দক্ষিণ ২৪ পরগনার পর দুই জেলার সম্মেলন ঘিরে চিন্তায় সিপিএম
সিপিএমের দক্ষিণ ২৪ পরগনা জেলা সম্মেলনে ঘটে যাওয়া অশান্তি এবং নেতৃত্ব পরিবর্তনের কারণে দলে দেখা দিয়েছে চরম অস্বস্তি। সেই ঘটনার রেশ কাটতে না কাটতেই উত্তর ২৪ পরগনা এবং পশ্চিম মেদিনীপুরের আসন্ন সম্মেলন নিয়ে নতুন করে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। রাজ্যের শীর্ষ নেতৃত্বের আশঙ্কা, এই দুই জেলায় বিদ্যমান গোষ্ঠীদ্বন্দ্ব এবং নেতাদের বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগ সম্মেলনের পরিবেশকে আরও উত্তপ্ত করে তুলতে পারে।
দক্ষিণ ২৪ পরগনার সম্মেলনের ‘অশান্তি’
দক্ষিণ ২৪ পরগনার সম্মেলনে জেলা কমিটি থেকে ১৮ জন তরুণ নেতানেত্রীর পদত্যাগ, যা ছিল সিপিএমের ক্ষেত্রে নজিরবিহীন, তা দলে বড় ধাক্কা দিয়েছে। একাধিক তরুণ নেতাকে নতুন কমিটি থেকে বাদ দেওয়া নিয়ে তৈরি হয় তীব্র অসন্তোষ। অনেকেই মনে করছেন, এ ঘটনা দলের অভ্যন্তরীণ সমস্যা ও গোষ্ঠীদ্বন্দ্বের বহিঃপ্রকাশ।
পশ্চিম মেদিনীপুরে ‘সুশান্ত ইস্যু’
পশ্চিম মেদিনীপুরে প্রাক্তন মন্ত্রী সুশান্ত ঘোষের বিরুদ্ধে ওঠা ‘মহিলাঘটিত’ অভিযোগ দলে তীব্র বিতর্কের সৃষ্টি করেছে। গত অগস্টে অভিযোগ পাওয়ার পরই সুশান্তকে জেলা সম্পাদকের পদ থেকে সরিয়ে দেওয়া হয় এবং বিজয় পালকে অন্তর্বর্তী দায়িত্ব দেওয়া হয়। যদিও সুশান্তের দলীয় মূলস্রোতে ফেরার সম্ভাবনা প্রায় নেই বলেই মনে করছেন সিপিএম নেতৃত্ব। তবে সম্মেলনের মঞ্চে তার সমর্থকরা গোলমাল পাকাতে পারেন বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।
উত্তর ২৪ পরগনায় ‘তন্ময়কাণ্ড’
উত্তর ২৪ পরগনায় সিপিএমের আমন্ত্রিত সদস্য তন্ময় ভট্টাচার্যের বিরুদ্ধে এক মহিলা সাংবাদিককে হেনস্থার অভিযোগ উঠেছে। এই অভিযোগের ভিত্তিতে প্রথমে তাঁকে সাময়িকভাবে বরখাস্ত করা হয়। পরে অভ্যন্তরীণ তদন্ত শেষে ছ’মাসের জন্য তাঁকে নিলম্বিত করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। তবে এই সিদ্ধান্ত নিয়েই দলের মধ্যে প্রশ্ন উঠেছে। অনেকেই মনে করছেন, উত্তর ২৪ পরগনার আসন্ন সম্মেলনে তন্ময় ইস্যু নতুন করে বিতর্কের জন্ম দিতে পারে।
গোষ্ঠীদ্বন্দ্ব এবং ভবিষ্যতের চিন্তা
উত্তর ২৪ পরগনা সিপিএমের মধ্যে গোষ্ঠীদ্বন্দ্ব কোনো নতুন বিষয় নয়। রাম, শ্যাম, এবং যদুর মতো বিভিন্ন গোষ্ঠী নিজেদের সুবিধামতো সময় বিশেষে জোট বেঁধে অন্যদের কোণঠাসা করে। এটি শুধু উত্তর ২৪ পরগনাতেই নয়, সিপিএমের বিভিন্ন জেলা কমিটির মধ্যেই দেখা যায়। এই অভ্যন্তরীণ সমীকরণগুলির প্রভাব সম্মেলনের পরিবেশকে নষ্ট করতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।
নেতৃত্বের করণীয়
রাজ্য নেতৃত্বের সামনে এখন বড় চ্যালেঞ্জ হল এই দুই জেলার সম্মেলনে অশান্তি এড়ানো। বিকল্প পদক্ষেপের মধ্যে একটি হতে পারে বিতর্কিত নেতাদের একেবারে সম্মেলনের বাইরে রাখা। তবে এই ধরনের পদক্ষেপ আবার অন্য গোষ্ঠীর ক্ষোভ বাড়িয়ে তুলতে পারে।
সিপিএমের ভবিষ্যত চ্যালেঞ্জ
দক্ষিণ ২৪ পরগনা থেকে শুরু হওয়া এই সংকট যদি আরও জেলাগুলিতে ছড়িয়ে পড়ে, তাহলে তা সিপিএমের জন্য অত্যন্ত ক্ষতিকর হতে পারে। দলের তরুণ প্রজন্মকে দলে ধরে রাখা এবং অভ্যন্তরীণ সমস্যা সমাধানের দিকে মনোনিবেশ করা এখন রাজ্য নেতৃত্বের জন্য জরুরি।
সিপিএমের বর্তমান পরিস্থিতি দলীয় সংগঠনের কাঠামো এবং নেতৃত্বের প্রতি আস্থা নিয়ে বড় প্রশ্ন তুলছে। একদিকে অভ্যন্তরীণ দ্বন্দ্ব মেটানোর প্রয়োজন, অন্যদিকে সমর্থকদের আস্থা ধরে রাখাও বড় চ্যালেঞ্জ। যদি নেতৃত্ব এই সংকট সামলাতে সক্ষম হয়, তাহলে দল ঘুরে দাঁড়াতে পারে। অন্যথায়, সিপিএমের সাংগঠনিক দুর্বলতা আরও প্রকট হয়ে উঠবে।