তিব্বতের পাহাড় থেকে মহাকাশে রকেট!
মহাকাশ প্রযুক্তিতে আরও এক ধাপ এগোতে নতুন পরিকল্পনা নিয়ে কাজ করছে চিন। প্রচলিত রকেট উৎক্ষেপণ পদ্ধতির বিকল্প হিসেবে তারা তৈরি করছে তড়িচ্চুম্বকীয় (Electromagnetic) উৎক্ষেপণ ব্যবস্থা। সব কিছু পরিকল্পনামাফিক এগোলে আগামী কয়েক বছরের মধ্যেই এই প্রযুক্তির পরীক্ষামূলক ব্যবহার শুরু হতে পারে। তবে বিশেষজ্ঞদের মতে, এটি এখনও গবেষণার পর্যায়ে রয়েছে এবং বাস্তবে কার্যকর করতে বহু প্রযুক্তিগত ও আর্থিক চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা করতে হবে।
বর্তমানে কৃত্রিম উপগ্রহকে পৃথিবীর কক্ষপথে পাঠাতে শক্তিশালী রকেট ব্যবহার করা হয়। এই প্রক্রিয়ায় বিপুল পরিমাণ জ্বালানি প্রয়োজন হয় এবং উৎক্ষেপণের খরচও অত্যন্ত বেশি। যদিও পুনর্ব্যবহারযোগ্য রকেট তৈরি করে এই খরচ কিছুটা কমিয়েছে ইলন মাস্কের স্পেসএক্স, তবুও জ্বালানির ব্যবহার পুরোপুরি কমানো সম্ভব হয়নি।
এই জায়গাতেই নতুন পথ খুঁজছে চিন। তাদের পরিকল্পনা অনুযায়ী, সুপারকন্ডাক্টিং ম্যাগনেটিক লেভিটেশন ও ইলেক্ট্রোম্যাগনেটিক প্রপালশন প্রযুক্তির সাহায্যে রকেটকে প্রথমে অত্যন্ত উচ্চ গতিতে উপরের দিকে তোলা হবে। এরপর নির্দিষ্ট উচ্চতায় পৌঁছে রকেটের নিজস্ব ইঞ্জিন চালু হবে। ফলে উৎক্ষেপণের শুরুতে অনেক কম জ্বালানি প্রয়োজন হবে।
হংকংভিত্তিক সংবাদমাধ্যম South China Morning Post-এর প্রতিবেদন অনুযায়ী, বেজিংয়ের জিয়াং কমার্শিয়াল অ্যারোস্পেস লঞ্চ টেকনোলজি রিসার্চ ইনস্টিটিউট এই প্রযুক্তির প্রাথমিক পরীক্ষা চালিয়েছে। যদিও পরীক্ষার বিস্তারিত ফলাফল এখনও প্রকাশ করা হয়নি।
বিশেষজ্ঞদের ধারণা, তিব্বত মালভূমির উঁচু এলাকা এই প্রকল্পের জন্য উপযুক্ত হতে পারে। সমুদ্রপৃষ্ঠ থেকে অনেক উঁচু হওয়ায় সেখানে বায়ুমণ্ডল তুলনামূলক পাতলা। ফলে বায়ুর প্রতিরোধ কম হবে এবং তড়িচ্চুম্বকীয় উৎক্ষেপণ আরও কার্যকর হতে পারে।
এই প্রযুক্তি সফল হলে কৃত্রিম উপগ্রহ উৎক্ষেপণের গতি ও সংখ্যা উল্লেখযোগ্যভাবে বাড়তে পারে। যোগাযোগ, আবহাওয়া, নেভিগেশন এবং পৃথিবী পর্যবেক্ষণের মতো ক্ষেত্রে দ্রুত উপগ্রহ পাঠানো সম্ভব হবে। একই সঙ্গে সামরিক নজরদারি ও গোয়েন্দা সক্ষমতাও বাড়তে পারে বলে আন্তর্জাতিক মহলে আলোচনা শুরু হয়েছে।
তবে এই প্রকল্পের সামনে বড় বাধাও রয়েছে। প্রথমত, এমন একটি উৎক্ষেপণ ব্যবস্থা তৈরি করতে কয়েক হাজার কোটি ডলার ব্যয় হতে পারে। দ্বিতীয়ত, তিব্বতের মতো দুর্গম ও কঠিন পরিবেশে এত বড় তড়িচ্চুম্বকীয় অবকাঠামো দীর্ঘদিন কার্যকর রাখা সহজ হবে না। এছাড়া এই প্রযুক্তি দিয়ে ভারী রকেট উৎক্ষেপণ কতটা বাস্তবসম্মত, তা নিয়েও বিজ্ঞানীদের মধ্যে মতভেদ রয়েছে।
অন্যদিকে, ভারতের মহাকাশ গবেষণা সংস্থা ইসরোও পুনর্ব্যবহারযোগ্য রকেট এবং মানববাহী ‘গগনযান’ কর্মসূচি নিয়ে এগিয়ে চলেছে। ভবিষ্যতে কম খরচে মহাকাশ অভিযানের প্রযুক্তি উন্নয়নের ক্ষেত্রেই মূল প্রতিযোগিতা হবে বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা।
সব মিলিয়ে, চিনের এই তড়িচ্চুম্বকীয় উৎক্ষেপণ প্রযুক্তি নিঃসন্দেহে মহাকাশ গবেষণায় একটি উচ্চাকাঙ্ক্ষী উদ্যোগ। তবে এটি এখনও পরীক্ষামূলক পর্যায়ে রয়েছে। বাস্তবে কতটা সফল হবে এবং প্রচলিত রকেট প্রযুক্তির বিকল্প হয়ে উঠতে পারবে কি না, তার উত্তর মিলবে আগামী কয়েক বছরের গবেষণা ও পরীক্ষার ফলেই।
রাহার জন্মের পর দ্রুত ওজন কমিয়ে কটাক্ষের শিকার আলিয়া, কী ছিল তাঁর রহস্য?