দিঘায় রথের টান!
রথযাত্রার দিন সকাল থেকেই উৎসবের সাজে সেজে উঠেছে দিঘা। অক্ষয় তৃতীয়ার দিন উদ্বোধিত নতুন জগন্নাথ মন্দির থেকে এ বছরই প্রথম বেরোচ্ছে জগন্নাথদেব, বলভদ্র ও সুভদ্রার রথ। শুক্রবার সকাল থেকেই মন্দির চত্বরে মানুষের ঢল, রথের প্রস্তুতি ও পূজার্চনায় মুখর হয়ে উঠেছে সমুদ্র শহর। ঝিরঝিরে বৃষ্টিও থামিয়ে রাখতে পারেনি ভক্তদের উচ্ছ্বাস।
দিঘার এক নম্বর গেটের সামনে সারিবদ্ধ ভাবে দাঁড়িয়ে রয়েছে সুসজ্জিত তিনটি রথ—পুরীর আদলেই নির্মিত প্রতিটি রথই আলাদা ভাবে সাজানো হয়েছে জগন্নাথ, বলভদ্র ও সুভদ্রার জন্য। সকাল ৯টার সময় ঘোষিত ছিল বিগ্রহগুলিকে রথে তোলার পালা। সেই প্রস্তুতি শেষ করে কিছুক্ষণের মধ্যেই রথে আরোহন করেন দেবতারা। শুরু হয় পৌরাণিক রীতি মেনে পূজার্চনা ও আরতি।
দুপুর ২টো থেকে শুরু হবে মূল পূজা ও আরতি। ঠিক আড়াইটে নাগাদ রথযাত্রা শুরু করে দিঘার মন্দির থেকে রওনা হবে মাসির বাড়ির উদ্দেশে। প্রায় পৌনে এক কিলোমিটার রাস্তা অতিক্রম করে বিকেল সাড়ে চারটের মধ্যে রথ পৌঁছোবে গন্তব্যে। মুখ্যমন্ত্রী নিজে জানিয়েছেন, নির্ধারিত সময় মেনেই রথযাত্রা সম্পূর্ণ হবে এবং পুরো প্রক্রিয়ার সময় নজরদারি চালাবে প্রশাসন।
সাধারণ মানুষের জন্য রথযাত্রা উপলক্ষে নেওয়া হয়েছে ব্যতিক্রমী ব্যবস্থা। মুখ্যমন্ত্রীর নির্দেশে পদপিষ্ট হওয়ার সম্ভাবনা এড়াতে রাস্তার দু’ধারে কড়া ব্যারিকেড বসানো হয়েছে। যদিও রথের রশি ছুঁতে পারা যাবে ব্যারিকেডের বাইরে থেকেই, কারণ দড়ি সংযুক্ত করা হয়েছে উভয় পাশের ব্যারিকেডের সঙ্গে। রথ যাওয়ার সময় থেমে থেমে দাঁড়াবে যাতে দর্শনার্থীরা ভালোভাবে দর্শন করতে পারেন।
মন্দির চত্বরে রয়েছে কড়া নিরাপত্তা। মোতায়েন রয়েছে বিপুল সংখ্যক পুলিশ বাহিনী। সকাল থেকেই নিরাপত্তারক্ষীরা নজর রাখছেন রথযাত্রার প্রতিটি মুহূর্তে। শহরের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে আসছেন দর্শনার্থীরা। ঝিরঝিরে বৃষ্টির মধ্যেও ভিড় ক্রমেই বাড়ছে, তৈরি হচ্ছে এক বিশাল ধর্মীয় মেলবন্ধন।
এটাই দিঘা মন্দিরের ইতিহাসে প্রথম রথযাত্রা। আর সেই কারণে সাধারণ মানুষের মধ্যে উন্মাদনাও তুঙ্গে। পূজা, ভোগ, সংগীত আর স্নিগ্ধ আবহে দিঘার আকাশ আজ যেন উৎসবের রঙে রাঙা।
স্মৃতি ধরে রাখার জাদু: মস্তিষ্কে অ্যাসিটোকোলিন সচল রাখতে রোজকার অভ্যেসে আনুন এই পাঁচ পরিবর্তন