ডিউক বল নিয়ে বিতর্ক!
ভারত-ইংল্যান্ড টেস্ট সিরিজে ক্রিকেটের আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে উঠে এসেছে ডিউক বলের মান। ভারতীয় দলের খেলোয়াড়রা বারবার অভিযোগ তুলেছেন, ম্যাচের শুরুতেই বল দ্রুত নরম হয়ে যাচ্ছে, আকারও বিকৃত হচ্ছে। এমনকি ম্যাচ চলাকালীন একাধিকবার আম্পায়ারদের বল বদলাতে হয়েছে। ঋষভ পন্থের এক ঘটনায় উত্তেজনা আরও বেড়েছে—তিনি এক পর্যায়ে বল মাঠে ছুঁড়ে ফেলেন এবং ম্যাচ ফি কেটে জরিমানা গুনতে হয় তাঁকে।
ভারতীয় অধিনায়ক শুভমন গিল ও অন্যান্য বোলাররাও একই অভিযোগ তুলেছেন। সিরাজ প্রশ্ন তোলেন, “এটা কি সত্যিই ১০ ওভারের পুরনো বল?” বুমরাহের প্রতিক্রিয়াও অসন্তোষ প্রকাশ করেছে। এই পরিস্থিতিতে ম্যাচে ব্যাটাররা সুবিধা পেলেও বোলাররা সমস্যায় পড়ছেন। শুধু ভারতই নয়, ইংল্যান্ডের অধিনায়ক বেন স্টোকসও জানিয়েছেন যে, গত কয়েক বছর ধরে প্রায় সব দলই ইংল্যান্ডে গিয়ে বলের মান নিয়ে অসন্তুষ্টি প্রকাশ করেছে।
ডিউক বলের এই বিতর্ক নতুন নয়। ২০২২ সালে ইংল্যান্ডের প্রাক্তন পেসার স্টুয়ার্ট ব্রড প্রথম বলেছিলেন, “এই বলে একটু চাপ দিলেই আকার বদলে যাচ্ছে।” এবার আবারও সেই অভিযোগ উঠে এসেছে, প্রথম তিনটি টেস্টেই একাধিকবার বল বদলাতে বাধ্য হন আম্পায়াররা। অথচ ডিউকের রয়েছে দীর্ঘ ইতিহাস। ১৭৬০ সালে টিমোথি ডিউক নামের এক জুতো প্রস্তুতকারক কেন্টে এই বল বানানো শুরু করেন। ১৭৭৫ সালে ইংল্যান্ডের রাজপরিবারের প্রতীক ব্যবহারের অনুমতিও পান তিনি। বর্তমানে ডিউকের মালিক দিলীপ জাজোদিয়া, যিনি ১৯৮৭ সালে সংস্থার দায়িত্ব নেন। ডিউক বল এখনও একমাত্র হাতে সেলাই করা বল, যেখানে কোকাবুরা বা এসজি বল সেলাই হয় মেশিনে।
দিলীপ জানান, প্রতিটি ডিউক বল তৈরি হয় গরুর চামড়া থেকে, আর প্রতিটি চামড়া থেকে মাত্র ১৫টি বল তৈরি করা যায়। তিনি বলেন, “আমরা শুধু গরুর পিঠের চামড়া ব্যবহার করি, কারণ সেটাই সবচেয়ে টেকসই।” তবুও এই বিতর্কের জেরে তিনি স্বীকার করেছেন যে, কোভিড-১৯ মহামারীর সময় বল তৈরির প্রক্রিয়ায় প্রভাব পড়েছে।
২৬৫ বছরের ঐতিহ্যের এই হাতে তৈরি বল এখন প্রশ্নের মুখে। সিরিজে ব্যাটারদের রেকর্ড রান, বলের দ্রুত নরম হয়ে যাওয়া এবং আকারের পরিবর্তন ক্রিকেট দুনিয়ায় নতুন করে আলোচনার জন্ম দিয়েছে। আগামী দিনে ডিউক বল কি আবার তার আগের মান ফিরে পাবে, সেটাই এখন দেখার।