‘ধর্ষণের চেষ্টা প্রমাণিত নয়’, তিন নাবালিকার মৃত্যুতে তদন্তের কেন্দ্রে মানসিক অসুস্থতা নাকি পুরনো আক্রোশ?

তিন নাবালিকার মৃত্যুতে তদন্তের কেন্দ্রে মানসিক অসুস্থতা নাকি পুরনো আক্রোশ! মুর্শিদাবাদের সুতিতে চার শিশু-কিশোরীকে হাঁসুয়া দিয়ে কোপানোর ঘটনায় তিন জনের মৃত্যু হয়েছে। অভিযুক্তের ঘর থেকে মানসিক চিকিৎসার ওষুধ ও প্রেসক্রিপশন…

August 14, 2026
1 min read

তিন নাবালিকার মৃত্যুতে তদন্তের কেন্দ্রে মানসিক অসুস্থতা নাকি পুরনো আক্রোশ!

মুর্শিদাবাদের সুতিতে চার শিশু-কিশোরীকে হাঁসুয়া দিয়ে কোপানোর ঘটনায় তিন জনের মৃত্যু হয়েছে। অভিযুক্তের ঘর থেকে মানসিক চিকিৎসার ওষুধ ও প্রেসক্রিপশন মিলেছে। কিন্তু হামলার প্রকৃত কারণ এখনও স্পষ্ট নয়।

বৃহস্পতিবার বিকেলে মুর্শিদাবাদের সুতিতে চার শিশু ও কিশোরীর উপর হাঁসুয়া নিয়ে হামলার ঘটনায় চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে। আক্রান্তদের বয়স ৫ থেকে ১২ বছরের মধ্যে। তাঁদের মধ্যে তিন জনের মৃত্যু হয়েছে। ছয় বছরের একটি শিশু গুরুতর আহত অবস্থায় মুর্শিদাবাদ মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন।

এই ঘটনায় ২১ বছরের গোলাম সারওয়ার ওরফে বাদশাকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। অভিযোগ, হামলার আগে নিজের ১১ বছরের ভাগ্নিকে ঘরে ডেকে নিয়েছিলেন তিনি। পরিবারের তরফে দাবি করা হয়েছিল, ওই কিশোরীকে ধর্ষণের চেষ্টা করা হয়েছিল এবং তার তিন খেলার সঙ্গী বিষয়টি দেখে ফেলেছিল। কিন্তু প্রাথমিক তদন্তে কোনও শিশু বা কিশোরীকে ধর্ষণের চেষ্টা করা হয়েছিল—এমন অভিযোগের সত্যতা মেলেনি বলে জানিয়েছে পুলিশ।

হামলার পর এলাকা ছেড়ে পালিয়েছিলেন অভিযুক্ত। পরে নিজেই থানায় গিয়ে আত্মসমর্পণ করেন তিনি। পুলিশ তাঁর ঘরে তল্লাশি চালিয়ে অবসাদ বা বিষণ্ণতার চিকিৎসায় ব্যবহৃত ওষুধ এবং প্রেসক্রিপশন উদ্ধার করেছে। তাঁর বাবা জানিয়েছেন, দীর্ঘ দিন ধরেই ছেলে মানসিক সমস্যায় ভুগছিলেন এবং বহরমপুরের এক চিকিৎসকের কাছে তাঁর চিকিৎসাও চলছিল। তবে পরিবারের দাবি, এর আগে তাঁর মধ্যে এমন হিংস্র আচরণ দেখা যায়নি।

এক প্রতিবেশীরও দাবি, গোলাম মানসিক সমস্যায় ভুগছিলেন। তবে তদন্তের এই পর্যায়ে ঘটনাটিকে শুধুমাত্র মানসিক অসুস্থতার ফল বলে ধরে নিতে চাইছে না পুলিশ।

তদন্তকারীরা একাধিক সম্ভাবনা খতিয়ে দেখছেন। আচমকা কোনও সিদ্ধান্তের জেরে হামলা হয়েছিল, নাকি এর পিছনে পুরনো পারিবারিক বিবাদ বা আক্রোশ ছিল—তা জানার চেষ্টা চলছে। পাশাপাশি, কোনও কুকর্ম করতে গিয়ে ধরা পড়ার আশঙ্কা থেকেই অভিযুক্ত চার শিশুর উপর হামলা করেছিলেন কি না, সেই সম্ভাবনাও তদন্তের আওতায় রয়েছে।

মুর্শিদাবাদ জেলার পুলিশ সুপার শচীন মক্কর জানিয়েছেন, হামলার পর অভিযুক্ত আত্মসমর্পণ করেন এবং তাঁকে গ্রেফতার করা হয়েছে। ঘটনার প্রকৃত কারণ জানতে তদন্ত চলছে। আদালতে হাজির করানোর পর তাঁকে হেফাজতে নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করা হবে। প্রয়োজন হলে আদালতের অনুমতি নিয়ে মানসিক রোগ বিশেষজ্ঞদের সাহায্য নেওয়ার কথাও ভাবছে পুলিশ।

এ দিকে গুরুতর আহত ছয় বছরের শিশুটির অবস্থাও এখনও আশঙ্কাজনক। মুর্শিদাবাদ মেডিক্যাল কলেজের অধ্যক্ষ অনাদি রায়চৌধুরী জানিয়েছেন, বৃহস্পতিবার শিশুটিকে হাসপাতালে ভর্তি করানো হয়। পেডিয়াট্রিক ইনটেনসিভ কেয়ার ইউনিটে তার চিকিৎসা চলছে। মাথা, হাত এবং পিঠে ধারালো অস্ত্রের গভীর আঘাত রয়েছে। চিকিৎসার জন্য বিশেষ মেডিক্যাল বোর্ডও গঠন করা হয়েছে।

ফলে এই ভয়াবহ হামলার পিছনে ঠিক কী কারণ ছিল, তা এখনও স্পষ্ট নয়। অভিযুক্তের মানসিক চিকিৎসার নথি যেমন তদন্তে গুরুত্বপূর্ণ সূত্র হয়ে উঠেছে, তেমনই পারিবারিক সম্পর্ক, ঘটনার আগের পরিস্থিতি এবং হামলার উদ্দেশ্য নিয়েও বিস্তারিত তদন্ত চালাচ্ছে পুলিশ।

রাহার জন্মের পর দ্রুত ওজন কমিয়ে কটাক্ষের শিকার আলিয়া, কী ছিল তাঁর রহস্য?।

Follow us on Google News Get real-time updates & exclusive sports coverage
Follow

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *