ঝাল নাড়ু থেকে মোহনথাল, ধনিয়া পঞ্জীরী থেকে কালো চালের পায়েস— রাজ্যভেদে কৃষ্ণের ভোগের থালায় কী থাকে?

রাজ্যভেদে কৃষ্ণের ভোগের থালায় কী থাকে? জন্মাষ্টমী মানেই শুধু পুজো নয়, কৃষ্ণকে ঘিরে নানা রাজ্যের নিজস্ব সংস্কৃতি, লোকাচার এবং খাবারেরও উৎসব। মথুরা-বৃন্দাবনের প্যাঁড়া থেকে বাংলার তালের বড়া, মহারাষ্ট্রের গোপালকালা কিংবা…

September 5, 2026
1 min read

রাজ্যভেদে কৃষ্ণের ভোগের থালায় কী থাকে?

জন্মাষ্টমী মানেই শুধু পুজো নয়, কৃষ্ণকে ঘিরে নানা রাজ্যের নিজস্ব সংস্কৃতি, লোকাচার এবং খাবারেরও উৎসব। মথুরা-বৃন্দাবনের প্যাঁড়া থেকে বাংলার তালের বড়া, মহারাষ্ট্রের গোপালকালা কিংবা মণিপুরের কালো চালের পায়েস— দেশের বিভিন্ন প্রান্তে গোপালের ভোগের থালায় দেখা যায় একেবারে আলাদা স্বাদ।

ভারতের ভৌগোলিক বৈচিত্রের সঙ্গে তাল মিলিয়ে বদলে যায় জন্মাষ্টমী পালনের রীতিও। কোথাও কৃষ্ণকে শিশুরূপে সাজিয়ে ঘরে স্বাগত জানানো হয়, কোথাও আবার মধ্যরাতের পুজোর পরে নিবেদন করা হয় বিশেষ মিষ্টি বা পিঠে। সেই বৈচিত্রের কয়েকটি পরিচিত পদ এক নজরে দেখে নেওয়া যাক।

মথুরা-বৃন্দাবনের প্যাঁড়া ও মেওয়া পাগ

কৃষ্ণের জন্মভূমি মথুরা ও বৃন্দাবনে জন্মাষ্টমীর ভোগে প্যাঁড়ার বিশেষ গুরুত্ব রয়েছে। খোয়া ক্ষীর, ঘি, চিনি ও এলাচ দিয়ে তৈরি এই মিষ্টি সাধারণত লালচে-বাদামি রঙের হয়। এর সঙ্গে থাকে নানা ধরনের মেওয়া দিয়ে তৈরি ‘মেওয়া পাগ’।

বৃন্দাবনের বিভিন্ন মন্দিরে জন্মাষ্টমীতে ছাপ্পান্ন ভোগ নিবেদনের রীতিও রয়েছে। সেই ভোগের অন্যতম বিশেষ পদ ‘ধনিয়া পঞ্জীরী’। ভাজা ধনেগুঁড়ো, ঘি, মেওয়া, বাদাম, কাজু, কিশমিশ, নারকেল ও চিনি বা গুড় দিয়ে তৈরি হয় এই প্রসাদ।

মহারাষ্ট্রের গোপালকালা

মহারাষ্ট্রে জন্মাষ্টমী পরিচিত ‘গোকুলাষ্টমী’ নামে। পরের দিন পালিত হয় বিখ্যাত দহী হন্ডী। কৃষ্ণের মাখন চুরির কাহিনি স্মরণ করে উঁচুতে ঝোলানো হাঁড়ি ভাঙার আয়োজন হয়।

এই উৎসবের সঙ্গে জড়িয়ে রয়েছে ‘গোপালকালা’। চিঁড়ে, মুড়ি, টকদই, মাখন, শসা, বেদানা, কাঁচালঙ্কা ও নারকেলকোরা মিশিয়ে তৈরি হয় পদটি। লোককথায় কৃষ্ণ ও তাঁর রাখালবন্ধুদের একসঙ্গে খাবার ভাগ করে খাওয়ার স্মৃতির সঙ্গে এই খাবারের যোগ রয়েছে।

বাংলার তালের বড়া ও ঝাল নাড়ু

বাংলার জন্মাষ্টমীর ভোগে তালের বড়ার উপস্থিতি প্রায় অবিচ্ছেদ্য। পাকা তালের রস, চালের গুঁড়ো, ময়দা, সুজি, নারকেল ও গুড় বা চিনি দিয়ে তৈরি করে তেলে বা ঘিয়ে ভেজে নেওয়া হয় এই পদ। লুচি, পায়েস, মালপোয়া, নারকেল নাড়ুও থাকে ভোগের থালায়।

শান্তিপুরের বড় গোস্বামীবাড়ির প্রায় ৩০০ বছরের পুরনো জন্মাষ্টমী উৎসবে আবার দেখা যায় অন্যরকম এক পদ— ‘ঝাল নাড়ু’। চালের গুঁড়ো, ঘি ও গোলমরিচ দিয়ে তৈরি এই নাড়ু মিষ্টির স্বাদের থেকে একেবারেই আলাদা।

