চিউইং গাম-মাজনে থাকা জ়াইলিটল নিয়েই হার্ট ও স্ট্রোকের আশঙ্কা
চিনি কমাতে গিয়ে অনেকেই এখন বেছে নিচ্ছেন ‘সুগার-ফ্রি’ চিউইং গাম, লজেন্স কিংবা দাঁতের মাজন। দাঁত ও মাড়ির জন্যও এগুলিকে তুলনামূলক নিরাপদ মনে করা হয়। কিন্তু চিনির বিকল্প হিসেবে ব্যবহৃত একটি উপাদান নিয়ে নতুন করে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। নাম জ়াইলিটল। গবেষকদের দাবি, রক্তে এই রাসায়নিকের মাত্রা বেশি থাকলে রক্ত জমাট বাঁধার প্রবণতা বাড়তে পারে। ফলে হৃদ্রোগ ও স্ট্রোকের ঝুঁকিও বাড়ার আশঙ্কা রয়েছে।
জ়াইলিটল আসলে কী?
জ়াইলিটল হল এক ধরনের ‘সুগার অ্যালকোহল’। দেখতে ও স্বাদে অনেকটাই চিনির মতো হলেও এতে ক্যালোরি তুলনামূলক কম এবং সাধারণ চিনির মতো দ্রুত রক্তে শর্করার মাত্রা বাড়ায় না। সেই কারণেই বহু দিন ধরে চিনির বিকল্প হিসেবে এর ব্যবহার জনপ্রিয় হয়েছে।
বিশেষ করে ‘সুগার-ফ্রি’ চিউইং গাম ও লজেন্সে জ়াইলিটল ব্যবহার করা হয়। দাঁতের ক্ষয় এবং মুখের কিছু সমস্যার ঝুঁকি কমানোর জন্যও এর ব্যবহার নিয়ে দীর্ঘদিন ধরে ইতিবাচক ধারণা ছিল। কিছু দাঁতের মাজনেও এই উপাদান ব্যবহার করা হয়।
কিন্তু হার্টের ক্ষেত্রে কি উল্টো ছবি?
ইউরোপিয়ান সোসাইটি অফ কার্ডিয়োলজির সঙ্গে যুক্ত গবেষণায় জ়াইলিটল নিয়ে উদ্বেগের কথা সামনে এসেছে। গবেষকদের দাবি, রক্তে জ়াইলিটলের মাত্রা বেশি থাকা ব্যক্তিদের মধ্যে হৃদ্রোগ এবং স্ট্রোকের ঝুঁকি তুলনামূলক বেশি দেখা যেতে পারে।
দীর্ঘ সময় ধরে কয়েক হাজার প্রাপ্তবয়স্কের তথ্য পর্যবেক্ষণ করে গবেষকেরা জ়াইলিটলের সঙ্গে হৃদ্রোগের ঝুঁকির একটি সম্পর্কের ইঙ্গিত পেয়েছেন। তবে এই ধরনের গবেষণা থেকে সরাসরি প্রমাণ হয় না যে জ়াইলিটল খেলেই হার্ট অ্যাটাক বা স্ট্রোক হবে। জ়াইলিটলের প্রকৃত প্রভাব বোঝার জন্য আরও গবেষণা প্রয়োজন।
রক্ত জমাট বাঁধার সঙ্গে সম্পর্ক কোথায়?
গবেষকদের অন্যতম উদ্বেগ রক্ত জমাট বাঁধা বা থ্রম্বোসিস নিয়ে। তাঁদের বক্তব্য, রক্তে জ়াইলিটলের মাত্রা বেশি থাকলে প্লেটলেটের কার্যকলাপে পরিবর্তন ঘটতে পারে এবং রক্ত জমাট বাঁধার প্রবণতা বাড়তে পারে।
রক্তনালির ভিতরে অস্বাভাবিক ভাবে জমাট বাঁধা রক্ত যদি হৃদ্যন্ত্রের রক্তপ্রবাহে বাধা তৈরি করে, তা হলে হার্ট অ্যাটাকের মতো গুরুতর সমস্যা হতে পারে। একই ভাবে মস্তিষ্কে রক্তপ্রবাহ বাধাগ্রস্ত হলে স্ট্রোকের ঝুঁকি তৈরি হয়।
তা হলে কি চিউইং গাম বা মাজন বন্ধ করতে হবে?
এমন সিদ্ধান্তে এখনই পৌঁছনোর কারণ নেই। জ়াইলিটলযুক্ত কোনও একটি চিউইং গাম বা মাজন ব্যবহার করলেই হৃদ্রোগ হবে—গবেষণা এমন কথা বলছে না। বরং অতিরিক্ত পরিমাণে জ়াইলিটল শরীরে ঢোকার সম্ভাবনা এবং দীর্ঘমেয়াদি প্রভাব নিয়েই মূল উদ্বেগ।
তাই ‘সুগার-ফ্রি’ লেখা দেখেই কোনও পণ্যকে সম্পূর্ণ ঝুঁকিমুক্ত মনে না করাই ভাল। প্যাকেটের উপাদান তালিকা দেখে জ়াইলিটল রয়েছে কি না, তা খেয়াল করা যেতে পারে। বিশেষ করে যাঁদের আগে থেকেই হৃদ্রোগ বা রক্ত জমাট বাঁধার সমস্যা রয়েছে, তাঁরা নিয়মিত ব্যবহারের আগে চিকিৎসকের পরামর্শ নিতে পারেন।
চিনি কমানো অবশ্যই ভাল অভ্যাস হতে পারে, কিন্তু তার বিকল্প কী ব্যবহার করছেন, সেটিও সমান গুরুত্বপূর্ণ। স্বাস্থ্যকর বলে পরিচিত কোনও উপাদানকেও মাত্রাতিরিক্ত ব্যবহার করা ঠিক নয়।
রাহার জন্মের পর দ্রুত ওজন কমিয়ে কটাক্ষের শিকার আলিয়া, কী ছিল তাঁর রহস্য?।