ট্রাম্পের ‘পাল্টা শুল্ক’ ঘোষণার অপেক্ষায় বিশ্ব!
বুধবার আমেরিকার স্থানীয় সময় বিকেল ৪টেয় (ভারতে মধ্যরাত) মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প আনুষ্ঠানিকভাবে ‘পাল্টা শুল্ক’ ঘোষণা করবেন। তার সিদ্ধান্ত কী হবে, কোন দেশ কতটা শুল্কের খাঁড়ার নিচে পড়বে, সেটাই এখন গোটা বিশ্বের নজরে। বিশেষত, ভারত এই ঘোষণার পরই তার পরবর্তী কৌশল ঠিক করবে।
কেন এই পাল্টা শুল্ক?
ট্রাম্প প্রশাসনের মতে, যে দেশ আমেরিকার পণ্যে শুল্ক বসাচ্ছে, সেই দেশগুলোর পণ্যে আমেরিকাও সমপরিমাণ শুল্ক আরোপ করবে। এই পদক্ষেপকে তিনি “আমেরিকার মুক্তি দিবস” বলেও ঘোষণা করেছেন। এর ফলে ভারতসহ অনেক দেশের বাণিজ্য নীতি এবং অর্থনীতির উপর গভীর প্রভাব পড়তে পারে।
কী বলছে হোয়াইট হাউস?
হোয়াইট হাউসের এক বিবৃতিতে জানানো হয়েছে, ট্রাম্পের ঘোষণার পরই শুল্ক কার্যকর হবে। অর্থাৎ, এই সিদ্ধান্তে তাৎক্ষণিক প্রতিক্রিয়া না দিয়ে ভারতকে দ্রুত সিদ্ধান্ত নিতে হতে পারে।
হোয়াইট হাউসের প্রেস সচিব ক্যারোলিন লেভিট জানান,
“আমেরিকার অর্থনৈতিক স্বার্থ রক্ষায় ট্রাম্প একাধিক উপদেষ্টাদের সঙ্গে দীর্ঘ আলোচনা করেছেন। যদি কোনও দেশ তাদের পণ্যে শুল্ক হ্রাস করতে চায়, তবে তারা ট্রাম্পের সঙ্গে সরাসরি যোগাযোগ করতে পারে।”
এই ঘোষণার ফলে বিশ্ববাজারে উত্তেজনা এবং অনিশ্চয়তা বেড়ে গিয়েছে।
ভারতের উপর কী প্রভাব পড়তে পারে?
আমেরিকার তথ্য অনুযায়ী, বিভিন্ন দেশ তাদের পণ্যে যেভাবে শুল্ক বসায়, তা হলো—
- ইউরোপীয় ইউনিয়ন: আমেরিকার দুগ্ধজাত পণ্যে ৫০% শুল্ক
- জাপান: আমেরিকার চাল আমদানিতে ৭০০% শুল্ক
- ভারত: আমেরিকার কৃষিজাত পণ্যে ১০০% শুল্ক
- কানাডা: আমেরিকার দুগ্ধজাত পণ্যে ৩০০% শুল্ক
বিশেষজ্ঞদের অনুমান, ট্রাম্প এই দেশগুলোর রপ্তানিকৃত পণ্যে সমপরিমাণ পাল্টা শুল্ক বসাতে পারেন। ফলে ভারতের জন্য এটি বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে উঠতে পারে।
ভারতের পরিকল্পনা কী?
ভারত এই মুহূর্তে ধীরে চলো নীতিতে এগোচ্ছে। ‘হিন্দুস্তান টাইমস’-এর প্রতিবেদনে ভারতের এক শীর্ষ সরকারি কর্মকর্তা বলেন,
“আমরা এখনই কোনও মন্তব্য করতে চাই না। আগে ট্রাম্পের ঘোষণা শোনা হবে, তারপর দেখা হবে ভারতের বাণিজ্যে কী প্রভাব পড়ছে।”
সোমবার ট্রাম্প ইঙ্গিত দিয়েছিলেন যে ভারত সম্ভবত শুল্ক হার কমাতে পারে। তবে নয়াদিল্লি এখনও আনুষ্ঠানিকভাবে কিছু ঘোষণা করেনি।
ভারতের সম্ভাব্য পদক্ষেপ
১. প্রথমেই পরিস্থিতি বিশ্লেষণ: ট্রাম্পের ঘোষণার বিস্তারিত তথ্য সংগ্রহ করে সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।
2. কূটনৈতিক আলোচনা: ভারতের শুল্ক নীতিতে পরিবর্তন হলে, মার্কিন প্রশাসনের সঙ্গে আলোচনায় বসা হতে পারে।
3. বিকল্প বাজারের সন্ধান: আমেরিকার পরিবর্তে ইউরোপ, মধ্যপ্রাচ্য বা দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার বাজারে রপ্তানি বাড়ানো হতে পারে।
4. শুল্ক প্রতিশোধ?: আমেরিকার সিদ্ধান্ত ভারতীয় ব্যবসার উপর গুরুতর প্রভাব ফেললে, ভারতও আমেরিকার কিছু পণ্যে শুল্ক বাড়াতে পারে।
বিশ্বের নজর এখন ট্রাম্পের ঘোষণার দিকে
বুধবার মধ্যরাতে ট্রাম্প কী বলেন, বিশ্ববাণিজ্যে কী পরিবর্তন আসে, ভারত কী সিদ্ধান্ত নেয়—সেটাই এখন সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন। ভারতের অর্থনীতি ও বাণিজ্যের জন্য এটি একটি বড় পরীক্ষা হতে চলেছে।
প্রেমের ইঙ্গিত না গোপন বার্তা? দেবচন্দ্রিমার ‘জিবলি’ ছবিতে রহস্যময় প্রেমিক!