নতুন চেহারার আমেরিকা!
বিশ্বকাপের আয়োজক হিসেবে টুর্নামেন্ট শুরুর আগে নানা বিতর্কে জড়িয়েছিল আমেরিকা। কিন্তু মাঠে নামার পর সেই বিতর্কের কোনও ছাপ দেখা গেল না দলের খেলায়। বরং আত্মবিশ্বাসী, আক্রমণাত্মক এবং সুসংগঠিত ফুটবল খেলেই বিশ্বকাপ অভিযান শুরু করল মাউরিসিয়ো পোচেত্তিনোর দল। প্যারাগুয়েকে ৪-১ গোলে হারিয়ে নিজেদের শক্তির জানান দিল স্বাগতিকরা।
এই আমেরিকা আগের সংস্করণের থেকে অনেকটাই আলাদা। ম্যাচের শুরু থেকেই বলের দখল রেখে দ্রুত পাসে আক্রমণ গড়ে তোলার চেষ্টা করেছে তারা। মাঝমাঠ থেকে আক্রমণভাগ— সর্বত্র ছিল সমন্বয়ের ছাপ। একসঙ্গে চার-পাঁচ জন ফুটবলারের ওঠানামা দলের খেলায় গতি এবং ভারসাম্য এনে দিয়েছে। ফলে আক্রমণ ও রক্ষণ— দুই বিভাগেই লোকবলের অভাব দেখা যায়নি।
অন্যদিকে, প্যারাগুয়ে শুরু থেকেই রক্ষণাত্মক কৌশল নেয়। ফোলারিন বালোগান, ক্রিশ্চিয়ান পুলিসিচদের আটকাতে ডাবল, কখনও ট্রিপল মার্কিংয়ের আশ্রয় নেয় তারা। কিন্তু আমেরিকার দ্রুতগতির প্রেসিং ফুটবলের সামনে সেই পরিকল্পনা বেশিক্ষণ টেকেনি।
ম্যাচের সপ্তম মিনিটেই এগিয়ে যায় আমেরিকা। প্যারাগুয়ের ডিফেন্ডার ড্যামিয়েন বোবাডিলা চাপের মুখে আত্মঘাতী গোল করে বসেন। সেই গোলের পর আরও আক্রমণাত্মক হয়ে ওঠে স্বাগতিকরা। ৩১ মিনিটে দুর্দান্ত ওয়ান-টাচ ফিনিশে ব্যবধান দ্বিগুণ করেন ফোলারিন বালোগান। প্রথমার্ধের অতিরিক্ত সময়েই নিজের দ্বিতীয় গোল করে দলের লিড ৩-০ করেন তিনি। কার্যত তখনই ম্যাচের ভাগ্য নির্ধারিত হয়ে যায়।
দ্বিতীয়ার্ধে প্যারাগুয়ে কিছুটা ঘুরে দাঁড়ানোর চেষ্টা করে। মাঝমাঠে লড়াই বাড়ায় এবং প্রতি-আক্রমণের পথে হাঁটে। তবে আমেরিকার আক্রমণাত্মক মনোভাব একটুও কমেনি। একের পর এক সুযোগ তৈরি করতে থাকে তারা। যদিও কয়েকটি সহজ সুযোগ নষ্টও করে।
৭৩ মিনিটে মরিসিয়োর গোলে ব্যবধান কিছুটা কমায় প্যারাগুয়ে। তাতে সামান্য উত্তেজনা তৈরি হলেও ম্যাচে ফেরার মতো অবস্থায় পৌঁছতে পারেনি তারা। বরং শেষ দিকে আবার আক্রমণের ঝাঁজ বাড়ায় আমেরিকা। ম্যাচ শেষ হওয়ার এক মিনিট আগে জিওভান্নি রেয়না গোল করে ৪-১ ব্যবধানে জয় নিশ্চিত করেন।
বিশ্বকাপের শুরুতেই এই জয় আমেরিকার আত্মবিশ্বাস অনেকটাই বাড়িয়ে দিল। পোচেত্তিনোর কৌশল, দলের ফিটনেস এবং আক্রমণভাগের ধার— সব মিলিয়ে তারা যে এই বিশ্বকাপে অনেক দূর যাওয়ার স্বপ্ন দেখছে, তার স্পষ্ট ইঙ্গিত মিলল প্রথম ম্যাচেই।
অন্যদিকে, আরেক আয়োজক দেশ কানাডা নিজেদের প্রথম ম্যাচে হতাশ করেছে। বসনিয়া ও হার্জেগোভিনার বিরুদ্ধে ১-১ ড্র করেছে তারা। পুরো ম্যাচে আধিপত্য বিস্তার করলেও গোলের সামনে বারবার ব্যর্থ হন জোনাথন ডেভিডরা। একাধিক সুযোগ নষ্টের খেসারত দিতে হয়েছে কানাডাকে।
২১ মিনিটে জোভো লুকিচের গোলে পিছিয়ে পড়েছিল কানাডা। পরে ৭৯ মিনিটে সাইল লারিন গোল করে সমতা ফেরান। কিন্তু ম্যাচের বাকি সময়েও বেশ কয়েকটি সোনালি সুযোগ হাতছাড়া করে স্বাগতিকরা। ফলে জয়ের বদলে এক পয়েন্ট নিয়েই সন্তুষ্ট থাকতে হয়েছে তাদের।
রাহার জন্মের পর দ্রুত ওজন কমিয়ে কটাক্ষের শিকার আলিয়া, কী ছিল তাঁর রহস্য?