চেতলায় গয়না ও প্রাচীন মুদ্রা চুরি, ১ কোটি টাকার মালামাল উদ্ধার, ধৃত ১১

চেতলায় গয়না ও প্রাচীন মুদ্রা চুরি কলকাতার চেতলা থানা এলাকায় ঘটে গেল এক চাঞ্চল্যকর চুরি। রাজা সন্তোষ রায় রোডে ঘটে যাওয়া এই চুরির ঘটনায় প্রায় ১ কোটি টাকার মূল্যবান গয়না…

January 1, 2025
1 min read

চেতলায় গয়না ও প্রাচীন মুদ্রা চুরি

কলকাতার চেতলা থানা এলাকায় ঘটে গেল এক চাঞ্চল্যকর চুরি। রাজা সন্তোষ রায় রোডে ঘটে যাওয়া এই চুরির ঘটনায় প্রায় ১ কোটি টাকার মূল্যবান গয়না ও প্রাচীন মুদ্রা চুরি হয়ে যায়। ঘটনাটি জানাজানি হওয়ার পর চেতলা থানার পুলিশ তৎক্ষণাৎ তদন্ত শুরু করে এবং মোট ১১ জনকে গ্রেফতার করেছে। পুলিশের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, উদ্ধার হয়েছে বেশিরভাগ গয়না ও মুদ্রা।

বাড়ির পরিচারকদের বিরুদ্ধে অভিযোগ

অমিত সিংহ নামের এক ব্যক্তি অভিযোগ করেন, ৭ ডিসেম্বর রাত ১টা থেকে ২৪ ডিসেম্বর সন্ধ্যা ৮টার মধ্যে তাঁর বাড়ি থেকে গয়না চুরি হয়েছে। এ ঘটনায় তিনটি পরিচারক-পরিচারিকার নাম উঠে আসে। অভিযুক্তরা হলেন সমর নস্কর, ঝুমা দাস এবং সুপ্রিয়া পুরকাইত। তাঁরা ওই বহুতল আবাসনে বাড়ির কাজে— ঘর পরিষ্কার করা, শিশুদের দেখাশোনা ও রান্নার কাজ করতেন।

এই চুরির বিষয়ে বিস্তারিত জানিয়ে ২৭ ডিসেম্বর অমিত সিংহ চেতলা থানায় একটি অভিযোগ দায়ের করেন। তাঁর অভিযোগ ছিল যে, পরিচারকরা ওই সময়ের মধ্যে বাড়িতে ঢুকে তাঁর মূল্যবান গয়না, হিরে, সোনা, রুপো এবং কিছু প্রাচীন মুদ্রা চুরি করে নিয়ে যান।

তদন্তের অগ্রগতি

পুলিশ তদন্ত শুরু করার পর, ৩০ ডিসেম্বর চেতলা থানার পুলিশ সরস্বতী রায় নামে এক পরিচারিকাকে গ্রেফতার করে। তাঁকে জিজ্ঞাসাবাদ করতে গিয়ে বেরিয়ে আসে ঝুমা দাসের নাম। এরপর, ৩০ ডিসেম্বর ঝুমার বাড়িতে তল্লাশি চালিয়ে পুলিশের হাতে উঠে আসে চুরি হওয়া গয়না ও প্রাচীন মুদ্রার বেশিরভাগ।

পুলিশের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, ৩০ ডিসেম্বরের আগে গ্রেফতার হওয়া অভিযুক্তদের ৬ জানুয়ারি পর্যন্ত পুলিশি হেফাজতে রাখা হবে। তদন্তের পর, মেটিয়াবুরুজ, গিরীশ পার্ক এবং দক্ষিণ ২৪ পরগনার আলিপুর এলাকায় তল্লাশি চালিয়ে আরও প্রায় ৭ জনকে গ্রেফতার করা হয়েছে। তাঁদের আদালতে পেশ করা হবে।

উদ্ধার হওয়া মালামাল

চুরির ঘটনায় পুলিশ জানিয়েছে যে, চুরির তালিকায় বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ জিনিস ছিল। এর মধ্যে ছিল হিরের একটি ব্রেসলেট, একটি জোড়া দুল, একটি আংটি এবং সোনা-রুপোসহ বেশ কিছু প্রাচীন মুদ্রা ও পাত্র। পুলিশের তৎপরতায় বেশিরভাগ মালামালই উদ্ধার করা সম্ভব হয়েছে।

চুরি ও সুরক্ষা নিয়ে প্রশ্ন

এই ঘটনার পর, এলাকায় সাধারণ মানুষ ও ব্যবসায়ীদের মধ্যে সুরক্ষা নিয়ে নানা প্রশ্ন উঠেছে। বিশেষ করে বাড়ির পরিচারকদের উপর এত বড় আক্রমণ হওয়ায় অনেকেই উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন। তাঁরা প্রশ্ন তুলেছেন, নিরাপত্তা ব্যবস্থায় কোথাও কি কোনো গলদ রয়েছে, যা এই ধরনের অপরাধের সুযোগ সৃষ্টি করছে?

পুলিশের মতে, এই চুরি একটি পরিকল্পিত কাজ ছিল এবং পুলিশ যথাসময়ে অভিযান চালিয়ে অনেকাংশে চুরির মালামাল উদ্ধার করতে সক্ষম হয়েছে। তবে, তদন্ত আরও জোরদার করা হচ্ছে, যাতে অপরাধীদের পুরো নেটওয়ার্ক উন্মোচিত করা যায়।

উপসংহার

চেতলা থানার এই চুরি কাণ্ড থেকে এটা স্পষ্ট যে, কখনও কখনও সবচেয়ে কাছের পরিচিত মানুষেরাই অপরাধে যুক্ত থাকতে পারে। এই ঘটনায় পুলিশকে কৃতিত্ব দিতে হবে যে, তারা তৎপরতার সঙ্গে তদন্ত চালিয়ে বেশিরভাগ মালামাল উদ্ধার করতে সক্ষম হয়েছে। তবে, এই ঘটনা ভবিষ্যতে বাড়ির নিরাপত্তা ব্যবস্থায় আরও সতর্কতা অবলম্বনের প্রয়োজনীয়তা এবং গুরুত্বপূর্ণ শিক্ষা দেয়।

Follow us on Google News Get real-time updates & exclusive sports coverage
Follow

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *