চিপ্স থেকে কেক
দোকানে গিয়ে এখন অনেকেই খোলা বাজারের বদলে ভরসা রাখছেন প্যাকেটজাত খাবারের উপর। চিপ্স, বিস্কুট, কুকিজ়, ব্রেকফাস্ট সিরিয়াল, ফলের রস কিংবা শিশুদের হেল্থ ড্রিঙ্ক— সবই সহজে মিলছে সুন্দর মোড়কে। কিন্তু সেই খাবার কতটা নিরাপদ? সাম্প্রতিক এক সমীক্ষা নতুন করে উদ্বেগ বাড়িয়েছে।
Indian Council of Medical Research এবং Food Safety and Standards Authority of India-এর দাবি, দেশে বিক্রি হওয়া ৮০ শতাংশেরও বেশি প্যাকেটজাত খাবারে কৃত্রিম রং, ফ্লেভার এবং নানা ধরনের রাসায়নিক মেশানো হচ্ছে। প্রায় ২৫টি ব্র্যান্ডের ২৩ হাজারেরও বেশি খাদ্যপণ্য পরীক্ষা করে এই তথ্য উঠে এসেছে।
সবচেয়ে উদ্বেগের বিষয়, শুধু জাঙ্ক ফুড নয়, ‘লো ফ্যাট’, ‘অর্গ্যানিক’ বা ‘ন্যাচারাল’ লেখা পণ্যের মধ্যেও মিলেছে ক্ষতিকর রাসায়নিকের উপস্থিতি। শিশুদের জন্য তৈরি কেক, লজেন্স, বিস্কুট বা রঙিন সিরিয়ালেও রয়েছে এমন উপাদান, যা দীর্ঘমেয়াদে শরীরের ক্ষতি করতে পারে।
বিশেষজ্ঞরা জানাচ্ছেন, প্যাকেটের গায়ে থাকা আইএনএস (INS) কোড দেখেই বোঝা যায় খাবারে কী ধরনের রাসায়নিক রয়েছে। অনেক সময়ে ‘E’ নম্বরও লেখা থাকে, যা ইউরোপীয় মান অনুযায়ী খাদ্য উপাদানের পরিচয় দেয়।
যেমন, INS 211 মানে সেই খাবারে রয়েছে সোডিয়াম বেঞ্জোয়েট। এটি দীর্ঘদিন বেশি মাত্রায় শরীরে গেলে স্থূলত্বের ঝুঁকি বাড়াতে পারে। শিশুদের ক্ষেত্রে এর প্রভাব আরও বেশি ক্ষতিকর হতে পারে।
সমীক্ষায় আরও জানা গিয়েছে, নানা ধরনের বিস্কুট ও কুকিজ়ে ব্যবহার করা হচ্ছে সস্তার পাম অয়েল এবং কৃত্রিম রং। এগুলি লিভারের ক্ষতি করতে পারে।
শিশুদের আকর্ষণ করতে রঙিন ব্রেকফাস্ট সিরিয়ালে মেশানো হচ্ছে টারট্রাজ়িন জাতীয় হলুদ রং, যা তৈরি হয় আলকাতরা থেকে। বিশেষজ্ঞদের মতে, এই ধরনের রং শিশুদের মধ্যে হাইপারঅ্যাকটিভিটি, অ্যালার্জি এবং চর্মরোগের ঝুঁকি বাড়াতে পারে। এমনকি বুদ্ধির বিকাশেও প্রভাব ফেলতে পারে।
কেক, পেস্ট্রি, চকোলেট বা ফ্রোজ়েন খাবারে ব্যবহার করা হচ্ছে ‘রেড ৩’ নামের কৃত্রিম লাল রং। এটি এরিথ্রোসিন নামের এক রাসায়নিক, যা ক্যানসারের আশঙ্কা বাড়াতে পারে বলে সতর্ক করেছেন গবেষকেরা।
এ ছাড়াও ক্যান্ডি, আইসক্রিম ও কেকের মতো খাবারে পাওয়া যায় ‘সানসেট ইয়েলো’ রং। অতিরিক্ত মাত্রায় এই রং শরীরে গেলে কিডনির ক্ষতি হতে পারে।
দুগ্ধজাত প্যাকেটজাত পানীয়ও খুব একটা নিরাপদ নয়। সমীক্ষা বলছে, প্রায় ৭৮ শতাংশ এমন পানীয়ে অতিরিক্ত চিনি ও কৃত্রিম সুগন্ধি মেশানো হচ্ছে, যা স্নায়ুর সমস্যার ঝুঁকি বাড়াতে পারে।
বিশেষজ্ঞদের পরামর্শ, খাবার কেনার আগে শুধু ব্র্যান্ড বা মোড়ক দেখে নয়, লেবেলে লেখা উপাদানও ভাল করে পড়ে নেওয়া জরুরি। বিশেষ করে শিশুদের জন্য খাবার বেছে নেওয়ার ক্ষেত্রে আরও সতর্ক থাকার পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে।
স্ট্রোকের পর কেমন আছেন রাহুল রায়? পরিবারের সঙ্গে সম্পর্ক নিয়ে গুজবে মুখ খুললেন অভিনেতা