ডায়েট বা ব্যায়াম ছাড়াই কমবে ওজন!!
ওজন কমাতে গিয়ে কেউ হাঁপিয়ে যাচ্ছেন ব্যায়ামের চাপে, কেউ আবার ক্লান্ত কঠোর ডায়েট মেনে চলতে গিয়ে। ভোরবেলা উঠে দৌড়, হাঁটাহাঁটি কিংবা ক্যালোরি গোনা সব সময় বাস্তবসম্মত নয়—এ কথা মানছেন বহু চিকিৎসক ও ফিটনেস প্রশিক্ষকও। তাই কি ওজন কমানো অসম্ভব? মোটেই নয়! গবেষণা বলছে, কিছু সাধারণ জীবনধারার পরিবর্তন করেই সম্ভব ধীরে ধীরে ওজন কমানো—তা সে ব্যায়াম বা কঠিন ডায়েট ছাড়াই হোক না কেন।
সহজ অভ্যাসেই মিলতে পারে সুফল
ওয়াশিংটনের বেলিংঘাম অ্যাথলেটিক ক্লাবের জনপ্রিয় ফিটনেস কোচ ড্যানিয়েল ম্যাসনের মতে, শরীরচর্চার জন্য সময় না থাকলেও, কিছু কার্যকরী অভ্যাস ওজন কমাতে পারে। বিশেষ করে, যাঁরা প্রতিদিন রুটিন মেনে ডায়েট করতে পারেন না বা একঘেয়েমিতে বিরক্ত হয়ে উঠেছেন—তাঁদের জন্য রয়েছে কিছু সোজাসাপ্টা কিন্তু কার্যকর উপায়।
বরফজল খাওয়ার অভ্যাস
সকালে উঠে অনেকে লেবু জল খান, কিন্তু ড্যানিয়েল বলছেন—বরং বরফ দেওয়া জল খাওয়ার চেষ্টা করুন। এতে শরীর ঠান্ডা হয়, হজম শক্তি বাড়ে এবং পেটের ফোলাভাব কমে। তবে কারও সাইনাস বা ঠান্ডা লাগার প্রবণতা থাকলে চিকিৎসকের পরামর্শ নিয়ে তবেই এই পদ্ধতি অবলম্বন করা উচিত।
সিঁড়ি ভাঙুন, লিফ্ট নয়
লিফ্ট এড়িয়ে বাড়ি বা অফিসে সিঁড়ি ব্যবহার করুন। এই ছোট্ট পরিবর্তনও আপনার কার্ডিও ব্যায়ামের বিকল্প হয়ে উঠতে পারে। এতে দ্রুত ক্যালোরি খরচ হয় ও পায়ের পেশি শক্তিশালী হয়।
বসে নয়, দাঁড়িয়ে ফোনে কথা বলুন
ঘণ্টার পর ঘণ্টা চেয়ারে বসে কাজ করা বা ফোনে কথা বলার অভ্যাস মেদবৃদ্ধির অন্যতম কারণ। যতটা সম্ভব দাঁড়িয়ে ফোনে কথা বলুন বা ঘরে হাঁটাহাঁটি করুন। এর ফলে শরীর সচল থাকবে, রক্তচলাচল বাড়বে এবং অতিরিক্ত চর্বি জমার আশঙ্কা কমবে।
চুয়িং গাম চিবোন
খিদে পেলে খাবার খাওয়ার পরিবর্তে ‘সুগার ফ্রি’ চুয়িং গাম চিবোন। এতে মুখ চলে, কিন্তু ক্যালোরি গ্রহণ হয় না। সেই সঙ্গে মিষ্টি বা জাঙ্ক ফুড খাওয়ার ইচ্ছাও কমে যায়।
ছোট প্লেটের কৌশল
ছোট প্লেটে অল্প খাবার নিয়ে তা ধীরে ধীরে চিবিয়ে খাওয়ার অভ্যাস গড়ে তুলুন। এতে মস্তিষ্ক খাবারের পরিমাণ দ্রুত বোঝে, ফলে অতিরিক্ত খাওয়ার প্রবণতা কমে যায়। পাশাপাশি হজমও হয় ভাল।
কফি বা চায়ে দারচিনি
প্রতিদিন এক চা চামচ দারচিনি গুঁড়ো মিশিয়ে খালি চায়ে বা কালো কফিতে খেলে হজমশক্তি বাড়ে এবং কোমরের চর্বি কমতে থাকে। বিভিন্ন সমীক্ষায়ও এই অভ্যাসের উপকারিতা প্রমাণিত হয়েছে।
এই সমস্ত পদ্ধতিই খুব সাধারণ, কিন্তু প্রতিদিনের জীবনে রপ্ত করে নিলে তা ধীরে ধীরে ওজন হ্রাসে সাহায্য করতে পারে। মেদ ঝরানো মানেই যে ঘাম ঝরিয়ে ব্যায়াম করতে হবে বা মুখ বন্ধ করে কঠোর ডায়েট মেনে চলতে হবে—তা নয়। প্রয়োজন শুধু সচেতনতা, সামান্য পরিকল্পনা আর ধৈর্য। তাহলে আপনিও পেয়ে যেতে পারেন কাঙ্ক্ষিত শরীর, তা কোনও রকম বাড়তি ঝক্কি ছাড়াই।
গলওয়ান উপত্যকায় রক্তাক্ত সলমন খান! ভাইজানের নতুন ছবির পেছনে রয়েছে ভারতের সাহসী ইতিহাস