বিশ্ব দাবা কাপে সেমিফাইনালে দিব্যা দেশমুখ!
এক মুহূর্তের ভুল মানেই খেলা শেষ। আর একটুও চঞ্চল হলেই হার নিশ্চিত। তবু সেই দুঃসহ চাপকে উপেক্ষা করে আত্মবিশ্বাস আর কৌশলের অসাধারণ প্রদর্শনে ফিদে বিশ্ব মহিলা দাবা কাপে পৌঁছে গেলেন দিব্যা দেশমুখ। অভিজ্ঞ গ্র্যান্ডমাস্টার হারিকা দ্রোণাভালিকে টাইব্রেকারে হারিয়ে তিনি জায়গা করে নিলেন সেমিফাইনালে।
১৮ বছরের দিব্যা শুরু থেকেই ছিলেন তুখোড় ছন্দে। তবে কোয়ার্টার ফাইনালের এই ম্যাচ ছিল যেন ধৈর্যের পরীক্ষাস্থল। কারণ প্রতিপক্ষ ছিলেন ভারতীয় দাবার এক অভিজ্ঞ মুখ, বহু আন্তর্জাতিক আসরে দেশের মুখ উজ্জ্বল করা হারিকা। টাইব্রেকারে দাঁড়িয়ে সেই ম্যাচে একের পর এক চালে চাপ তৈরি করেন দিব্যা। অবশেষে স্নায়ুযুদ্ধের মধ্যে দিয়েই জয় ছিনিয়ে নেন তরুণী।
দুই রাউন্ডের মূল ম্যাচে ফলাফল সমানে সমানে থাকায় গড়ায় টাইব্রেকারে। আর সেইখানেই নিজের সাহসিকতা, বিশ্লেষণ ক্ষমতা এবং ঘুঁটি চালনায় স্নায়ুর জোরে বাজিমাত করেন দিব্যা। এই জয়ের ফলে তিনি শুধু সেমিফাইনালেই পৌঁছননি, বরং ভারতের অন্যতম দাবা প্রতিভা হিসেবে নিজেকে আরও একবার প্রমাণ করলেন।
উল্লেখ্য, দিব্যার এই জয় মোটেই আকস্মিক নয়। তিনি এর আগেও বেশ কিছু আন্তর্জাতিক প্রতিযোগিতায় চমক দেখিয়েছেন। তবে এই বিশ্বকাপের মঞ্চে তাঁর এই সাফল্য নিঃসন্দেহে তাঁর কেরিয়ারের অন্যতম সেরা অর্জন। দ্বিতীয় তরুণতম ভারতীয় হিসেবে মহিলা দাবা বিশ্বকাপের সেমিফাইনালে পৌঁছনোর গৌরব অর্জন করলেন তিনি।
হারিকার কাছে হার অনেকটাই কষ্টের। দীর্ঘদিন ধরেই তিনি ভারতীয় মহিলা দাবার মুখ। কিন্তু এদিনের ম্যাচে দিব্যার ধারাবাহিক চাপ এবং কঠিন কৌশলের কাছে তাঁকে হার মানতেই হল। দু’জনেই ছিলেন চাপে, কিন্তু শেষ পর্যন্ত যিনি ঘুঁটি চালানোর সাহস দেখাতে পারেন, জয় তাঁর দখলে যায়—এদিন সেটাই ফের প্রমাণ হল।
দিব্যার সাফল্যের খবরে ভারতীয় দাবাপ্রেমীরা উচ্ছ্বসিত। সোশ্যাল মিডিয়ায় শুভেচ্ছার বন্যা বইছে। অনেকেই তাঁকে ভবিষ্যতের বিশ্ব চ্যাম্পিয়নের আসনে দেখছেন। তবে দিব্যা এখনও শান্ত। এক সংবাদমাধ্যমকে দেওয়া প্রতিক্রিয়ায় তিনি বলেন, “খুব কঠিন ম্যাচ ছিল। হারিকাদির বিরুদ্ধে খেলাটা সবসময়ই একটা বড় চ্যালেঞ্জ। কিন্তু আমি নিজের খেলায় মনোযোগ রাখতে চেয়েছিলাম। সেমিফাইনালে ওঠার অনুভূতি দারুণ, কিন্তু এখন ফোকাস রাখতে হবে পরবর্তী ম্যাচে।”
এবার সেমিফাইনালে দিব্যার প্রতিপক্ষ ইউক্রেনের শক্তিশালী প্রতিযোগী। কিন্তু নিজের মাটিতে থেকে খেলা এই তরুণী এখন যে কারও সঙ্গে সমানতালে পাল্লা দিতে প্রস্তুত। তাঁর হাল না ফেলার মানসিকতা এবং দৃঢ় আত্মবিশ্বাসই তাঁকে ভারতের দাবা মানচিত্রে এক নতুন আশার প্রতীক করে তুলছে।
এই জয় শুধু দিব্যার ব্যক্তিগত নয়, এটি নতুন প্রজন্মের তরুণ-তরুণীদের প্রেরণাও। প্রমাণ করে, বয়স নয়—মন আর মেধাই আসল অস্ত্র দাবার মতন খেলায়। আর দিব্যা দেশমুখ সে অস্ত্রের সঠিক ব্যবহার করেই আজ ভারতের গর্ব।
ত্বকে চাই উজ্জ্বল জেল্লা? গরমে রোজ খান এই ‘গোলাপজল মিশ্রিত পানীয়’