ঘরের ভিতরে জমা জলেই মৃত্যু পাঁচ মাসের শিশুর!
উত্তর দমদমের দেবীনগরে শনিবার সকালে ঘটে গেল এক হৃদয়বিদারক ঘটনা। ঘরের ভিতরে জমে থাকা বৃষ্টির জলে পড়ে গিয়ে প্রাণ হারাল মাত্র পাঁচ মাসের এক শিশু। খাটে ঘুমিয়ে থাকা অবস্থায় শিশুটি আচমকাই নিচে পড়ে যায় এবং সেই জমা জলের মধ্যেই ডুবে যায়। পরিবারের সদস্যরা যখন বুঝতে পারেন, তখন অনেকটাই দেরি হয়ে গিয়েছে।
মৃত শিশুটির নাম ঋষিকা ঘোড়ই। বাবা পাপন ঘোড়ইয়ের ঘরে সে-ই ছিল একমাত্র সন্তান। জানা গিয়েছে, সকালবেলা মা ঋষিকাকে খাটে শুইয়ে রান্নাঘরে কাজ করছিলেন। বাইরে তখনো থেমে থেমে বৃষ্টি হচ্ছিল। এর আগের দিনের টানা বৃষ্টিতে ঘরের মধ্যে জল ঢুকে পড়েছিল। সেই জমা জলেই ঘটে যায় মর্মান্তিক ঘটনা।
শিশুটিকে সঙ্গে সঙ্গে উত্তর দমদম পুর হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়। সেখান থেকে ফুলবাগানের শিশু হাসপাতালে স্থানান্তরিত করা হলে চিকিৎসকেরা তাঁকে মৃত ঘোষণা করেন। দেহ পাঠানো হয়েছে ময়নাতদন্তের জন্য।
এই দুর্ঘটনার পর গোটা দেবীনগর এলাকায় শোকের ছায়া। সঙ্গে তৈরি হয়েছে তীব্র ক্ষোভও। স্থানীয়রা বলছেন, এই ঘটনা শুধু এক দুর্ঘটনা নয়—এ এক বারবারের অবহেলার পরিণতি। প্রতি বছর বর্ষা এলেই ঘরবাড়ি জলমগ্ন হয়। বৃষ্টির জল নামার ব্যবস্থা নেই, ড্রেনেজ ব্যবস্থা বেহাল। বার বার অভিযোগ জানিয়েও স্থায়ী কোনো সমাধান হয়নি বলেই দাবি স্থানীয়দের।
ঘটনার পর পুরসভার পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, জল নামাতে পাম্প বসানো হয়েছে, পাশাপাশি নিকাশি নালা সংস্কারের কাজও চলছে। পুর প্রতিনিধিদের মতে, ছ’টি প্রকল্পের কাজ শেষ হলে এই সমস্যার অনেকটা সমাধান হবে। তবে বৃষ্টির সময় কাজ বন্ধ রাখতে হচ্ছে, তাই বিলম্ব হচ্ছে।
স্থানীয়দের একাংশ অবশ্য এই আশ্বাসে ভরসা রাখতে পারছেন না। তাঁদের মতে, শুধু খাল সংস্কার করলেই হবে না। খালের নাব্যতা বাড়াতে হবে, নিয়মিত পলি সরাতে হবে, জলাশয়গুলিকেও সংস্কার করতে হবে। পাশাপাশি দরকার উন্নত ও আধুনিক ভূগর্ভস্থ নিকাশি ব্যবস্থা, যাতে একবার বৃষ্টি হলেই রাস্তাঘাট ও ঘরবাড়ি জলের তলায় না চলে যায়।
উত্তর দমদম পুরসভার দাবি অনুযায়ী, প্রায় ১৯টি ওয়ার্ডে জল জমার সমস্যা রয়েছে। কিছু এলাকায় কাজ শুরু হওয়ায় পরিস্থিতির উন্নতি হয়েছে, কিন্তু দেবীনগর-সহ বহু নিচু এলাকায় সমস্যা এখনও প্রকট।
এক শিশুর মৃত্যু হয়তো সংখ্যার হিসাবে সামান্য, কিন্তু এই ঘটনা চোখে আঙুল দিয়ে দেখিয়ে দিল, অব্যবস্থার ফল কতটা ভয়ঙ্কর হতে পারে। পরিবার হারিয়েছে তাদের সবচেয়ে মূল্যবান ধনকে। আর এলাকার মানুষ আবারও ফিরে গেলেন সেই পুরনো প্রশ্নে—এই শহরে, এই ঘরে কি সত্যিই বাঁচা যায় বর্ষায়?
১০ জনের মোহনবাগান মহমেডানকে হারিয়ে ডুরান্ডে জয়লাভ, নায়ক লিস্টন কোলাসো