চল্লিশের পরে পুরুষের শরীরে নীরব বদল!
চল্লিশ পেরোলেই মহিলাদের শরীরের পরিবর্তন নিয়ে অনেক আলোচনা হয়— হরমোনের ওঠানামা, মেজাজের বদল, শারীরিক সমস্যা। কিন্তু একই বয়সে পুরুষদের শরীরেও যে বড় ধরনের পরিবর্তন শুরু হয়, তা নিয়ে সচেতনতা এখনও তুলনামূলক কম। অনেকেই ক্লান্তি, খিটখিটে মেজাজ বা যৌন আগ্রহ কমে যাওয়াকে শুধু কাজের চাপ বা বয়সের স্বাভাবিক ফল বলে ধরে নেন। অথচ এর পেছনে থাকে গভীর জৈবিক কারণ।
কেন ঘটে এই পরিবর্তন?
চিকিৎসকদের মতে, ৪০-এর পরে অনেক পুরুষের শরীরে ধীরে ধীরে টেস্টোস্টেরন হরমোন কমতে শুরু করে। এই অবস্থাকে বলা হয় অ্যান্ড্রোপজ়— যাকে অনেকেই “পুরুষের মেনোপজ়” বলেও চেনেন। এটি হঠাৎ নয়, বরং দীর্ঘ সময় ধরে চলা একটি স্বাভাবিক শারীরবৃত্তীয় প্রক্রিয়া।
বয়স বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে প্রতি বছর প্রায় ১ শতাংশ করে টেস্টোস্টেরনের মাত্রা কমে। এর প্রভাব শুধু শরীরেই নয়, মানসিক অবস্থাতেও পড়ে।
কী কী লক্ষণ দেখা দিতে পারে?
৪০-এর পর পুরুষদের মধ্যে যেসব পরিবর্তন সাধারণত দেখা যায়—
- অল্প কাজেই ক্লান্ত হয়ে পড়া
- পেশিশক্তি কমে যাওয়া
- ভুঁড়ি ও শরীরে মেদ জমা
- যৌন ইচ্ছা ও ক্ষমতা হ্রাস
- মেজাজের ওঠানামা
- অবসাদ বা আত্মবিশ্বাস কমে যাওয়া
- মনোযোগ কমে যাওয়া বা “ব্রেন ফগ”
অনেক সময় এই লক্ষণগুলোকে গুরুত্ব না দেওয়ায় সমস্যা আরও বাড়ে।
স্বাস্থ্যঝুঁকি কেন বাড়ে?
হরমোন কমে গেলে শরীরে মেদ জমার প্রবণতা বাড়ে। এর ফলে ইনসুলিন ঠিকমতো কাজ করতে পারে না, যা টাইপ-২ ডায়াবিটিসের ঝুঁকি বাড়ায়। পাশাপাশি, উচ্চ রক্তচাপ, কোলেস্টেরল বৃদ্ধি, ফ্যাটি লিভার ও হৃদ্রোগের সম্ভাবনাও বেড়ে যায়।
হাড় দুর্বল হয়ে যাওয়ার কারণে অস্টিওপোরোসিসের ঝুঁকিও তৈরি হতে পারে।
কারা বেশি ঝুঁকিতে?
যাঁদের ডায়াবিটিস, স্থূলতা, উচ্চ রক্তচাপ বা কিডনি-লিভারের সমস্যা রয়েছে, তাঁদের মধ্যে এই পরিবর্তন দ্রুত দেখা দিতে পারে। এছাড়া ধূমপান, অতিরিক্ত মদ্যপান, মানসিক চাপ ও শারীরিক নিষ্ক্রিয়তাও ঝুঁকি বাড়ায়।
কীভাবে সচেতন থাকবেন?
চিকিৎসকদের পরামর্শ— ৪০-এর পরে বছরে অন্তত একবার নিয়মিত স্বাস্থ্য পরীক্ষা জরুরি। প্রয়োজন হলে হরমোন পরীক্ষাও করা যেতে পারে।
দৈনন্দিন জীবনে কিছু সহজ অভ্যাস বদলেই অনেক সমস্যা কমানো সম্ভব—
- সুষম ও পুষ্টিকর খাবার খাওয়া
- নিয়মিত হাঁটা বা শরীরচর্চা
- পর্যাপ্ত ঘুম ও বিশ্রাম
- ধূমপান ও মদ্যপান কমানো
- মানসিক চাপ কমাতে যোগ বা প্রণায়াম
সচেতনতা কেন সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ?
অনেক পুরুষই শরীরের এই বদলগুলো নিয়ে খোলাখুলি কথা বলতে চান না। ফলে যৌন ক্ষমতা কমে যাওয়া বা মানসিক সমস্যার কারণে হীনম্মন্যতায় ভোগেন। আবার শারীরিক লক্ষণগুলিকে অবহেলা করার ফলে গুরুতর রোগের ঝুঁকি বাড়ে।
তাই চল্লিশের পরে শরীরের এই স্বাভাবিক পরিবর্তনকে লজ্জা বা ভয় নয়, বরং সচেতনতা ও যত্নের সঙ্গে গ্রহণ করাই সুস্থ জীবনের চাবিকাঠি।
প্রোটিন শেক নয়, ‘ঘরোয়া খিচুড়ি’ই ভরসা: শরীরচর্চার পরে হৃতিক রোশন যা খান, জানলে চমক লাগবেই