কীভাবে নিকোটিনের আসক্তি জয় করলেন বিশাল দদলানী?
বলিউডের জনপ্রিয় সুরকার ও গায়ক Vishal Dadlani সম্প্রতি জানিয়েছেন, এক সময় তিনি দিনে ৪০টিরও বেশি সিগারেট খেতেন। কিন্তু এখন তিনি সম্পূর্ণভাবে ধূমপান ছেড়েছেন। তাঁর মতে, নিকোটিনের আসক্তি যতই প্রবল হোক না কেন, দৃঢ় মানসিক প্রস্তুতি থাকলে তা থেকে বেরিয়ে আসা সম্ভব।
বিশালের বক্তব্য, ধূমপান ছাড়ার প্রথম কয়েক দিন সবচেয়ে কঠিন। তখন শরীর ও মন দু’দিক থেকেই অস্বস্তি, বিরক্তি এবং বারবার সিগারেট খাওয়ার তাগিদ আসে। কিন্তু সেই সময়টা পার করে উঠতে পারলে ধীরে ধীরে শরীর নিজেই সুস্থতার পথে ফিরতে শুরু করে। তিনি বিশ্বাস করেন, ইচ্ছাশক্তিই এই লড়াইয়ের সবচেয়ে বড় অস্ত্র।
ধূমপান ছাড়ার পর শরীরে কী পরিবর্তন আসে?
ধূমপান বন্ধ করার পর শরীর দ্রুত ইতিবাচক পরিবর্তনের মধ্য দিয়ে যায়।
- রক্তে কার্বন মনোক্সাইডের মাত্রা কমে এবং অক্সিজেনের মাত্রা বাড়ে, ফলে রক্তচাপ ও হৃদ্স্পন্দন স্বাভাবিক হতে শুরু করে।
- প্রায় ৪৮ ঘণ্টার মধ্যে স্বাদ ও গন্ধ অনুভব করার ক্ষমতা উন্নত হয়।
- ৭২ ঘণ্টার মধ্যে শরীর থেকে অধিকাংশ নিকোটিন বেরিয়ে যায় এবং শ্বাস নেওয়া সহজ হতে শুরু করে।
- কয়েক সপ্তাহের মধ্যে কাশি, শ্বাসকষ্ট ও অ্যালার্জির সমস্যা কমতে থাকে।
- প্রায় ১২ সপ্তাহ পরে ফুসফুসের কার্যক্ষমতা আরও উন্নত হয়, ফলে হাঁটা বা সিঁড়ি ভাঙার সময় আগের মতো হাঁপিয়ে পড়তে হয় না।
- দীর্ঘমেয়াদে ফুসফুসের ক্যানসার, মুখ ও গলার ক্যানসার, স্ট্রোক এবং সিওপিডির ঝুঁকিও উল্লেখযোগ্যভাবে কমে।
ধূমপান ছাড়তে চিকিৎসকদের পরামর্শ
ধূমপান ছাড়ার ক্ষেত্রে বিশেষজ্ঞরা প্রায়ই ‘৪ডি’ পদ্ধতি অনুসরণ করতে বলেন।
- Delay (অপেক্ষা করুন): সিগারেট খেতে ইচ্ছা হলে অন্তত ১০ মিনিট অপেক্ষা করুন। বেশিরভাগ ক্ষেত্রেই তীব্র ইচ্ছা কিছুক্ষণ পর কমে যায়।
- Deep Breathing (গভীর শ্বাস): ধীরে ধীরে গভীর শ্বাস নিন এবং ছাড়ুন। এতে মানসিক চাপ কমে।
- Drink Water (জল পান): ধীরে ধীরে এক গ্লাস জল পান করলে ধূমপানের তাগিদ কিছুটা কমতে পারে।
- Distract Yourself (মন অন্যদিকে সরান): হাঁটতে বেরোন, গান শুনুন, বই পড়ুন বা অন্য কোনও কাজে নিজেকে ব্যস্ত রাখুন।
খাদ্যাভ্যাস ও ব্যায়ামও গুরুত্বপূর্ণ
ধূমপান ছাড়ার সময় দিনে পর্যাপ্ত জল পান করা উপকারী। অনেকেই মুখে মৌরি, লবঙ্গ বা জোয়ান রাখলে কিছুটা স্বস্তি পান। পাশাপাশি প্রথম কয়েক সপ্তাহ চা, কফি বা অ্যালকোহল কম খাওয়া ভালো, কারণ এগুলো অনেকের ক্ষেত্রে ধূমপানের ইচ্ছা বাড়িয়ে দিতে পারে।
প্রতিদিন অন্তত ২০–৩০ মিনিট হাঁটা, নিয়মিত ব্যায়াম এবং প্রাণায়ামও নিকোটিনের আসক্তি কাটিয়ে উঠতে সাহায্য করতে পারে।
মনে রাখবেন: ধূমপান ছাড়া কঠিন হলেও অসম্ভব নয়। তবে যাঁদের নিকোটিনের ওপর তীব্র নির্ভরতা রয়েছে, তাঁদের ক্ষেত্রে চিকিৎসকের পরামর্শে নিকোটিন রিপ্লেসমেন্ট থেরাপি (গাম, প্যাচ ইত্যাদি) বা অন্যান্য ওষুধ ব্যবহার করলে সফল হওয়ার সম্ভাবনা আরও বাড়তে পারে।
রাহার জন্মের পর দ্রুত ওজন কমিয়ে কটাক্ষের শিকার আলিয়া, কী ছিল তাঁর রহস্য?