জমি নিয়ে প্রতিবেশীর সঙ্গে বিবাদ
জমি নিয়ে দীর্ঘ দিনের বিবাদে নতুন করে উত্তেজনা উত্তর ২৪ পরগনার সন্দেশখালিতে। হিঙ্গলগঞ্জের বিজেপি বিধায়ক রেখা পাত্রের বাপের বাড়ির প্রতিবেশী এক কৃষক পরিবারের অভিযোগ, আদালতের নির্দেশ থাকা সত্ত্বেও তাঁদের চাষের জমি থেকে জোর করে সরিয়ে দেওয়া হয়েছে। ঘটনায় বিধায়কের বিরুদ্ধে ক্ষমতার প্রভাব খাটানোর অভিযোগও তুলেছেন তাঁরা। যদিও এই অভিযোগ নিয়ে এখনও প্রকাশ্যে কোনও মন্তব্য করেননি রেখা।
সন্দেশখালির বউঠাকুরণ এলাকায় রেখার বাপের বাড়ি। সেখানে প্রায় ৯ বিঘা জমি নিয়ে প্রতিবেশী সুভাষ নস্করের পরিবারের সঙ্গে দীর্ঘ দিন ধরে বিবাদ চলছে। জমির মালিকানা ও চাষাবাদকে কেন্দ্র করে দু’পক্ষই আদালতের দ্বারস্থ হয়েছিল বলে জানা গিয়েছে।
সুভাষদের দাবি, আদালতের নির্দেশ মেনেই তাঁরা ওই জমিতে চাষাবাদ করছিলেন। তাঁদের কাছে আদালতের নথিও রয়েছে বলে দাবি পরিবারের। অভিযোগ, সেই নির্দেশের পরেও মঙ্গলবার তাঁদের জমি থেকে সরিয়ে দেওয়া হয়।
স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, সুভাষদের চাষের জমিতে পুলিশ এবং নিরাপত্তারক্ষীদের সঙ্গে নিয়ে গিয়েছিলেন রেখা। সেখানে দু’পক্ষের মধ্যে প্রথমে বচসা এবং পরে হাতাহাতির পরিস্থিতি তৈরি হয়। বিধায়ককে উত্তেজিত অবস্থায় দেখে তাঁর নিরাপত্তারক্ষীরা তাঁকে সামলানোর চেষ্টা করেন। পরে খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে যায় সন্দেশখালি থানার পুলিশ।
ঘটনার একটি ভিডিয়ো ইতিমধ্যেই সমাজমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়েছে। ভিডিয়োটির সত্যতা স্বাধীন ভাবে যাচাই করা হয়নি। সেখানে বিধায়ক ও প্রতিবেশী পক্ষের মধ্যে তর্কাতর্কির দৃশ্য দেখা যাচ্ছে বলে দাবি করা হয়েছে।
সুভাষের পরিবারের সদস্য বরুণ নস্কর এবং সঞ্জয় নস্করদের অভিযোগ, পুলিশের উপস্থিতিতেই তাঁদের জমি থেকে বের করে দেওয়া হয়েছে। তাঁদের বক্তব্য, আদালতের নির্দেশ অনুযায়ী তাঁরা চাষ করতে গিয়েছিলেন। কিন্তু বিধায়ক এবং তাঁর সঙ্গীরা তাঁদের বাধা দেন।
পরিবারটির আরও অভিযোগ, পুলিশের কথাও সে সময় মানতে চাননি রেখা। তাঁদের দাবি, আদালতের নির্দেশকে সম্মান করে তাঁদের নিজেদের জমিতে চাষ করার সুযোগ দেওয়া হোক এবং ঘটনার নিরপেক্ষ তদন্ত করা হোক।
এই ঘটনায় বিজেপির অন্দরেও রাজনৈতিক চাপানউতোর শুরু হয়েছে বলে স্থানীয় সূত্রে খবর। তবে জমি নিয়ে চলা আইনি বিবাদ এবং মঙ্গলবারের ঘটনাকে ঘিরে বিধায়কের বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগের বিষয়ে রেখার বক্তব্য এখনও পাওয়া যায়নি।
ফলে এক দিকে আদালতের নির্দেশ মেনে চাষ করার দাবি প্রতিবেশী পরিবারের, অন্য দিকে বিধায়কের বিরুদ্ধে সেই নির্দেশ অমান্য করে জোর করে জমি দখলের অভিযোগ—দুই পক্ষের বক্তব্যের মধ্যেই এখন নজর রয়েছে পরবর্তী আইনি পদক্ষেপের দিকে।
রাহার জন্মের পর দ্রুত ওজন কমিয়ে কটাক্ষের শিকার আলিয়া, কী ছিল তাঁর রহস্য?।