Thursday, February 27, 2025

তাইওয়ান প্রণালীতে চীনের সামরিক মহড়া: ক্রমবর্ধমান উত্তেজনার নতুন অধ্যায়

Share

তাইওয়ান প্রণালীতে চীনের সামরিক মহড়া!

চীনের পিপলস লিবারেশন আর্মি (পিএলএ) আবারও তাইওয়ানের চারপাশে বড় ধরনের সামরিক মহড়া শুরু করেছে, যা অঞ্চলটিতে উত্তেজনা আরও বাড়িয়ে তুলেছে। পিএলএ-র ইস্টার্ন থিয়েটার কমান্ডের অধীনে এই মহড়া বুধবার শুরু হয়েছে এবং প্রথম ধাপে আকাশ ও সমুদ্রপথে যুদ্ধাভ্যাস চলবে বৃহস্পতিবার পর্যন্ত। এরপর আরও কিছুদিন ধরে এই মহড়া অব্যাহত থাকবে বলে জানা গেছে।

তাইওয়ানের পাল্টা প্রস্তুতি

চীনের এই আগ্রাসী পদক্ষেপের জবাবে তাইওয়ানও তাদের সামরিক বাহিনীকে সতর্ক অবস্থায় রেখেছে। সম্ভাব্য হানাদারি মোকাবিলা করতে দক্ষিণ উপকূলের কাওশিউং ও পিংতুং থেকে মাত্র ৪০ নটিক্যাল মাইল দূরে সেনা মোতায়েন করেছে তাইওয়ান সরকার। তাইওয়ানের প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, চীন এই মহড়ায় একটি বিমানবাহী রণতরী, এক ডজনেরও বেশি যুদ্ধজাহাজ, ডেস্ট্রয়ার এবং অন্তত ৪৫টি যুদ্ধবিমান মোতায়েন করেছে।

তাইওয়ানের অভিযোগ, “বেজিংয়ের এই একতরফা পদক্ষেপের কারণে বাণিজ্যিক বিমান ও জাহাজ চলাচলে সমস্যার সৃষ্টি হচ্ছে।” তারা এটিকে আন্তর্জাতিক আইনের লঙ্ঘন বলেও উল্লেখ করেছে।

যুক্তরাষ্ট্র ও চীনের ক্রমবর্ধমান বিরোধ

সম্প্রতি তাইওয়ান ইস্যুতে চীন ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে উত্তেজনা আরও বেড়েছে। মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র দীর্ঘদিন ধরেই তাইওয়ানের পক্ষে সমর্থন জানিয়ে আসছে। বিশেষ করে ২০২৫ সালের শুরুর দিকে সাবেক মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের প্রশাসনের সময় যুক্তরাষ্ট্রের সপ্তম নৌবহরের দুটি যুদ্ধজাহাজ তাইওয়ান প্রণালী দিয়ে প্রবেশ করেছিল, যা চীনের জন্য উদ্বেগের কারণ হয়ে দাঁড়ায়।

অন্যদিকে, ২০২৪ সালে তাইওয়ানের সাধারণ নির্বাচনে কট্টর বেইজিং-বিরোধী ডেমোক্র্যাটিক প্রগ্রেসিভ পার্টি (ডিপিপি) পুনরায় ক্ষমতায় আসে। এই রাজনৈতিক পরিবর্তনের পর চীন তাইওয়ানের ওপর চাপ বাড়িয়েছে এবং সামরিক মহড়ার মাত্রা আরও বৃদ্ধি করেছে।

তাইওয়ানকে নিজেদের অংশ দাবি করছে চীন

চীন বরাবরই তাইওয়ানকে নিজেদের ভূখণ্ড বলে দাবি করে এসেছে। তাদের মতে, এটি একটি বিদ্রোহী অঞ্চল এবং প্রয়োজনে বলপ্রয়োগ করেও তারা তাইওয়ানকে নিজেদের মূল ভূখণ্ডের সঙ্গে যুক্ত করবে।

২০২২ সালে মার্কিন কংগ্রেসের নিম্নকক্ষ প্রতিনিধি পরিষদের স্পিকার ন্যান্সি পেলোসি চীনের আপত্তি উপেক্ষা করে তাইওয়ান সফর করেছিলেন। এরপর থেকেই তাইওয়ান প্রণালীতে চীনের সামরিক তৎপরতা ব্যাপকভাবে বেড়ে যায়। চীনা যুদ্ধবিমান নিয়মিতভাবে তাইওয়ানের আকাশসীমা লঙ্ঘন করতে শুরু করে। যদিও মাঝখানে কিছুটা শান্তি ফিরে এসেছিল, তবে সাম্প্রতিক সপ্তাহগুলোতে চীনা প্রেসিডেন্ট শি জিনপিং আবারও বলেছেন যে, “তাইওয়ানকে মূল ভূখণ্ডের সঙ্গে একীভূত করা হবে, প্রয়োজনে বলপ্রয়োগ করা হবে।”

পরিস্থিতি কোনদিকে যাচ্ছে?

বিশ্লেষকদের মতে, তাইওয়ান প্রণালীতে এই সামরিক উত্তেজনা শুধু চীন-তাইওয়ান নয়, বরং যুক্তরাষ্ট্রসহ পশ্চিমা বিশ্বের জন্যও উদ্বেগের কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। তাইওয়ানের প্রতি যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক সমর্থন এবং চীনের ক্রমবর্ধমান আগ্রাসন বিশ্ব রাজনীতিতে নতুন উত্তেজনার জন্ম দিতে পারে।

চীনের এই সামরিক মহড়া শুধুমাত্র শক্তি প্রদর্শনের জন্য নাকি ভবিষ্যতে আরও বড় কোনো সংঘাতের ইঙ্গিত দিচ্ছে, সেটাই এখন দেখার বিষয়।

গঙ্গায় ট্রলি ব্যাগে লাশ ফেলতে গিয়ে হাতেনাতে ধরা মা-মেয়ে! কী বলল জেরায়?

Read more

Local News