না পরবর্তী বিস্ফোরণ হয়?
এখন দেখার বিষয়, এই ঘটনার পর প্রশাসন বাস্তবে কোনো পদক্ষেপ নেয় কিনা, নাকি আবারও কিছুদিন পর সবাই ভুলে যাবে!
ট্রাম্পের ‘পাল্টা শুল্ক’ ঘোষণার অপেক্ষায় বিশ্ব, ভারতের চিন্তা বাড়ছে!