গুজরাতের মোহনথাল ও ধনিয়া কুরীয়া

দ্বারকায় কৃষ্ণ ‘দ্বারকাধীশ’ রূপে পূজিত। তাই তাঁর ভোগেও রয়েছে রাজকীয় খাবারের ছোঁয়া। বেসন, ঘি, চিনি ও নানা ড্রাই ফ্রুটস দিয়ে তৈরি ‘মোহনথাল’ জন্মাষ্টমীর অন্যতম পরিচিত মিষ্টি।

এ ছাড়াও থাকে ‘ধনিয়া কুরীয়া’। ধনেগুঁড়ো, ঘি, চিনি বা মিছরি, কাজু-কিশমিশ, ড্রাই ফ্রুটস এবং সামান্য শুকনো আদা দিয়ে তৈরি হয় এই পদ। মেওয়া শীরা এবং শ্রীখণ্ডও থাকে ভোগের তালিকায়।

তামিলনাড়ুর বেল্লা সীডাই ও থট্টাই

দক্ষিণ ভারতে জন্মাষ্টমী ‘গোকুলাষ্টমী’ বা ‘শ্রীকৃষ্ণজয়ন্তী’ নামে পরিচিত। বাড়ির দরজা থেকে পুজোর জায়গা পর্যন্ত চালের গুঁড়ো দিয়ে ছোট ছোট পায়ের ছাপ আঁকার রীতি রয়েছে, যাকে বলা হয় ‘কন্নন পদম’। বিশ্বাস, কৃষ্ণ যেন সেই পায়ের ছাপ ধরে ঘরে প্রবেশ করেন।

ভোগে থাকে মিষ্টি ‘বেল্লা সীডাই’, যাতে চালের গুঁড়ো, ডালের গুঁড়ো, নারকেল, তিল, গুড় ও মাখন ব্যবহার করা হয়। নোনতা সংস্করণ ‘উপ্পু সীডাই’-তে থাকে নুন, তিল, হিং ও মাখন। এ ছাড়াও তৈরি হয় চ্যাপ্টা আকারের ‘থট্টাই’।

কেরলের পাল পায়সম ও উন্নিয়াপ্পম

কেরলে জন্মাষ্টমী পালিত হয় ‘অষ্টমী রোহিনী’ নামে। ভোগের অন্যতম আকর্ষণ পাল পায়সম। লাল চাল ও দুধ দীর্ঘ সময় ধরে ফুটিয়ে তৈরি করা হয় এই ঘন পায়েস।

চিঁড়ে, গুড়, নারকেল, কলা, ঘি ও এলাচ দিয়ে তৈরি ‘অবল ননছতু’ এবং চালের গুঁড়ো, কলা, গুড় ও নারকেল দিয়ে তৈরি ‘উন্নিয়াপ্পম’-ও জন্মাষ্টমীর বিশেষ খাবার।

ওড়িশার পোড়া পিঠে ও চূড়া কদম্ব

ওড়িশায় জন্মাষ্টমীর ভোগে ‘পোড়া পিঠে’-র আলাদা পরিচিতি রয়েছে। চাল ও বিউলির ডালের বাটা, নারকেল, গুড়, গোলমরিচ, এলাচ, লবঙ্গ ও আদা দিয়ে তৈরি মিশ্রণ কলাপাতায় মুড়ে ধীরে ধীরে পোড়ানো হয়।

আর একটি পরিচিত পদ ‘চূড়া কদম্ব’। গুঁড়ো চিঁড়ে, গুড়, নারকেল, কলা, এলাচ ও ঘি মিশিয়ে লাড্ডুর মতো তৈরি করা হয়। সঙ্গে থাকতে পারে ছানাপোড়া, মালপোয়া ও ক্ষীরি।

মণিপুরের চাক হাও পায়েস

মণিপুরে কৃষ্ণজন্ম শুধু ধর্মীয় উৎসব নয়, সংস্কৃতি ও ধ্রুপদী নৃত্যের সঙ্গেও গভীর ভাবে যুক্ত। সেখানকার ভোগের বিশেষ আকর্ষণ ‘চাক হাও পায়েস’।

বিশেষ সুগন্ধি কালো চাল দুধে দীর্ঘ সময় ধরে রান্না করে তৈরি করা হয় এই পায়েস। চিনি বা গুড়, কাজু, কিশমিশ ও এলাচ মেশানোর পরে এর রং হয় গাঢ় বেগনি। স্বাদ ও রঙের দিক থেকে তাই এটি দেশের প্রচলিত পায়েসের তুলনায় বেশ আলাদা।

জন্মাষ্টমীর ভোগের এই বৈচিত্র আসলে ভারতের সাংস্কৃতিক বৈচিত্রেরই প্রতিচ্ছবি। কোথাও মাখন, কোথাও পিঠে, কোথাও মিষ্টি— উপকরণ বদলালেও গোপালকে আপন করে নেওয়ার আবেগটি কিন্তু সর্বত্রই এক।

রাহার জন্মের পর দ্রুত ওজন কমিয়ে কটাক্ষের শিকার আলিয়া, কী ছিল তাঁর রহস্য?।

Follow us on Google News Get real-time updates & exclusive sports coverage
Follow

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *