টেট-জটে শিক্ষকদের চাপ বাড়ছে!
টেট সংক্রান্ত জটিলতা কাটাতে পশ্চিমবঙ্গ সরকারকে সক্রিয় হওয়ার আবেদন জানালেন শিক্ষকদের একাংশ। তাঁদের প্রশ্ন, তামিলনাড়ু সরকার যদি দীর্ঘদিন কর্মরত শিক্ষকদের জন্য বিশেষ পদক্ষেপের কথা ভাবতে পারে, তবে পশ্চিমবঙ্গ কেন একই পথে এগোতে পারবে না?
শিক্ষকদের সংগঠনগুলির অভিযোগ, দীর্ঘদিন ধরে তাঁরা টেট সংক্রান্ত সমস্যার সমাধানের দাবি জানিয়ে আন্দোলন করলেও রাজ্য বা কেন্দ্রীয় স্তরে এখনও কার্যকর কোনও সমাধান হয়নি। তাই আগামী সেপ্টেম্বর থেকে দিল্লির যন্তর মন্তরেও আন্দোলনের পরিকল্পনা করা হচ্ছে।
গত বছর সুপ্রিম কোর্টের এক রায়ে প্রাথমিক ও উচ্চপ্রাথমিক স্তরের শিক্ষকদের জন্য টেট উত্তীর্ণ হওয়াকে ন্যূনতম যোগ্যতা হিসেবে গুরুত্ব দেওয়া হয়। নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে টেট উত্তীর্ণ না হলে বহু শিক্ষক চাকরি ও অন্যান্য সরকারি সুযোগ-সুবিধা নিয়ে অনিশ্চয়তার মুখে পড়তে পারেন। পরে সময়সীমা আরও এক বছর বাড়ানো হলেও সমস্যা পুরোপুরি মেটেনি। তবে যাঁদের অবসরের পাঁচ বছরেরও কম সময় বাকি, তাঁদের ক্ষেত্রে বিশেষ ছাড়ের কথাও বলা হয়েছে।
এই পরিস্থিতিতে সারা দেশের প্রায় ২০ লক্ষ শিক্ষক প্রভাবিত হতে পারেন বলে দাবি আন্দোলনকারীদের। পশ্চিমবঙ্গেই এমন শিক্ষকের সংখ্যা প্রায় ৯০ হাজার বলে তাঁদের অনুমান।
শিক্ষকদের নজর এখন তামিলনাড়ুর দিকে। সেখানে দীর্ঘদিন কর্মরত এবং ২০১০ সালের ২৩ অগস্টের আগে নিযুক্ত প্রাথমিক ও উচ্চপ্রাথমিক শিক্ষকদের টেট বাধ্যবাধকতা থেকে ছাড় দেওয়ার লক্ষ্যে সরকার বিধানসভায় প্রস্তাব পাশ করেছে বলে জানা গিয়েছে। কেন্দ্রীয় সরকারের কাছে শিক্ষার অধিকার আইনের সংশোধনের আবেদনও জানানো হয়েছে।
এই উদাহরণ সামনে রেখে শিক্ষানুরাগী ঐক্যমঞ্চের সাধারণ সম্পাদক কিংকর অধিকারী পশ্চিমবঙ্গের স্কুলশিক্ষামন্ত্রী দীপক বর্মনকে চিঠি দিয়ে একই ধরনের উদ্যোগ নেওয়ার আবেদন জানিয়েছেন। তাঁদের বক্তব্য, বহু শিক্ষক ১৫ থেকে ২০ বছর ধরে স্কুলে পড়াচ্ছেন। এখন টেট পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হতে না পারলে দীর্ঘ কর্মজীবনের পর তাঁদের প্রাপ্য সুযোগ-সুবিধা নিয়ে প্রশ্ন উঠতে পারে।
বিভিন্ন শিক্ষক সংগঠনও আন্দোলন চালিয়ে যাওয়ার কথা জানিয়েছে। বঙ্গীয় শিক্ষক ও শিক্ষাকর্মী সমিতি, নিখিলবঙ্গ প্রাথমিক শিক্ষক সমিতি এবং অন্যান্য সংগঠনের দাবি, রাজ্য ও কেন্দ্র—দুই সরকারেরই দ্রুত এই বিষয়ে স্পষ্ট অবস্থান নেওয়া উচিত।
সব মিলিয়ে টেট-জট এখন পশ্চিমবঙ্গের কয়েক হাজার শিক্ষকের ভবিষ্যতের সঙ্গে জড়িয়ে গিয়েছে। তামিলনাড়ুর পদক্ষেপকে সামনে রেখে তাই রাজ্য সরকারের কাছে দ্রুত সমাধানের দাবি ক্রমশ জোরালো হচ্ছে।
রাহার জন্মের পর দ্রুত ওজন কমিয়ে কটাক্ষের শিকার আলিয়া, কী ছিল তাঁর রহস্য?।