পাকিস্তানকে হারিয়ে এশিয়ান গেমসের কোয়ার্টারে ভারত!
ক্রিকেট, হকি—এ বার টেবল টেনিসেও পাকিস্তানের বিরুদ্ধে দাপুটে জয় ভারতের। এশিয়ান গেমসে মহিলাদের দলগত বিভাগের ম্যাচে পাকিস্তানকে ৩-০ ব্যবধানে হারিয়ে কোয়ার্টার ফাইনালে জায়গা করে নিল ভারত। এই জয়ের অন্যতম আকর্ষণ দুই বাঙালি কন্যা—সুতীর্থা মুখোপাধ্যায় এবং সিন্ড্রেলা দাস। দু’জনেই নিজেদের ম্যাচ জিতে ভারতকে এগিয়ে দেন। পরে তৃতীয় ম্যাচে জয় নিশ্চিত করেন শ্রীজা আকুলা।
এ বারের এশিয়ান গেমসে পাকিস্তানের বিরুদ্ধে ম্যাচটিই ছিল সুতীর্থা ও সিন্ড্রেলার প্রথম খেলা। শুরুতেই নিজেদের সামর্থ্যের পরিচয় দেন দু’জন। বাংলার প্রাক্তন তারকা পৌলমী ঘটকের অ্যাকাডেমির এই দুই ছাত্রী আন্তর্জাতিক মঞ্চে প্রথম ম্যাচেই নজর কেড়ে নিলেন।
প্রথম রাউন্ডে সুতীর্থার প্রতিপক্ষ ছিলেন পাকিস্তানের আলিনা খান। ম্যাচের শুরু থেকেই নিয়ন্ত্রণ ছিল ভারতীয় খেলোয়াড়ের হাতে। পর পর তিন গেমে ১১-৩, ১১-৩ এবং ১১-৪ ব্যবধানে জিতে সহজেই ম্যাচ পকেটে পুরে নেন সুতীর্থা। আলিনা কোনও পর্যায়েই তাঁকে বড় চ্যালেঞ্জের মুখে ফেলতে পারেননি।
এর পর দ্বিতীয় রাউন্ডে নামেন ১৭ বছরের সিন্ড্রেলা। এটি তাঁর জীবনের প্রথম এশিয়ান গেমস। কিন্তু এত বড় মঞ্চের চাপ তাঁর খেলায় একেবারেই দেখা যায়নি। আত্মবিশ্বাসী শুরু থেকে শেষ পর্যন্ত দাপট বজায় রেখে কলসুম খানকে তিন গেমে হারিয়ে দেন তিনি। সিন্ড্রেলার জয়ের স্কোর ছিল ১১-৬, ১১-৭ এবং ১১-৫। ফলে ভারত ২-০ ব্যবধানে এগিয়ে যায়।
এর পর ভারতের সামনে ছিল ম্যাচ জেতার জন্য আর মাত্র একটি জয়। সেই কাজটিও দ্রুত সেরে ফেলেন অভিজ্ঞ শ্রীজা। তৃতীয় রাউন্ডে ফাতিমা খানের বিরুদ্ধে শুরু থেকেই ছন্দে ছিলেন তিনি। ১১-৪, ১১-৪ এবং ১১-৫ ব্যবধানে টানা তিন গেম জিতে ম্যাচের ফয়সালা করে দেন শ্রীজা।
সবচেয়ে উল্লেখযোগ্য বিষয়, পাকিস্তানের বিরুদ্ধে পুরো ম্যাচে ভারতের তিন খেলোয়াড়ের কেউই একটি গেমও হারেননি। ৩-০ ব্যবধানে ম্যাচ জিতে কোয়ার্টার ফাইনালে পৌঁছে গেল ভারত।
এর আগে গ্রুপ পর্বে ইন্দোনেশিয়াকেও ৩-০ ব্যবধানে হারিয়েছিল ভারত। সেই ম্যাচে শ্রীজা, দিয়া চিতালে এবং যশস্বিনী ঘোরপড়ে ভারতের হয়ে খেলেছিলেন। তবে সিঙ্গাপুরের বিরুদ্ধে লড়াইটা এতটা সহজ ছিল না। পাঁচ রাউন্ডের ম্যাচে এক সময় ভারত ১-২ পিছিয়ে পড়েছিল। শেষ পর্যন্ত শ্রীজা, দিয়া ও যশস্বিনীর লড়াইয়ে ম্যাচ ঘুরিয়ে জয় ছিনিয়ে নেয় ভারত।
সিঙ্গাপুরের বিরুদ্ধে সুতীর্থা ও সিন্ড্রেলাকে দলে দেখা যায়নি। ফলে পাকিস্তানের বিরুদ্ধে প্রথম বার এশিয়ান গেমসের মঞ্চে নামার সুযোগ পান বাংলার দুই প্রতিভাবান খেলোয়াড়। আর সেই সুযোগের সদ্ব্যবহারও করলেন তাঁরা। সুতীর্থার অভিজ্ঞতা এবং সিন্ড্রেলার তারুণ্যের আত্মবিশ্বাস—দুইয়ের মিশেলেই ভারতের শুরুটা হয়ে উঠল আরও শক্তিশালী।
গ্রুপ পর্বের এই দাপুটে পারফরম্যান্সের পর এ বার ভারতের লক্ষ্য শেষ আট পেরিয়ে আরও দূর যাওয়া। আর সেই লড়াইয়ে সুতীর্থা, সিন্ড্রেলাদের পারফরম্যান্স যে গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠতে পারে, পাকিস্তানের বিরুদ্ধে প্রথম ম্যাচেই তার ইঙ্গিত মিলল।
রাহার জন্মের পর দ্রুত ওজন কমিয়ে কটাক্ষের শিকার আলিয়া, কী ছিল তাঁর রহস্য?।