ডিম্বাণুর জন্য লড়াই নয়, দল বেঁধেই সাফল্য! কিছু প্রাণীর শুক্রাণুর অদ্ভুত কৌশল ধরলেন বিজ্ঞানীরা

ডিম্বাণুর জন্য লড়াই নয়, দল বেঁধেই সাফল্য!! ডিম্বাণুতে পৌঁছনোর জন্য লক্ষ লক্ষ শুক্রাণুর মধ্যে তীব্র প্রতিযোগিতা চলে— এমন ধারণাই এত দিন বেশি প্রচলিত ছিল। কিন্তু নতুন গবেষণায় বিজ্ঞানীরা দেখেছেন, সব…

August 8, 2026
1 min read

ডিম্বাণুর জন্য লড়াই নয়, দল বেঁধেই সাফল্য!!

ডিম্বাণুতে পৌঁছনোর জন্য লক্ষ লক্ষ শুক্রাণুর মধ্যে তীব্র প্রতিযোগিতা চলে— এমন ধারণাই এত দিন বেশি প্রচলিত ছিল। কিন্তু নতুন গবেষণায় বিজ্ঞানীরা দেখেছেন, সব প্রাণীর ক্ষেত্রে ছবিটা এক নয়। কিছু সন্ধিপদ প্রাণীর শুক্রাণু বরং পরস্পরের সঙ্গে প্রতিযোগিতা না করে দলবদ্ধ ভাবে এগিয়ে যায়। আর সেই সহযোগিতাই তাদের সফল নিষেকের সম্ভাবনা বাড়িয়ে দেয়।

নিউ ইয়র্কের সিরাকিউস বিশ্ববিদ্যালয় এবং ইটালির সিয়েনা বিশ্ববিদ্যালয়ের গবেষকেরা বিভিন্ন প্রাণীর শুক্রাণুর আচরণ নিয়ে পরীক্ষা চালিয়েছেন। মাকড়সা, কাঁকড়া, কেন্নো এবং বিছের মতো শতাধিক সন্ধিপদ প্রাণীকে নিয়ে গবেষণা করে তাঁরা এমন বৈশিষ্ট্যের সন্ধান পেয়েছেন। গবেষকদের মতে, এই প্রাণীদের ক্ষেত্রে ডিম্বাণু পর্যন্ত পৌঁছনোর পথে একে অপরকে পিছনে ফেলে দেওয়ার বদলে শুক্রাণুরা অনেক সময় একসঙ্গে কাজ করে।

বিষয়টি বোঝাতে বিজ্ঞানীরা অনেকটা নৌকার মাঝিদের উদাহরণ দিয়েছেন। এক জন আর এক জনকে হারানোর চেষ্টা না করে যেমন সবাই একই ছন্দে দাঁড় টানলে নৌকা দ্রুত এগোয়, কিছু প্রাণীর শুক্রাণুও তেমন ভাবেই একসঙ্গে এগিয়ে যায়। ফলে স্ত্রী প্রাণীর জনননালির জটিল ও প্রতিকূল পরিবেশ পেরিয়ে ডিম্বাণুর কাছে পৌঁছনোর ক্ষেত্রে তারা বাড়তি সুবিধা পেতে পারে।

এই ধরনের সহযোগিতার ইঙ্গিত অবশ্য একেবারে নতুন নয়। প্রায় এক শতাব্দী আগে বিজ্ঞানীরা কিছু প্রাণীর শুক্রাণুর মধ্যে এমন আচরণের কথা লক্ষ্য করেছিলেন। তবে সেই গবেষণা খুব বেশি দূর এগোয়নি। সম্প্রতি বিষয়টি নতুন করে খতিয়ে দেখে গবেষকেরা তাঁদের ফলাফল প্রকাশ করেছেন ‘নেচার কমিউনিকেশনস’ পত্রিকায়।

সিরাকিউস বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক স্টিভ ডোরাসের বক্তব্য, নিষেককে সাধারণত শুক্রাণুদের মধ্যে প্রতিযোগিতার ফল হিসাবেই দেখা হয়। কিন্তু প্রকৃতিতে এমন বহু উদাহরণ রয়েছে, যেখানে শুক্রাণুরা পরস্পরের সহযোগী হয়ে কাজ করে।

গবেষকেরা শুধু বর্তমান সময়ের প্রাণীদের আচরণই দেখেননি। বিভিন্ন পুরনো গবেষণাপত্র বিশ্লেষণ করে তাঁরা বুঝতে চেয়েছেন, বিবর্তনের পথে কখন শুক্রাণুর এই সহযোগিতামূলক আচরণ তৈরি হয়েছিল এবং কী ভাবে তা বদলেছে। তাঁদের বিশ্লেষণে প্রায় ৬০ কোটি বছরের বিবর্তনের একটি ছবি উঠে এসেছে।

গবেষক আন্তোনিও গোমেজ়ের মতে, সন্ধিপদ প্রাণীদের বিবর্তনের ইতিহাসে শুক্রাণু কখনও সহযোগী, আবার কখনও প্রতিযোগী হয়ে উঠেছে। অর্থাৎ, এই আচরণ সব সময় একই রকম ছিল না। কোনও কোনও সময়ে সহযোগিতার বৈশিষ্ট্য তৈরি হয়েছে, পরে তা হারিয়েও গিয়েছে এবং আবার ফিরে এসেছে।

বিজ্ঞানী স্কট পিটনিকের মতে, শুক্রাণু অত্যন্ত দ্রুত বিবর্তিত হয়। স্ত্রী প্রাণীর জনননালির কঠিন পরিবেশে টিকে থাকার চ্যালেঞ্জই হয়তো তাদের এই পরিবর্তনের অন্যতম কারণ।

এই গবেষণার গুরুত্ব শুধু প্রাণীদের প্রজনন বোঝার মধ্যেই সীমাবদ্ধ নয়। বিজ্ঞানীদের আশা, শুক্রাণুর আচরণ এবং বিবর্তন সম্পর্কে আরও পরিষ্কার ধারণা ভবিষ্যতে প্রজনন-সংক্রান্ত সমস্যার গবেষণায় কাজে লাগতে পারে। একই সঙ্গে কিছু ক্ষতিকর কীটপতঙ্গ নিয়ন্ত্রণের নতুন কৌশল খুঁজে পেতেও এই গবেষণা সহায়ক হতে পারে।

রাহার জন্মের পর দ্রুত ওজন কমিয়ে কটাক্ষের শিকার আলিয়া, কী ছিল তাঁর রহস্য?।

Follow us on Google News Get real-time updates & exclusive sports coverage
Follow

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *