তৃতীয়বার প্রেসিডেন্ট হতে চান ট্রাম্প!
মার্কিন রাজনীতিতে নতুন বিতর্কের জন্ম দিলেন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। একবার নয়, দু’বার নয়—তৃতীয়বার হোয়াইট হাউসে ফেরার পরিকল্পনা করছেন তিনি! তবে কীভাবে? সংবিধানের নিয়ম তো স্পষ্টভাবে বলে, কোনো ব্যক্তি দু’বারের বেশি প্রেসিডেন্ট হতে পারবেন না। তাহলে ট্রাম্প কি সত্যিই নিয়ম বদলানোর পথে হাঁটছেন?
রবিবার এক টেলিভিশন সাক্ষাৎকারে ট্রাম্পকে সরাসরি প্রশ্ন করা হয়েছিল, তিনি কি সত্যিই তৃতীয়বার প্রেসিডেন্ট হতে চান? প্রশ্নটি শুনে একটুও দ্বিধা না করে তিনি বলেন, “না, আমি মজা করছি না।” তবে সঙ্গে যোগ করেন, “এখনই এই নিয়ে বেশি কথা বলা একটু তাড়াহুড়ো হয়ে যাবে। কিন্তু উপায় আছে, আপনি সেটা জানেন।” তার এই বক্তব্যেই নতুন করে জল্পনা উসকে দিয়েছে মার্কিন রাজনীতিতে।
আইন কী বলছে?
দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের সময় ফ্রাঙ্কলিন ডি. রুজভেল্ট নজিরবিহীনভাবে চারবার প্রেসিডেন্ট হয়েছিলেন। এরপর ১৯৫১ সালে মার্কিন সংবিধানে ২২তম সংশোধনী এনে স্পষ্ট করে দেওয়া হয়—কোনো ব্যক্তি সর্বোচ্চ দু’বার প্রেসিডেন্ট হতে পারবেন। অর্থাৎ ২০২৪ সালে জো বাইডেনকে হারিয়ে ট্রাম্প দ্বিতীয়বার প্রেসিডেন্ট হওয়ার পর এই মেয়াদ শেষ হলেই তার আর নির্বাচনে দাঁড়ানোর সুযোগ নেই।
কিন্তু ট্রাম্পের বক্তব্যে নতুন করে সন্দেহ তৈরি হয়েছে—তিনি কি সংবিধান সংশোধনের চেষ্টা করছেন? নাকি অন্য কোনো গোপন পরিকল্পনা রয়েছে তার?
গোপন কৌশলের আভাস
সাক্ষাৎকারে ট্রাম্প যখন তৃতীয়বার প্রেসিডেন্ট হওয়ার সম্ভাবনার কথা বলেন, তখন সঞ্চালিকা তাকে একটি বিকল্প উপায়ের কথা মনে করিয়ে দেন। যদি ট্রাম্পের ঘনিষ্ঠ বর্তমান ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভান্স ভবিষ্যতে প্রেসিডেন্ট হন, তাহলে কি তিনি ট্রাম্পকে তার উত্তরসূরি হিসাবে নিয়ে আসতে পারেন?
এমন প্রশ্নের উত্তরে ট্রাম্প হেসে বলেন, “ভালো, এটা একটা উপায় হতে পারে। কিন্তু আরও উপায় আছে।”
ঠিক কী কী উপায় তিনি ভাবছেন, তা নিয়ে স্পষ্ট কিছু বলেননি। তবে রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা বলছেন, তিনি হয়তো সংবিধান সংশোধনের জন্য রিপাবলিকানদের সমর্থন আদায়ের চেষ্টা করবেন। অথবা নিজের উত্তরসূরিকে এমনভাবে নির্বাচিত করবেন, যাতে তিনিই ভবিষ্যতে ট্রাম্পকে প্রেসিডেন্ট হিসেবে ফিরিয়ে আনতে পারেন।
এটাই প্রথম নয়!
ট্রাম্পের এই ইচ্ছা নতুন কিছু নয়। জানুয়ারি মাসেও তিনি প্রকাশ্যে এক সভায় প্রশ্ন তুলেছিলেন—“আমি কি আবার প্রেসিডেন্ট হতে পারি?” তার বক্তব্যে তখন থেকেই বিতর্ক শুরু হয়েছিল। এরপর মার্চ মাসের শুরুতে মার্কিন প্রশাসনের গুরুত্বপূর্ণ নেতাদের সামনেও তিনি ইঙ্গিত দেন যে, হোয়াইট হাউসে ফেরার তার পরিকল্পনা থেমে নেই।
রাজনৈতিক প্রতিক্রিয়া
ট্রাম্পের এই মন্তব্যের পরই ডেমোক্র্যাট ও প্রগতিশীল রাজনীতিবিদরা ক্ষোভ উগড়ে দিয়েছেন। তাদের বক্তব্য, ট্রাম্প আসলে আমেরিকার গণতন্ত্রের শিকড়ে আঘাত হানতে চাইছেন। আবার রিপাবলিকানদের মধ্যেও অনেকে ভাবছেন, সংবিধান সংশোধন করা মোটেই সহজ কাজ নয়।
তবে ট্রাম্পের সমর্থকদের একটা বড় অংশ মনে করেন, তিনি আবারও হোয়াইট হাউসে ফিরলে মার্কিন প্রশাসন আরও শক্তিশালী হবে।
শেষ কথা
তৃতীয়বার প্রেসিডেন্ট হওয়ার জন্য ট্রাম্পের পরিকল্পনা কী, সেটি এখনো পরিষ্কার নয়। তবে তিনি এটুকু বুঝিয়ে দিয়েছেন—এটি নিছক কৌতুক নয়, বরং তার রাজনৈতিক উচ্চাকাঙ্ক্ষারই বহিঃপ্রকাশ। এখন দেখার বিষয়, তিনি তার পরিকল্পনা বাস্তবায়িত করতে পারেন কি না, এবং আমেরিকার গণতান্ত্রিক কাঠামো এর বিরুদ্ধে কতটা প্রতিরোধ গড়ে তোলে!
প্রশান্ত মহাসাগরের দ্বীপপুঞ্জে ভূমিকম্পের তাণ্ডব! সুনামির আশঙ্কা