৬১-তে বিয়ে করলেন জেফ বেজোস!
প্রেমে বয়স কোনও বাধা নয়—এই সত্যিটিকে আবারও প্রমাণ করে দিলেন বিশ্বের অন্যতম ধনকুবের জেফ বেজোস। ৬১ বছর বয়সে বিয়ে করলেন তাঁর দীর্ঘদিনের সঙ্গিনী, ৫৫ বছরের সাংবাদিক লরেন সানচেজ়কে। জীবনের শেষপ্রান্তে এসে এই বিয়ে কেবল এক রূপকথার মতো প্রেম কাহিনি নয়, বরং সমাজে বয়স্কদের সম্পর্ক নিয়ে প্রচলিত ধারণাকে চ্যালেঞ্জ ছুড়ে দেওয়ার সাহসী পদক্ষেপ।
বেজোস ও লরেন ২০২৩ সালে বাগদান সেরেছিলেন। তার ঠিক দুই বছর পর, ২০২৫ সালের ২৭ জুন, ইটালির ভেনিসে রাজকীয় আয়োজনে তাঁরা বিবাহবন্ধনে আবদ্ধ হন। তিন দিন ধরে চলা এই বিলাসবহুল উৎসবে বিশ্বের নজর ছিল তাঁদের দিকে।
তবে প্রশ্ন থেকেই যায়—এই বয়সে বিয়ে কতটা প্রাসঙ্গিক? অনেকেই মনে করেন, বিয়ের একটা নির্দিষ্ট বয়স রয়েছে। কিন্তু আধুনিক গবেষণা এবং মনস্তত্ত্ব বলছে ভিন্ন কথা। চিনের এক সমীক্ষায় দেখা গিয়েছে, খুব কম বয়সে বিয়ে করলে বিচ্ছেদের ঝুঁকি থাকে অনেকটাই বেশি। তরুণ বয়সে সম্পর্ক গড়ার ক্ষেত্রে অভিজ্ঞতার অভাব, আর্থিক অনিশ্চয়তা ও আত্মপরিচয়ের সংকট অনেক সময় সম্পর্কে টানাপড়েন ডেকে আনে। পক্ষান্তরে পরিণত বয়সে মানুষ নিজের চাহিদা ও সীমাবদ্ধতা সম্পর্কে অনেক বেশি সচেতন থাকেন, ফলে সম্পর্ক হয় স্থিতিশীল ও সংবেদনশীল।
ভারতের প্রেক্ষাপটে, এই বয়সে বিয়ে এখনও অনেকের চোখে ‘অসময়ে’ নেওয়া সিদ্ধান্ত। যেমন পশ্চিমবঙ্গের রাজনীতিবিদ দিলীপ ঘোষ যখন ৬০ বছর বয়সে বিবাহ বন্ধনে আবদ্ধ হন, তখন তাঁকে নিয়েও অনেক কটাক্ষ ছুটে এসেছিল। অথচ বিশেষজ্ঞেরা বলছেন, ৫০ বা ৬০-এর পরে বিয়ে করা মানে শুধুই নতুন সঙ্গী পাওয়া নয়—এ এক ধরণের মানসিক চিকিৎসাও। একাকিত্ব ও অবসাদ বার্ধক্যের অন্যতম সমস্যা, যার ফলেই অনেক সময় শারীরিক অসুস্থতা বাড়ে। এই বয়সে কেউ পাশে থাকলে জীবনের মান বাড়ে, কমে মানসিক চাপ ও অসহায়তা।
ক্লিনিক্যাল সাইকোলজিস্ট অনিন্দিতা মুখোপাধ্যায় জানিয়েছেন, বার্ধক্যে কেউ যখন একজন সঙ্গীকে পান, তখন তাঁরা একে অপরের অনুভূতির প্রতি অনেক বেশি সংবেদনশীল হন। বিয়ের মতো সম্পর্কে তখন থাকে না ছোটখাটো ঝগড়া বা ইগোর লড়াই, বরং থাকে বোঝাপড়া আর একসঙ্গে পথ চলার এক গভীর বন্ধন।
‘ন্যাশনাল জিয়োগ্রাফিক’-এর এক প্রতিবেদন অনুযায়ী, বয়স বাড়লেও মানসিক ও আর্থিক স্বচ্ছলতার কারণে বয়স্ক দম্পতিরা সম্পর্ককে টিকিয়ে রাখতে অনেক বেশি দক্ষ হন। তাঁরা জানেন কোন পরিস্থিতিতে কীভাবে মনের ভার লাঘব করতে হয় এবং পরস্পরকে সঙ্গ দেওয়া যায়।
তবে, বয়সের পরিণতিতে যেমন সুবিধা আছে, তেমন কিছু বাস্তব সমস্যা থেকেও যায়—যেমন পেনশন, সম্পত্তি ভাগাভাগি, স্বাস্থ্যসেবা, পারিবারিক অশান্তি ইত্যাদি। তাই পরিণত বয়সে বিয়ে মানে শুধু আবেগ নয়, বরং একটি সচেতন সিদ্ধান্ত যেখানে জীবনসঙ্গীর সঙ্গে সবকিছু নিয়ে খোলাখুলি আলোচনা করাই ভবিষ্যতের মূল ভিত।
উইম্বলডনে হ্যাটট্রিকের লক্ষ্যে আলকারাজ়, জোকোভিচের প্রতিপক্ষ মুলার, তাপপ্রবাহে চিন্তায় আয়োজকরা