চেক আছে, কিন্তু দেহ নেই: আনন্দপুর অগ্নিকাণ্ডের ২৪ দিন পরও অনিশ্চয়তায় ২৭ পরিবার

আনন্দপুর অগ্নিকাণ্ডের ২৪ দিন পরও অনিশ্চয়তায় ২৭ পরিবার! আর্থিক সাহায্যের চেক হাতে এসে পৌঁছেছে। কিন্তু যাঁদের জন্য সেই ক্ষতিপূরণ— তাঁদের দেহের একটি অংশও এখনও পায়নি পরিবার। সময় পেরিয়েছে ২৪ দিন।…

February 19, 2026
1 min read

আনন্দপুর অগ্নিকাণ্ডের ২৪ দিন পরও অনিশ্চয়তায় ২৭ পরিবার!

আর্থিক সাহায্যের চেক হাতে এসে পৌঁছেছে। কিন্তু যাঁদের জন্য সেই ক্ষতিপূরণ— তাঁদের দেহের একটি অংশও এখনও পায়নি পরিবার। সময় পেরিয়েছে ২৪ দিন। তবুও শোকের সঙ্গে মিশে আছে অনিশ্চয়তা, অপেক্ষা আর একরাশ প্রশ্ন।

গত ২৫ জানুয়ারি রাতে আনন্দপুর-এর নাজিরাবাদ এলাকায় পরপর দু’টি গুদামে ভয়াবহ আগুন লাগে। রাতের ডিউটিতে থাকা বহু কর্মী ও নিরাপত্তারক্ষী ভিতরে আটকে পড়েন। কেউ প্রাণ বাঁচাতে দেওয়াল ভাঙার চেষ্টা করেছিলেন, কেউ শেষ মুহূর্তে ফোন করেছিলেন বাড়িতে। দীর্ঘ লড়াইয়ের পর আগুন নিয়ন্ত্রণে এলেও ভস্মীভূত গুদাম থেকে উদ্ধার হয় ছিন্নভিন্ন দেহাংশ— যার পরিচয় এখনও নির্ধারণ করা যায়নি।

ক্ষতিপূরণ এসেছে, নিশ্চিত মৃত্যু নয়

রাজ্য সরকার মৃতদের পরিবারকে ১০ লক্ষ টাকা করে সাহায্যের ঘোষণা করেছিল। ইতিমধ্যেই ২৭টি পরিবারের হাতে সেই চেক পৌঁছে গেছে। কিন্তু সমস্যা হল— কারও মৃত্যুর সরকারি নিশ্চয়তা এখনও নেই।

কারণ, উদ্ধার হওয়া দেহাংশগুলির পরিচয় নির্ধারণ সম্ভব হচ্ছে শুধু ডিএনএ পরীক্ষার মাধ্যমে। পুলিশের তরফে পরিবারের সদস্যদের নমুনা সংগ্রহ করা হয়েছে। কিন্তু রিপোর্ট আসতে সময় লাগছে। ফলে পরিবারগুলির সামনে এক অদ্ভুত পরিস্থিতি— প্রিয়জনের মৃত্যু নিশ্চিত নয়, অথচ ক্ষতিপূরণ এসে গেছে।

শোকের সঙ্গে বিভ্রান্তি

মেদিনীপুরের নিরঞ্জন মণ্ডল এই আগুনে হারিয়েছেন তাঁর ভাই ও ছেলেকে। চেক হাতে পেলেও তিনি এখনও তা স্পর্শ করেননি। তাঁর কথায়, “টাকা পেলাম ঠিকই, কিন্তু দেহ না পেলে শান্তি কোথায়? আগে অন্তত শেষকৃত্য করতে চাই।”

ঝাড়গ্রামের রবীশ হাঁসদার পরিবারেও একই অবস্থা। তিনি Wow! Momo-র গুদামের নিরাপত্তারক্ষী ছিলেন। তাঁর পরিবার এখনও অশৌচ পালন করছে। রান্না পর্যন্ত হচ্ছে না বাড়িতে— আত্মীয়দের বাড়ি থেকে খাবার আসছে প্রতিদিন।

আরও একটি পরিবার জানায়, তারা চেক পেয়েছে, কিন্তু কে দিয়েছে বা ভবিষ্যতে আরও কোনও সাহায্য মিলবে কি না— সে নিয়েও স্পষ্ট ধারণা নেই।

তদন্ত এখনও অসম্পূর্ণ

এই ঘটনায় তিন জনকে গ্রেফতার করা হয়েছে— গুদামের মালিক এবং সংশ্লিষ্ট কর্তারা। পুলিশ জানাচ্ছে, ডিএনএ রিপোর্ট না এলে মৃতের সংখ্যা বা পরিচয় নিশ্চিত করা সম্ভব নয়।

আরও বড় প্রশ্ন হল— নিখোঁজ ২৭ জনের বাইরেও কি কেউ গুদামে ছিলেন? কেউ কি আগুন থেকে পালাতে পেরেছিলেন? এই সব প্রশ্নের উত্তর মিলবে রিপোর্ট এলে।

অপেক্ষার দিন গুনছে পরিবার

ক্ষতিপূরণের চেক অনেক পরিবারের কাছে এখন যেন এক অদ্ভুত প্রতীক— আর্থিক সাহায্য হলেও তা যেন অসমাপ্ত শোকের স্মারক।

যত দিন না ডিএনএ রিপোর্ট আসছে, তত দিন তাদের দিন কাটছে ফোনের অপেক্ষায়, থানার খোঁজে আর অনিশ্চিত শোকের মধ্যে।

প্রোটিন শেক নয়, ‘ঘরোয়া খিচুড়ি’ই ভরসা: শরীরচর্চার পরে হৃতিক রোশন যা খান, জানলে চমক লাগবেই

Follow us on Google News Get real-time updates & exclusive sports coverage
Follow

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *