দত্তক ও সারোগেসির পথে সানি লিওন!
বলিউডের গ্ল্যামার কুইন সানি লিওন আজ তিন সন্তানের মা। তবে তাঁর মাতৃত্বের যাত্রা ছিল একেবারেই আলাদা। নিজের সন্তান ধারণ না করে তিনি বেছে নিয়েছেন দত্তক ও সারোগেসির পথ। সম্প্রতি সোহা আলি খানের পডকাস্টে সানি খোলাখুলি জানিয়েছেন তাঁর জীবনের এই গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্তগুলির পেছনের কারণ।
সানি প্রথমে দত্তক নেন এক কন্যাশিশুকে, নাম রাখেন নিশা। এরপর সারোগেসির মাধ্যমে জন্ম হয় তাঁর যমজ ছেলে নোয়া ও অ্যাশরের। সানি জানান, তিনি সবসময়ই চেয়েছিলেন একটি শিশুকে দত্তক নিতে। তাঁর মতে, “বিশ্বে অসংখ্য শিশু আছে যাদের ভালোবাসা এবং পরিবারের প্রয়োজন। আমি সবসময় এমন একজন মা হতে চেয়েছিলাম যে একটি শিশুর জীবন বদলাতে পারে।”
পডকাস্টে সানি আরও জানান, যমজ সন্তানদের জন্ম দিয়েছিলেন একজন সারোগেট মা, যিনি তাঁদের জীবনে আশীর্বাদ হয়ে এসেছিলেন। সানি বলেন, “আমরা তাঁকে প্রতি সপ্তাহে অর্থ দিতাম। এতটাই বড় অঙ্ক ছিল যে তিনি সেই টাকায় একটি বাড়ি কিনতে পেরেছিলেন এবং নিজের বিয়েও করেছিলেন। আমরা খুব খুশি যে তিনি আমাদের মতোই সুখী হয়েছেন।”
কিন্তু কেন নিজে সন্তানধারণ করলেন না সানি? এই প্রশ্নের জবাবে অভিনেত্রী বলেন, তিনি নিজের জীবনে মাতৃত্ব চান, তবে গর্ভধারণের শারীরিক ও মানসিক চাপ নিতে চাননি। তাঁর সোজাসাপ্টা বক্তব্য, “আমি মা হতে চেয়েছিলাম, কিন্তু নিজের শরীর দিয়ে সেই প্রক্রিয়ার মধ্যে যেতে চাইনি। আমি মনে করি, মা হওয়ার অনুভূতি শুধু জন্ম দেওয়ার মধ্যেই সীমাবদ্ধ নয়, বরং সন্তানের প্রতি ভালোবাসা ও দায়িত্ববোধের মধ্যেই তা নিহিত।”
সানি লিওন ও ড্যানিয়েল ওয়েবার ২০১১ সালে বিয়ে করেন, যখন তাঁরা দু’জনেই প্রাপ্তবয়স্ক বিনোদন জগতে কাজ করছিলেন। ২০১৭ সালে তাঁরা নিশাকে দত্তক নেন, এরপর ২০১৮ সালে জন্ম হয় যমজ সন্তানদের। আজ তাঁদের পরিবার সম্পূর্ণ, আর সানি গর্বিত তাঁর নেওয়া প্রতিটি সিদ্ধান্তে।
এই গল্প শুধু সানি লিওনের যাত্রা নয়, বরং এক সাহসী নারী হিসেবে নিজের শর্তে জীবন যাপন করার প্রতীক। তিনি প্রমাণ করেছেন, মাতৃত্বের অর্থ শুধুই গর্ভধারণ নয়—ভালোবাসা, নিরাপত্তা ও একটি শিশুকে সঠিক ভবিষ্যৎ দেওয়ার অঙ্গীকারই আসল।