প্রয়াত অভিনেতাকে স্মরণ শিবপ্রসাদের!
নানা পটেকরের প্রয়াণের খবর যেন এখনও বিশ্বাস করতে পারছেন না পরিচালক শিবপ্রসাদ মুখোপাধ্যায়। ৭৫ বছর বয়সে বর্ষীয়ান অভিনেতার মৃত্যুতে শোকস্তব্ধ তিনি। ছোটবেলা থেকেই নানা পটেকরের অভিনয়ের অনুরাগী শিবপ্রসাদ। ‘প্রহার’, ‘পরিন্দা’, ‘সালাম বম্বে’-সহ একের পর এক ছবিতে অভিনেতার কাজ তাঁকে মুগ্ধ করেছে। পরে পরিচালক হওয়ার পর সেই প্রিয় অভিনেতার সঙ্গে কাজ করার সুযোগও এসেছিল। কিন্তু দু’বার উদ্যোগ নেওয়া হলেও শেষ পর্যন্ত তা বাস্তবায়িত হয়নি।
শিবপ্রসাদ জানিয়েছেন, এক বার ‘বেলাশেষে’ ছবির হিন্দি ও মরাঠি সংস্করণ তৈরির পরিকল্পনার সময় নানার সঙ্গে যোগাযোগ করা হয়েছিল। তাঁকে ছবিটি পাঠানো হয়েছিল এবং তাঁর ছবিটি ভালও লেগেছিল। কিন্তু নানা কারণে সেই কাজ আর এগোয়নি।
এর পরে ‘পোস্ত’ ছবির জন্যও নানার সঙ্গে যোগাযোগ করেছিলেন শিবপ্রসাদ। সেই ছবিটিও অভিনেতা দেখেছিলেন। ফোনে কথা বলার সময় ছবির প্রশংসা করেছিলেন তিনি। পাশাপাশি সৌমিত্র চট্টোপাধ্যায়ের অভিনয়েরও ভূয়সী প্রশংসা করেছিলেন। তাঁর মতে, ছবির বিষয়বস্তু এমন যে ভারতের যে কোনও ভাষায় সেটি তৈরি করা সম্ভব।
শিবপ্রসাদের সবচেয়ে বড় প্রাপ্তি, নানা তাঁর ছবিগুলি দেখেছিলেন এবং কাজ করার ব্যাপারে আগ্রহীও ছিলেন। কিন্তু পরিচালক মনে করেন, সেই সুযোগ শেষ পর্যন্ত কাজে না লাগার আক্ষেপ তাঁর থেকে যাবে।
বিশেষ করে সৌমিত্র চট্টোপাধ্যায়ের অভিনয় নিয়ে নানার মন্তব্য আজও মনে আছে শিবপ্রসাদের। তাঁর কথায়, সৌমিত্রের অভিনয়ের সেই অন্তর্মুখী ধরন ভারতীয় অভিনেতাদের মধ্যে বিরল। সেই চরিত্র নিজের মতো করে ফুটিয়ে তোলার চ্যালেঞ্জও নিতে চেয়েছিলেন নানা। মহারাষ্ট্রের দর্শকদের কাছে গল্পটিকে কী ভাবে আরও পরিচিত করে তোলা যায়, তা নিয়েও তাঁদের আলোচনা হয়েছিল।
কিন্তু করোনা অতিমারি এবং নানার শারীরিক অসুস্থতা-সহ নানা কারণে সেই পরিকল্পনাও বাস্তবায়িত হয়নি।
নানার সঙ্গে প্রথম ফোনে কথা বলার অভিজ্ঞতাও ভুলতে পারেননি শিবপ্রসাদ। ছোটবেলা থেকে যে অভিনেতার অভিনয় দেখে মুগ্ধ হয়েছেন, তাঁর সঙ্গে সরাসরি কথা বলার সুযোগ পেয়ে নিজেই আপ্লুত হয়ে পড়েছিলেন। শিবপ্রসাদ জানিয়েছেন, নানার মতো একজন কিংবদন্তি অভিনেতার সঙ্গে কথা বলতে পারাটাই তাঁর কাছে ছিল বড় প্রাপ্তি।
তাঁর কথায়, “আমার সৌভাগ্য, নানাজি আমার তৈরি ছবি দেখেছিলেন।” অভিনেতার বিশাল ব্যক্তিত্বের সামনে নিজেকে খুব ছোট মনে হলেও নানার বিনয় তাঁকে আরও বেশি মুগ্ধ করেছিল। তাঁর কথা মন দিয়ে শোনা এবং সময় করে তাঁর তৈরি ছবি দেখা—শিবপ্রসাদের কাছে সেটাই ছিল সবচেয়ে বড় সম্মান।
নানা পটেকরের সঙ্গে শেষ পর্যন্ত কাজ করা হয়নি। কিন্তু তাঁর অভিনয়ের যে প্রভাব শিবপ্রসাদের মতো বহু শিল্পীর জীবনে থেকে গিয়েছে, তাঁর স্মৃতিচারণে সেই শ্রদ্ধা এবং আক্ষেপ দুটোই স্পষ্ট।
রাহার জন্মের পর দ্রুত ওজন কমিয়ে কটাক্ষের শিকার আলিয়া, কী ছিল তাঁর রহস্য?।