নগ্ন সৈকতে অবাধ যৌনাচার!
সিয়াটলের ডেনি ব্লেইন পার্ক এক সময় ছিল প্রকৃতি ও স্বাধীনতাপ্রেমীদের স্বর্গ। এখানে নগ্নভাবে সূর্যস্নান কিংবা সমুদ্রের তটরেখায় হাঁটা ছিল একান্ত ব্যক্তিগত স্বাধীনতার প্রতীক। এলজিবিটি+ সম্প্রদায় থেকে শুরু করে দেশ-বিদেশের পর্যটক— অনেকেই এই সৈকতের মুক্ত পরিবেশকে আপন করে নিয়েছিলেন। তবে বিগত কয়েক বছরে সেই মুক্ত পরিবেশই হয়ে উঠেছে বিতর্কের কেন্দ্রবিন্দু।
স্থানীয়দের অভিযোগ, নগ্নতার ছাড়পত্রকে ঢাল করে এখানে বাড়াবাড়ি মাত্রায় যৌনাচার শুরু হয়েছে। পর্যটকদের একাংশ নির্জনতার সুযোগ নিয়ে সৈকতের বালিয়াড়িতে প্রকাশ্যে যৌনতায় লিপ্ত হচ্ছেন, এমনকি প্রকাশ্য হস্তমৈথুনের ঘটনাও ঘটেছে একাধিকবার। পরিবারের সঙ্গে সৈকতে যাওয়া বা শিশুকে নিয়ে প্রকৃতির সৌন্দর্য উপভোগ করা যে ক্রমেই অসম্ভব হয়ে উঠছে, সেই কথা জানিয়ে বহু বাসিন্দা প্রশাসনের কাছে লিখিত অভিযোগ দায়ের করেন।
এই পরিস্থিতি মোকাবিলায় এগিয়ে আসে স্থানীয় সংগঠন ‘ডেনি ব্লেইন পার্ক ফর অল’। তারা পার্কের পরিবেশ রক্ষা ও জনসাধারণের নিরাপত্তার দাবিতে আদালতের দ্বারস্থ হয়। আদালত তাদের সপক্ষে রায় দিয়ে জনপ্রিয় এই নগ্ন সৈকতটি বন্ধ করার নির্দেশ দেয় এবং প্রশাসনকে সমস্যা সমাধানে দ্রুত পদক্ষেপ করার নির্দেশ দেয়।
আদালতের পর্যবেক্ষণে উঠে এসেছে, নগ্নতা যদি শান্তিপূর্ণভাবে সীমার মধ্যে থাকে, তা নিয়ে আপত্তির কিছু নেই। কিন্তু যখন তা যৌনতা ও আক্রমণাত্মক আচরণে রূপ নেয়, তখন তা জনসাধারণের অসুবিধার কারণ হয়ে দাঁড়ায়। মার্চ মাসে এক সপ্তাহে চারটি প্রকাশ্যে হস্তমৈথুনের ঘটনা ঘটেছে বলে জানানো হয়েছে আদালতে দেওয়া এক খোলা চিঠিতে। এমনকি একজন নগ্ন পর্যটক স্থানীয় এক বাসিন্দার গাড়ির সামনে দীর্ঘ সময় হস্তমৈথুন করেন, আরেক ঘটনায় এক নারী বাসিন্দার সঙ্গে তর্ক চলাকালীন পোশাক খুলে ফেলেন অপর এক ব্যক্তি।
এই ঘটনার পরিপ্রেক্ষিতে আদালত নগ্ন সৈকত হিসেবে ডেনি ব্লেইন পার্কের কার্যক্রম আপাতত বন্ধ রাখার নির্দেশ দেন। একই সঙ্গে বলা হয়, প্রশাসনকে পরবর্তী দুই সপ্তাহের মধ্যে বিষয়টির স্থায়ী সমাধান খুঁজে বার করতে হবে।
এই নির্দেশে অনেক সিয়াটলবাসী স্বস্তি প্রকাশ করেছেন। তাঁদের মতে, নগ্নতা এবং প্রকৃতির সান্নিধ্য উপভোগের মাঝে যৌনাচার কখনওই গ্রহণযোগ্য নয়। শহরের মেয়র ব্রুস হ্যারেলও আদালতের সঙ্গে সহমত প্রকাশ করে জানিয়েছেন, “অশ্লীল আচরণের কোনও স্থান নেই এই শহরের জনপরিসরে।”
সিয়াটল শহরে নগ্নতা সাধারণভাবে বৈধ হলেও, যৌন আচরণকে কখনওই প্রশ্রয় দেওয়া হয়নি। নগ্ন হয়ে প্রকৃতির সান্নিধ্য উপভোগ করতে চাইলে তা শালীনতার মধ্যে থাকতেই হবে— এই বার্তাই দিয়েছেন স্থানীয়রা ও প্রশাসন।
এই সিদ্ধান্ত নগ্নতাকে নয়, বরং অপব্যবহার ও জনবিরোধী আচরণকে রুখে দেওয়ার চেষ্টা— এমনটাই মনে করছেন অধিকাংশ নাগরিক। নিরাপত্তা ও মর্যাদার প্রশ্নে আপসহীন হয়ে আদালত যে সঠিক পথে হাঁটছে, তা নিয়েও কোনও দ্বিমত নেই।
অলিম্পিক্স ক্রিকেটে বাদ পড়ার শঙ্কায় পাকিস্তান ও নিউজিল্যান্ড, আইসিসি নিয়ম নিয়ে দুই দেশের ক্ষোভ